logo
শিরোনাম

লোকসান নিয়েই চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্ভোধন


লোকসান নিয়েই চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্ভোধন

ঠাকুরগাঁওয়ের এক মাত্র ভাড়ি শিল্প সুগার মিল। দীর্ঘ দিনেও লাভের মুখ না দেখলেও আবারো শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্ভোধন করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, আমরা আগের চেয়ে অনেক আংশেই লোকসান কাটিয়ে উঠেছি। মিলটি আধুনিকায়ন করা হলেই আর লোকসান গুনতে হবে না। 

শুক্রবার বিকালে এ আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্ভোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। 

 

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস শাহীর সভাপতিত্বে এসময় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ঠাকুরগাঁও ৩ আসনের সাংসদ ইয়াসিন আলী, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কোরাইশী, ৩০১ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ সেলিনা জাহান লিটা, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের প্রধান বিপণন প্রকৌশলী এস এম আব্দুর রশিদ, উপজলো আ:লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো,সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন প্রমূখ।

সুগারমিলের সুত্র মতে, ৬০ তম বছরে পা রেখে ঠাকুরগাঁও সুগামিল আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্ভোধন করা হবে। চলতি মৌসুমে ১লাখ ৩ হাজার ২২৪ মেঃ টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হয়েছে। আর এ থেকে ৭ হাজার ৪৮৩ মেঃ টন চিনি উৎপাদনের কথা রয়েছে। আর অবিক্রীত অবস্থায় পরে আছে ৩ হাজার ৫শ মেঃ টন চিনি। চলতি মৌসুমে মিল চলবে ৭৭ দিন। 

ঠাকুরগাঁও চিনিকলের যন্ত্রপাতি পুরাতন হওয়ায় চিনি উৎপাদনে বার বার ব্যাহত হয়। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয় না। অন্য দিকে সুগারমিলের প্রতি কেজি চিনির দাম ৫৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হলেও বে-সরকারিভাবে উৎপাদিত চিনি পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি দরে। ফলে প্রতি বছরেই মিলের উৎপাদিত চিনির দাম বেশি হওয়ায় অবিক্রিত হয়ে গুডামে পরে থাকে। এ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও সুগারমিল কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না। 

 

ঠাকুরগাঁও আখ চাষির সভাপতি ইউনুস আলী জানান, বর্তমানে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ চাষিদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করছেন। যদি মিল চালু হওয়ার পর বন্ধ না থাকে তাহলে অন্যান্ন বারের মতো আখ সরবরাহ করতে বেগ পেতে হবে না। তবে মিল টিকে টিকিয়ে রাখতে অবশ্যই বে-সরকারিভাবে উৎপাদিত চিনি বাজারের বিক্রির নীতিমালা প্রনোয়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে মিলের চিনির দর ও বে-সরকারিভাবে উৎপাদিত চিনির দরে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে লোকসান গুনছে মিল কর্তৃপক্ষ। 

 

ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী শ্যামল কুমার, ও জয়নাল আলী জানান, মিলের চিনি পাইকারি কিনতে হচ্ছে ৫৮ টাকায়। আর বে-সরকারিভাবে উৎপাদিত চিনি কিনতে হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি দরে ফলে সুগার মিলের চিনি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। ফলে সুগার মিলের চিনি গুডামে পরে থাকছে।   

 

এ বিষয়ে মিল ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল শাহী জানান, আমরা ঠাকুরগাঁও সুগার মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে নেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চলতি মৌসুমে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি তা অর্জন করতে  সক্ষম হবো।  তবে মিলটি আধুনিকায়নের জন্য চেষ্টা চলছে। সেটি হলেই আমরা সুগার বিটের মাধ্যমে চিনি উৎপাদন করে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো। এ ছাড়া সরকার মিলের চিনি বিক্রির ক্ষেত্রে যদি পদক্ষেপ গ্রহন করেন তাহলে গুডামে চিনি পরে থাকবে না। ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলকে আধুনিকায়ন করতে দিত্বীয় বারের মতো ৫ কোটি ১১ লক্ষ টাকার রি-টেন্ডারের কথা রয়েছে।   
 
এ অঞ্চলের মানুষের দাবি বর্তমান সরকার এ মিলটির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে মিলটিকে আরো গতিশীল করতে আধুনিকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

 


মো:নাহিদ রেজা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
০১৭৮৫৪৭৩৩৫৩
তারিখ; ১৫.১২.২০১৭

মন্তব্য

উপর