logo
শিরোনাম

শশ্মান দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী, উদ্ধারে হিন্দু-মুসলিম জনতা


শশ্মান দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী, উদ্ধারে হিন্দু-মুসলিম জনতা

সারি সারি বাঁশগুলো দেখে মনে হবে নিভিড় পরিচর্জার তৈরী করা কোন একটি বাঁশ বাগান। তবে মূলত এটি কোন বাঁশ বাগান নয়। একটি হিন্দু সম্প্রদায়ের শশ্মানের জায়গা এটি। হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার দ্বিগম্বর বাজারে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে হাজী মাদাম ও রাজসুরত গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের এই শ্মশানটি দখল করে নিয়েছেন প্রভাবশালী মুহিত মিয়া।


স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম বাসিন্ধাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জমিদারী শাসনকালে স্থানীয় হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য আলাদাভাবে একটি শ্মশান ও একটি করবস্থান নির্মাণ করেন ওই এলাকার জমিদার নলীনি মোহন কর। পরবর্তীতে হাজী মাদাম ও রাজসুরত গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের শশ্মানঘাটের পাশ দিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়। এ সময় ১৭ শতক শশ্মানের মধ্যে দুই শতক জায়গা মহাসড়কের আওতাভুক্ত পড়ে। এক পর্যায়ে ওই শশ্মানের পাশে দ্বিগম্বর বাজার গড়ে উঠলে ওই শশ্মানের জায়গায় একটি টং দোকান নির্মাণ করে দখল করতে শুরু করেন মুহিত মিয়া। পরে সেখানে তিনি একটি বড় আধাপাঁকা ঘর নির্মাণ করে আরও বেশ কিছু জায়গা দখলে নেন। বর্তমানে তিনি সম্পুর্ণ শশ্মানটি দখলের পাঁয়তারা করলে নড়েচড়ে বসেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকবার কয়েকটি সভা করে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জনতা।


তবে জেলা ও উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ময় মোরব্বিদের নিয়ে শশ্মান পূনরুদ্ধারে মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে তারা বেশ কয়েকবার মত বিনিময় সভাও করেছেন। সভায় কাগজপত্র জাচাই বাচাই শেষে বিস্তারিত আলোচনা করে শ্মশান পুনরুদ্ধারে স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জনতাসহ জনপ্রতিনিধিরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।


এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্ধা মো. ইমরান মিয়া জানান, আমরা ছোব কাল থেকে দেখে আসছি এটি শশ্মানের জায়গা। হিন্দুরা এখেনা দাহ্ করত। এখন মুহিত মিয়া দখল করে নিয়েছে।
শতবর্ষি বৃদ্ধ মো. আতর আলী জানান, এই জায়গা হিন্দুদের শশ্মানের জায়গা ছিল। কাগজপত্রেও শশ্মান উল্লেখ্য আছে। কাগজ দেখলেই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।


এ ব্যাপারে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরাজ চন্দ্র দাস জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের শশ্মান দখল করে দেয়া খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেছি। তারা আমাদের শশ্মান উদ্ধারে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।


বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন- বাহুবলে কোন ধরণের জোর বর দখল চলবে না। কাগজপত্র যাচাই বাচাই করে জায়গাটি শশ্মানের প্রমাণিত হলে দখলকারি যতই ক্ষমতাশীল হোক দখলমুক্ত করা হবেই। এতে সন্ধেহের কিছু নেই।


দখলকারি মুহিত মিয়া জানান, যদি জায়গাটি শশ্মানের হয় তাহলে আমি ছেড়ে দেব। এতে এত আলোচনা-সমালোচনার কি আছে। সার্ভেয়ার এনে মাপ-যোগ করলেইতো হয়।

মন্তব্য

উপর