logo

২০১৮-তে ক্যারিয়ারে সফল হতে নিজের মধ্যে ৬টি পরিবর্তন আনুন


২০১৮-তে ক্যারিয়ারে সফল হতে নিজের মধ্যে ৬টি পরিবর্তন আনুন

বহুল প্রতীক্ষীত নতুন বছর অবশেষে চলেই এসেছে। আপনি হয়তো নতুন বছরে প্রতিদিন শরীরচর্চা করা, আরেকটি বছর শেষ হওয়ার আগেই ২০টি বই পড়া, পোশাক-আশাক বেশি জাহির না করা বা সঙ্গীতের কোনো একটি বাদ্যযন্ত্র শেখার বিষয়ে চিন্তা করেছেন। কিন্তু আপনি কি নিজের পেশাগত জীবন নিয়ে কিছু ভেবেছেন? আপনি যদি এখনো ২০১৮ সালে কীভাবে কর্পোরেট সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে আরো উপরে ওঠা যায় তার উপায়গুলো বুঝে উঠতে না পেরে থাকেন তাহলে আপনার জন্য এখানে রইল ৬টি টিপস।

নিজের মধ্যে এই ৬টি পরিবর্তন আনলেই আপনি নতুন বছরে আপনার ক্যারিয়ারে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করতে পারবেন। আপনার প্রতিদিনের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কর্মস্থলে স্ট্রেস বা মানসিক চাপ সামলানোর পাশাপাশি এই অভ্যাসগুলোও আপনাকে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য অর্জনে সহায়তা করবে। আর এই অভ্যাসগুলো খুবই সহজ এবং আপনার অজান্তেই আপনাকে ভালো ফল দিতে শুরু করবে।

১. গড়িমসি করা বন্ধ করুন
আমাদের প্রায় সকলেই কর্মস্থলে গড়িমসি করি। একটা সময়ে গিয়ে এই অভ্যাস আমাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। সুতরাং কোনো কাজ তা যত একঘেয়ে হোক না কেন গড়িমসি না করে বরং ডেডলাইন নির্ধারণ করে সম্পন্ন করে ফেলুন। আর নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন কোনো গড়িমসি করে আপনি শুধু নিজের কাজের বোঝা-ই বাড়িয়ে চলেছেন। প্রতিদিন সকালে একটি কাজের তালিকা তৈরি করাকে একটি অভ্যাসে পরিণত করুন। এবং তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি বোরিং কাজও রাখুন। অথবা আপনার কাজগুলোকে ছোট ছোট খণ্ডে ভেঙ্গে ফেলুন এবং সহজে অর্জনযোগ্য পদক্ষেপে সম্পন্ন করুন।

২. নিজেকে আরো সুসংগঠিত করে নিন
সব কাজ একসঙ্গে না করে বরং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু কাজ সম্পন্ন করুন। এরপর অন্যগুলি করুন। একদিন আগে থেকেই পরেরদিনের কাজের পরিকল্পনা করে রাখার চেষ্টা করুন। যাতে অফিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে কী করতে হবে তা আপনার জানা থাকে। আপনার সব গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন, মিটিং এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ মার্ক করে রাখতে আপনার ইমেইল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করুন।

৩. নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন
নিজেকে আপনার কমফোর্ট জোন বা আরাম কেদারা থেকে বের করুন। নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিন যা থেকে আপনি অনেক কিছু শেখারও সুযোগ পাবেন। এর মধ্য দিয়ে আপনি নিজের দুর্বল দিকগুলো বুঝতে পারবেন এবং নিজের বর্তমান দক্ষতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। আর যা করছেন তাতে নিজের সেরাটা ঢেলে দিন। দেখবেন শিগগিরই আপনি নিজেই নিজের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠছেন।

৪. ফিডব্যাক নিন
গঠনমূলক ফিডব্যাক কাউকেই আঘাত করবে না। আপনার সহকর্মীদেরকে আপনার কাজের পর্যালোচনা করতে বলুন এবং তাদের ফিডব্যাক আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে বলুন। এর মধ্য দিয়ে আপনি নিজের শেখার গতি বাড়াতে এবং জ্ঞানভাণ্ডার বাড়াতে পারবেন। এছাড়া আপনি আপনার ম্যানেজারের প্রত্যাশার মাত্রাও ছুঁতে পারবেন এবং দলের একজন ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন।

৫. সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন
আপনি বিষয়টি নাও উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইলে পপআপ করে আপনার মনোযোগ নষ্ট করছে। সুতরাং অফিসে পৌঁছেই সব নোটিফিকেশন অ্যাপ বন্ধ করে রাখুন এবং দিনের বেলায় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো চেক করা সীমিত করে দিন। অফিসে এসব চেক না করে বরং বাড়িতে চেক করুন।

৬. কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করুন
উচ্চকাঙ্খী হওয়া এবং পেশাগত সাফল্যের জন্য লালায়িত হওয়াটা ভালো। কিন্তু আপানার হাতে এখন কী আছে সেটিকে মূল্যায়ন করতে ভুলবেন না যেন। এরপর যখন আর কখনো পেশা নিয়ে হায়-হুতাশ করবেন তখন যারা বেকার হয়ে ঘরে বসে আছেন যা খরচ কমানোর কারণে চাকরি হারিয়ে বসে আছেন তাদের কথা ভাবুন। আপনি অবশ্যই আরো লাখ লাখ মানুষের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন। সুতরাং প্রতিদিনই নিজের বর্তমান অবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করুন।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

মন্তব্য

উপর