logo
শিরোনাম

যশোরের শতবর্ষী গাছ কাটা যাবে না: হাইকোর্ট


যশোরের শতবর্ষী গাছ কাটা যাবে না: হাইকোর্ট

যশোর-বেনাপোল সড়ক প্রশস্ত করতে শতবর্ষী দুই হাজারের বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে আদালত। এর ফলে ওই সব গাছ কাটা যাবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রিট আবেদনটি করেন।

 

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এজন্য সড়ক বিভাগ ইতোমধ্যে দরপত্রও আহ্বান করেছে। গত ৬ জানুয়ারি যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বিশেষ সভায় সড়কের দুই ধারের গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সড়ক চওড়া করতে যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ২ হাজার ৩০০ গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

সভায় গাছ কাটার ব্যাপারে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ দ্বিমত করেননি। রাস্তা নির্মাণের পর দুই ধারে নতুন করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়।

কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা করছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, গাছ না কেটেও সড়ক চওড়া করা সম্ভব।

 

তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গাছ রেখে সড়ক চওড়া করতে হলে সড়কের পাশে বিপুল পুরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বন্দর এলাকায় জমির দাম বেশি বলে সড়ক নির্মাণের খরচ ‘অবিশ্বাস্য রকম’বেড়ে যাবে। আবার এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাড়িঘর ও বাজারও ভাঙতে হবে।

 

শতবর্ষী এসব গাছ কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

 

স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মো. মহিবুল্লাহর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিসটি পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

 

নোটিশে সাত দিনের মধ্যে সড়ক ও জনপথ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনার ডিসি ও যশোরের পুলিশ সুপারকে জবাব দিতে বলা হয়।

মন্তব্য

উপর