এই মাত্র পাওয়া

সর্ব শেষ সংবাদ

কুলিয়ারচরে শিকলে বাঁধা প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণঃ ধর্ষক এখন চার দেওয়ালে বন্দী

কিশোরগঞ্জ থেকে ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি, মোঃ মাইন উদ্দিন, দৈনিক প্রজন্ম ডটকম

প্রকাশিত: দুপুর ০১:৩১, ১৪ অক্টোবর ২০১৭, শনিবার | আপডেট: বিকাল ০৩:০৭, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার
কুলিয়ারচরে শিকলে বাঁধা প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণঃ ধর্ষক এখন চার দেওয়ালে বন্দী

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শিকলে বাঁধা এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ধর্ষক এখন চার দেওয়ালে ঘেড়া জেল হাজতে বন্দী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিকলে বাঁধা প্রতিবন্ধী শিশুটির বয়স মাত্র ১২ বছর। 


যে বয়সে শিশুটির ছোট্ট পায়ে নূপুর পরে সারা গাঁ ঘুরে বেড়ানোর কথা, কিন্তু সেখানে ভাগ্যের নির্মমতায় এ মেয়েটির পায়ে বাঁধা পড়েছে এখন শক্ত লোহার শিকল।
আর শিকলে বাঁধা বাকপ্রতিবন্ধী এ শিশুটির এভাবেই বন্দিদশায় পার হচ্ছে প্রথম জীবন শৈশব।


শিশুটির পড়নে নেই দামি পোষক, চুলগুলো এলোমেলো, নিয়মিত গোসল না থাকার ফলে অন্যন্য শিশুদের মত ব্যবহার করতে পারেনি কোন সুগন্ধী জাতিয় প্রসাদনী।
সব মিলিয়ে নিশ্চয় তাঁর শরীরে আছে র্দুগন্ধ।  কিন্তু এরপরেও এই শিশুটি বাঁচতে পারেনি পাশবিক নির্যাতন থেকে।


শিকলে বাঁধা অবস্থাতেই এক বখাটের লালসার শিকার হতে হয়েছে তাকে।


আর এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সুতী ইউনিয়নের উত্তর মাটিকাটা গ্রামে।


এব্যাপারে এলাকাবাসী ও শিশুটির পরিবার দৈনিক প্রজন্ম ডটক‘র সাংবাদিককে জানান, নানান প্রতিবন্ধিতার কারণে শিশুটিকে কয়েক বছর যাবৎ শিকলে বন্দী করে রেখেছে তার পরিবার।
শিকলবন্দী অবস্থাতেই শিশুটিকে ঘরের ভিতর একা পেয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে একই গ্রামের নাঈম মিয়া (২০) নামের এক বখাটে নরপিসাশ  ধর্ষণ করে।
পরে ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির বড় ভাই বাদী হয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করেন।


এর পর পুলিশ ধর্ষক নাঈম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠালে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়।
ধর্ষক নাঈম মিয়া উত্তর মাটিকাটা গ্রামের আলী আকবরের ছেলে বলে জানা যায়।


শিশুর পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষক নাঈম মিয়া গ্রেপ্তার হলেও এখনও স্বস্তি পাচ্ছে না তাঁরা।
ধর্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার বাদী


ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নিতে দেয়া হচ্ছে নানা রকম হুমকি।


তাছাড়াও মামলা নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় লোকজন ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে সমাধান দিতে উঠেপড়ে লেগেছে বলেও জানিয়েছেন শিশুর পরিবারের লোকজন।
কুলিয়ারচর থানার ওসি মোঃ মকবুল হোসেন মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে তাঁর পরিবার ছোটবেলা থেকেই পায়ে শিকল দিয়ে ঘরে আটকে রাখছে।
শিশুটিকে ছাড়া হলে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।


এই পরিস্থিতিতে শিকলবন্দি অবস্থায় শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়।


ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর পরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।


তবে তার পরিবারকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি ঠিক নয় বলে ওসি জানান।

অপরাধ ও দুর্নীতি এর আরও খবর