logo
Left-side-ad-projonmo.com
right float
app download

এক্স বউয়ের প্রশংসা পত্র


এক্স বউয়ের প্রশংসা পত্র

"আরিফ সাহেবের বিয়ের দু মাস পরই ডির্ভোস হয়েছিলো, লোকজন অনেক রকম কুৎসা রটিয়েছে। উনি নাকি বউ কে শারিরীক মানসিক অত্যাচার করতেন।
এর ফলে আরিফ সাহেবের দ্বিতীয় বিবাহের জন্যে পাত্রী পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ালো। পাত্রীপক্ষ দেখতে আসলে পাড়ার লোকের কাছে আগের বিয়ের কাহিনী শুনে আর কন্যা দান করতে চায় না।  আরিফ সাহেব নিশ্চুপ থাকে, কি জন্যে আগের ডিভোর্স হয়েছিলো তা কাউ কে বলেও না।


আরিফ বন্ধু মিস্টার মন্ডল মূল ঘটনার পুরোটা না জানলেও কিছুটা জানতো। বিয়ের দিন আরিফের  মুখে উনি হাসি দেখেছিলেন, তারপর থেকে তিন মাস উনি আরিফ ও তার স্ত্রীর মুখে কোন হাসি দেখেন নি। কিন্তু ডির্ভোসের দিন আবার দুজনের মুখে হাসি দেখা গিয়েছিলো। এর ভিতরে কোন রহস্য আছে, হয়তো আছে কোন মহৎ ঘটনা যেটা আরিফ বলতে চায় না, নিজের মহত্ত্ব কে প্রকাশ করতে চায় না।কিন্তু মিস্টার মন্ডল বিষয়টা নিয়ে ভাবে।

 

আরিফের নানীর শখ, নাতির বাচ্চার মুখ দেখে পরকালের যাত্রা করবেন কিন্তু আরিফের ডির্ভোসে তার আশায় গুড়ে বালি হওয়ার সম্ভবনা। কিন্তু আরিফের মা নিজ মায়ের শেষ ইচ্ছে অপূর্ণ রাখতে অনিচ্ছুক। তাই আরিফ কে  যেভাবেই হোক দু তিন মাসের মধ্যে বিয়ে দিতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। 
কিন্তু পাড়া প্রতিবেশীদের গোয়েন্দাগিরি তে আরিফের আর ঘর বাঁধা হয় না।


ঘটক পাখি ভাই একটা প্রোপোজাল নিয়ে এসেছেন। এবারের বিয়ের প্রস্তাব টা একটু আজব। মেয়ে বাড়ির লোকজন বিয়ে দিতে প্রস্তুত তবে শর্ত হচ্ছে আগের বউয়ের কাছে থেকে একটা প্রশংসা পত্র নিয়ে আসতে হবে। প্রমাণ করতে হবে যে আরিফ অত্যাচার করেনি।

 

এ কেমন বিপদ?  আগের জনের কাছে আবার বেহায়ার মত যাওয়া কেমন লাগে!!
কিন্তু বিয়ে করতে হলে যেতেই হবে। আরিফ তার মন্ডল বন্ধু কে নিয়ে আগের শ্বশুড়বাড়ি তে গিয়ে পূর্বের বউয়ের ঠিকানা নিলেন।


ঠিকানায় পৌঁছে দেখে বিশাল এক বাড়ি, গেটে দাড়োয়ান দাড়িয়ে। আরিফ সাহেব মনে মনে ভাবতেছেন এই স্বর্গপুরী তে আসতেই আমাকে ছেড়ে এসেছে। 
আরিফ তার নিতু (x wife)  আছে কিনা জানতে চাইলো দারোয়ানের কাছে। 


দাড়োয়ান জানতে চাইলেন - আপনারা কারা?
আরিফ সাহেব  বললেন - নিতুর আগের স্বামী


দাড়োয়ান কথাশুনে উল্টে পড়ার মত অবস্থা, হেসে উঠে বললেন - আপার বিয়ে ত এখানেই প্রথম হয়েছে। ফাজলামি করার জায়গা এটা না, দূরে গিয়ে মরুন। 
মন্ডল সাহেব বুঝতে পারলেন নিতুর আগের বিয়ের কথা কেউ জানে না। 


মন্ডলসাহেব এগিয়ে গিয়ে বললেন - আরে ভাই রাগ করেন কেন, ফাইলামি করেছে। আমরা কাজিন, অনেকদিন পর বিদেশ থেকে এসেছি।
দারোয়ান বিদেশের কথা শুনে একটু সম্মানের সংগে দেখতে লাগলো।


আরিফ সাহেব ভিতরে গিয়ে দেখে সেই নিতুন, যাকে সে বছর খানেক আগে ডির্ভোস দিয়েছিলো। কিন্তু এখানে সে হাসিখুশি আছে, দেখে ভালোলাগলো আরিফের।
আরিফ কে দেখে নিতু অবাক, বসতে বলবে না কি করবে  সে হুশ তার মাথায় নেই। থ হয়ে দাড়িয়ে আছেন।


মন্ডল সাহেব নিতু কে আরিফের বিষয় টা খুলে বললো। নিতু মনে মনে ভাবতেছে আমার জন্যে লোকটার এতবড় ক্ষতি হয়েছে,সে দুঃখটা মনে প্রকাশ করলেও মুখে প্রকাশ করতে পারলো না।
তারপর বললো - আমি কি করতে পারি?


- একটা প্রশংসা পত্র দিতে হবে,সেটা দেখিয়ে বিয়ে করবো।
-যদি ফোন করে দেই তবে কি হবে?
- হতে পারে,


নিতু ফোন দিলো নতুন কন্যার নাম্বারে,পাশের ঘরে ঢুকে কি গল্প করলো তা আরিফ, মন্ডল কেউ জানতে পারলো না।কিন্তু গল্প শেষে বললো - বিয়ের আয়োজন করেন।

মন্ডল নিতু কে খুব রিকুয়েস্ট করে বললো - আপনি বিয়ে তে অবশ্যই আসবেন।


নিতু কথা দিলো সে বিয়ে তে আসবে।

বিয়ের দিন, 
কাজ চলছে, আরিফ আজও খুশি। বিয়ের কনেও খুশি। বাড়ি তে অনেক লোকজন। সে সব প্রতিবেশী গোয়েন্দাগিরি করে ছিলো তারাও আজ আরিফের সুনাম করতেছে। মন্ডল সাহেবের মাথা গরম হচ্ছে এসব প্রতিবেশীদের দেখে কিন্তু বিয়ের দিন কিছু বলতে নেই।

 

একটু পর আসলো একটা গাড়ি। নিতু ও তার স্বামী গাড়ি থেকে নামলো। সবায় অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। x বরের বিয়ে তে x বউ বেড়াতে এসেছে, লোকজন আজ প্রথম দেখলো।
নিতু তার আগের সব পরিচিত কে সালাম করলো। তারপর বললো বিয়ে পড়ার আগে কিছু কথা বলতে চাই আরিফ কে নিয়ে।
লোকজন ভাবলো যে এই বিয়েও হয়তো ভেঙ্গে যাবে, কিন্তু আরিফকে  দেখে   মনে হলো না  যে  সে টেনশন করতেছে।


নিতু বললো -

আমি আরিফের বউ হয়ে আসার আগে অমিত কে ভালোবাসতাম কিন্তু বাবার হার্ট এ্যাটাকের কারণে আরিফ কে বিয়ে করতে বাধ্য হই। বাসর রাতে আরিফ কে সব কথা খুলে বলি, আরিফ সিনেমার নায়কের মত ত্যাগ স্বীকার করে। আমাকে ছুঁয়েও দেখেনি। দু টা মানুষ কে কষ্ট দিচ্ছি ভেবে আমার খারাপ লাগতো আবার বাবার কথা ভেবে থাকতেও হতো আরিফের সঙ্গে। কিন্তু আরিফ আমাকে সমর্থন করেছে , সুযোগ মত সে আমাকে ডির্ভোস দিয়ে আমার প্রেম কে সফল করতে সাহায্য করেছে।


সে আমার এই ছেলেখেলার স্বীকার হয়ে অনেক অপমান সহ্য করেছে, তার কাছে ক্ষমতা চাচ্ছি।
আমি তার প্রশংসাপত্র দিলে হয়তো বিষয়টা কেউ জানতো না  মহৎ মানুষটাকে কেউ চিনতো না। তাই এসেছি তার মহত্ত্বের কথা বলতে। 


সব লোক আরিফের দিকে তাকিয়ে আছে, নতুন বউ তার স্বামীর পুরুষত্বে মুগ্ধ। আরিফ মাথা নিচু করে আছে, ঠিক যেমন বৃক্ষ ফলের ভারে নুয়ে পড়ে। 
মন্ডল সাহেবের সন্দেহ ঠিক হলো, তিন কবুলে বিয়ে সম্পন্ন হলো।
শুরু হলো সুখের সংসার। "

মন্তব্য

উপর