logo

হবিগঞ্জে বীজতলা তৈরী নিয়ে শংকায় লক্ষাধিক কৃষক


হবিগঞ্জে বীজতলা তৈরী নিয়ে শংকায় লক্ষাধিক কৃষক

 

বৈশাখে সোনালী ফসল ঘরে তোলার আগেই চৈত্রের বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় পাকা ও আধা পাকা ধান । সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের পাহাড়ি ঢলে জমিতে পানি ওঠে। যার ফলে প্রতিবছর কৃষকরা যে মৌসুমে বোরো ধানের চারা রোপন করতেন, এবার সেই সময় বীজতলা রক্ষা করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

 

জমি থেকে দেরিতে বর্ষার পানি নামায় এবার বোরো বীজতলা তৈরিতেও দেরি হয়েছে। এরইমধ্যে গত কয়েকদিনের টানা রিমঝিম বৃষ্টি যেন ছিল মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় আগামী বোরো চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন লক্ষাধিক কৃষকেরা। তবে আশার কথা হলো, জেলায় যে সব বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে সে সব জমিতে বাঁধ নির্মাণ করে পানি সেচের মাধ্যমে সারিয়ে কৃষকরা বীজতলা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। হবিগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন দুই লাখ ৮০ হাজার কৃষক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা বানিয়াচং উপজেলায়।

 

 

এ উপজেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে অকাল বন্যায় শতকরা ৯০ ভাগ জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে এবার নতুন করে বোরো চাষাবাদে কাজ করছে। এর মধ্যে অনেক কৃষকই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে সম্প্রতি তিন দিনের বৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের কৃষক কাশেম মিয়া জানান, ‘গত গ্রীষ্ম ও বার্ষায় বন্যায় সব তলিয়ে যাওয়ার পরও নতুন আশা নিয়ে বীজতলা প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু অগ্রহায়ণ মাসে অকাল বৃষ্টি সেই স্বপ্ন ধ্বংস করে দিলো। এখন আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চাষাবাদ করাটা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। একই গ্রামের কৃষক মোস্তফা মিয়া জানান, ‘আমার জীবনে অগ্রহায়ণ মাসে এভাবে বৃষ্টি হতে দেখিনি। বীজতলার পাশাপাশি আমন ধান এরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে প্রায় সব বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখনও পানি জমে আছে। জমিতে বাঁধ নির্মাণ করে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি শুকিয়ে বীজতলা রক্ষার চেষ্টা করছি। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, ‘আগের বন্যায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে বীজতলা তৈরি করে বোরো চাষাবাদ করার চেষ্টা করছি।

 

তবে অতিবৃষ্টি কিছুটা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। হবিগঞ্জ কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার ৪০ হাজার কৃষকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫ কেজি বীজ, ৩০ কেজি সার ও নগদ ১ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। 
 

মন্তব্য

উপর