logo

পিস্তল হাতে কে এই নিয়াজুল?


পিস্তল হাতে কে এই নিয়াজুল?

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলার চাষাড়ায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর শামীম ওসমানের কর্মী-সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় মেয়র আইভীসহ উভয় গ্রুপের প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

 


এই সংঘর্ষের সময় নিয়াজুল ইসলাম খান নামে একজনকে পিস্তল হাতে গুলি চালাতে দেখা গেছে। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় এই দৃশ্য ধরাও পড়েছে। মেয়র আইভী দাবি করেছেন, হামলাকারী নিয়াজুল নগর যুবলীগের নেতা ও শামীম ওসমানের সমর্থক। তবে শামীম ওসমান দাবি করেছেন, নিয়াজ বিশাল মার্কেটের মালিক, তিনি নিশ্চয়ই পিস্তল হাতে রাস্তায় নামবেন না।


গণমাধ্যমকে শামীম ওসমান বলেন, নিয়াজুল আমার পরিচিত। তিনি বিশাল বড় মার্কেটের মালিক। সে সুইটের ভাই যাকে বিএনপির সময় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। এটা কি তার দোষ? বিশাল কোনো মার্কেটের মালিক নিশ্চয় পিস্তল হাতে রাস্তায় নামবে না!


শামীম ওসমান আরো বলেন, নিয়াজুল যুবলীগের নেতা। তার হাতে পিস্তল দেখা গেলেও পরীক্ষা করা হোক এই পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছে কিনা।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে মেয়র আইভী পায়ে হেঁটে সায়েম প্লাজার সামনে এলে শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকাররা তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় নিয়াজুল ইসলাম মেয়র আইভী ও তার লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আইভীকে রক্ষা করেন। পরে লোকজন নিয়াজুলকে ধরে গণপিটুনিও দেয়।


গণপিটুনির শিকার নিয়াজুল
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা নিয়াজুল ইসলাম খান যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি এলাকায় শামীম ওসমানের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি এলজিইডির ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে এরশাদের সময় নাসিম ওসমান সংসদ সদস্য হলে নিয়াজুলের উত্থান হয়। ১৯৮৮ সালে সংঘটিত জোড়া খুনের (কামাল ও কালাম) মামলার আসামি ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নিয়াজুল অস্ত্রের লাইসেন্স পান। নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে চলতেন তিনি।
নগরের চাঁদমারীতে সেনাবাহিনীর জায়গার বস্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন নিয়াজুল ইসলাম। এক-এগারোর সময় সেনাবাহিনী ওই বস্তি উচ্ছেদ করে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা, ভূমিদস্যুতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আছে নিয়াজুলের নাম।


নিয়াজুল ইসলামের ভাই যুবলীগের ক্যাডার নজরুল ইসলাম ওরফে সুইট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন। ওই সরকারের আমলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত যুবদলের নেতা মমিন উল্লা ওরফে ডেভিড নিয়াজুল ইসলামের আত্মীয়।

 


সংশ্লিষ্টরা জানান, শামীম ওসমানের উত্থানের সময়কার চার প্রধান ক্যাডার ছিলেন লাল, সারোয়ার, মাকসুদ ও নিয়াজুল। এর মধ্য প্রথম দুজন অসুস্থ হয় মারা গেছেন। মাকসুদের লাশ পাওয়া গেছে ঢাকায়। জীবিত আছেন কেবল এই অস্ত্রধারী নিয়াজুল।


পিস্তল হাতে আইভী সমর্থকদের দিকে এগুচ্ছেন নিযাজুল
এদিকে বিকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, শামীম ওসমানের নির্দেশে তার ক্যাডাররা আমার ওপর এবং নিরীহ নগরবাসীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমিসহ নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আমি নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে চাষাঢ়া আসছিলাম প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সম্পর্কে হকারদের সঙ্গে কথা বলতে। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য নির্দেশ ও হকারদের বসানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার বিষয়ে কথা বলতে। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশে তার সমর্থকরা কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জেলার ডিসি ও এসপির নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবি জানাই।

 

ঘটনার সময় চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে হ্যান্ড মাইকে শামীম ওসমান বলেন, কেউ কেউ চাচ্ছে গণ্ডগোল করে পরিস্থিতি অশান্ত করতে। এটা কোনো রাজনৈতিক সংগ্রাম না। হকাররা চেয়েছে ফুটপাতে বসতে। যারা নিরীহ হকারদের রক্ত ঝড়িয়েছে তাদের বিচার আল্লাহ করবে। নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করতে দেওয়া হবে না।


ঘটনার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুইপক্ষ মুখোমুখি ছিল। দুপুর থেকে আমরা বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করেছিলাম। দুই পক্ষের উচ্ছৃঙ্খল কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ দু’পক্ষকে নিবৃত্ত করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, দু’পক্ষকে শান্ত রাখতে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগান ও টিয়ারশেলের গুলি নিক্ষেপ করেছি। তবে আমরা সেগুলোর হিসাব করিনি।


মেয়রের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কী অভিযোগ করেছেন তা আমরা জানি না। তবে আমরা পরবর্তীতে খোঁজ খবর নেব।

মন্তব্য

উপর