এই মাত্র পাওয়া

সর্ব শেষ সংবাদ

দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে আরেকটি সরকারি ব্যাংক বিডিবিএল

বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক প্রজন্ম ডটকম

প্রকাশিত: রাত ০৮:৪৭, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | আপডেট: বিকাল ০৩:০৭, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার
দুর্নীতিতে ডুবতে বসেছে আরেকটি সরকারি ব্যাংক বিডিবিএল

থেমে নেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হরিলুট। সরকারি খাতের সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। যথেচ্ছা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সরকারি এ ব্যাংকটি অল্প সময়ের মধ্যে ডুবতে বসেছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে সার্বিক কার্যক্রম। 

নানা কয়দায় লুট করা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে খেলাপি ঋণের সংখ্যা। এছাড়াও বিভিন্নভাবে আইনের মারপেঁচে ঋণদাতাদের সুবিধা দেয়া হচ্ছে। দিন দিন ঋণের বোঝায় ডুবতে বসা ব্যাংকের একটি হচ্ছে বিডিবিএল।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তাছাড়া ব্যাংকটিতে এমন আজগুবি ঘটনা ঘটে যা ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীও অবগত নন। এমন অনিয়মের ঘটনাই ঘটেছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল)।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই ৯০ লাখ ৪৭ হাজার টাকার সুদ মওকুফ করেছে ব্যাংকটি। এছাড়া কোম্পানির ঋণ হিসাব অবলোপন করা হয়েছে। এ অবস্থায় অনুমোদন ছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোম্পানির ঋণ হিসাব অবসায়ন করা আইনসম্মত হয়নি বলে মনে করছে পরিচালনা পর্ষদ।



এ ব্যাপারে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর আহমেদ আমার বার্তাকে বলেন, এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে, পরে এটি পরিচালনা পর্ষদে পাঠানো হয়, এবং ১৫ শতাংশ জরিমানা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ১৬৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ব্যাপারে জানতে চাইলে মনজুর আহমেদ বলেন, এ ব্যাপারে তিনি অবগত নন। ঊর্মি নিটওয়্যার লিমিটেডকে ২০০৬ সালে ১৮ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত কোম্পানিটি ঋণ পরিশোধে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের শেষে তৃতীয়বারের মতো পুনঃতফসিলের করা হয় ঋণটি। সে সময় সুদসহ ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২১ কোটি টাকা।



পুনঃতফসিলকৃত ঋণের ছয়টির বেশি কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ বকেয়া থাকার পরও ঋণ হিসাবটি ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকরণ করেনি বিডিবিএল। বরং ঋণটি গুণগত মানের ভিত্তিতে নিম্নমান শ্রেণিকরণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ২৭ (ক) ৩ ধারা লঙ্ঘন করে খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে আর্থিক সুবিধা প্রদান করেছে বিডিবিএল। এদিকে এক্সপ্রেস কোস্টাল সার্ভিসেসের ৯০ লাখ ৪৭ হাজার মওকুফের ব্যাপারে ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৯৫তম সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ সালে এক্সপ্রেস কোস্টাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে উপকূলীয় মালবাহী দুটি নৌযান তৈরির জন্য ৫০ লাখ টাকার ঋণ মঞ্জুর করে। ১৯৮০-৮২ সালে ওই ঋণ বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটি এ পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় সুদ মওকুফ সুবিধায় কোম্পানির দায়-দেনা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ে দেনা পরিশোধ করতে পারেনি।



তবে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিলম্বকালীন সুদসহ সমুদয় পরিশোধ করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দায়দেনা অবসায়নের জন্য নিরীক্ষা ছাড়ের জন্য অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিভাগ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ঘটনাত্তোর অনুমোদনের শর্তে ঋণ হিসাব অবসায়নের প্রাক-নিরীক্ষা ছাড় প্রদান করে। পরবর্তীতে এ বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে পরিচালনা পর্ষদ মনে করে, যেহেতু কোম্পানি বিলম্বকালীন সুদসহ সমুদয় পরিশোধ করেছে এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঋণ অবসায়ন করেছে, সেজন্য ঋণ হিসাবের ঘটনাত্তোর অনুমোদন করা হয়। তবে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কোম্পানির ঋণ হিসাব অবসায়ন করা আইনসম্মত হয়নি বলে মনে করে পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, কোম্পানিটি বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। আর সুদ মওকুফের পরিমাণ ৯০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু অন্যায় সুবিধা দেয়া হয়েছে, তাই ধরে নেয়া যায়, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। তৃতীয় কোনো পক্ষ লাভবান না হলে এভাবে ঋণের সুদ মওকুফের সুবিধা দেয়ার কথা নয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ঋণগ্রহীতার কেইসের যথার্থতার ভিত্তিতে ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ আরোপিত ও অনারোপিত সুদ মওকুফ করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই সুদ মওকুফ আইনের ব্যত্যয়।

ব্যাংক বিমা এর আরও খবর