logo

সাতক্ষীরায় শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে


সাতক্ষীরায় শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে

সাতক্ষীরায় গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগ-বালাই বেড়েছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় কোল্ড ডায়রিয়া,শ্বাসকষ্ঠ, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বৃদ্ধরা। এর ফলে রুগীদের ভীড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, শীতের কনকনে ঠান্ডায় জন জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।


দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় দেশের উত্তরাঞ্চলের সাথে পাল্টা দিয়ে বাড়ছে শীত। শীতের তীব্রতায় প্রতিদিন শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে। তাদেরকে ভর্তি করা হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।


প্রচন্ড শীতে গত কয়েক দিনে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে আটজনের। এছাড়া ঠান্ডাজনিত রোগাক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে কমপক্ষে ২৮৯ জন শিশু। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর পরই শহরে মানুষ চলাচল কমে যাচ্ছে। দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাঁট-বাজারের দোকানপাট। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শুরু হচ্ছে ঘণ কুয়াশা। ভোর বেলা ঘণ কুয়াশায় ঢাকা থাকছে শহরের রাস্তাঘাট। দুপুরে হালকা রৌদ বের হলেও তার উত্তাপ খুব কম থাকে। হঠাৎ প্রচ- শীতে শ্রমজীবি মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়ে গেছে। কনকনে শীতে তারা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দশদিনে সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত রোগাক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪১ শিশু। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৩জন। একইভাবে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৩৫ শিশু।


সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা: মো: সামছুর রহমান জানান, ঠান্ডা জনিত কারণে শিশুদের কোল্ড ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় বেশি আকান্ত হচ্ছে। কখনও ঠান্ডা বেশি আবার কখনও গরম হওয়ার কারনে এমনটি হচ্ছে। প্রতিদিন সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া রুগী ১০ থেকে ১৫ জন ভর্তি হচ্ছে। ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রুগী ভর্তি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ জন ও আউটডোরে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগি আসছে।


সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রচ- শীত পড়ায় অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত দশদিনে এই হার বেড়েছে। সচেতন না হলে অর্থাৎ শিশুদের ঠান্ডা থেকে দূরে রাখতে না পারলে তা ভোগান্তির কারণ হতে পারে।


এদিকে, সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, সাতক্ষীরায় জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ৮ জানুয়ারি ৭.৫ ডিগ্রি ৯ জানুয়ারি ৫.৬ ডিগ্রি ও ১০ জানুয়ারি ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাড়ায়।

মন্তব্য

উপর