logo

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিকানা স্বত্ব সরকারের না প্রাইভেট কোম্পানীর?


বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মালিকানা স্বত্ব সরকারের না প্রাইভেট কোম্পানীর?

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের আগেই এর ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ ও সিগন্যাল বিকিকিনি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। এসব বিতর্কের সূত্রপাত দুটি কোম্পানিকে কেন্দ্র করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এই ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সেখানে জানানো হয়, স্যাটেলাইট সিগন্যাল ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের দায়িত্বে থাকবে দুটি প্রতিষ্ঠান। বেক্সিমকো গ্রুপ ও বায়ার মিডিয়া টিভি চ্যানেল ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ ও সিগন্যাল বিকিকিনির পুরো ব্যবসায়িক দিকটি উপভোগ করবে। এদের ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানি এখানে ডিটিএস প্রযুক্তির ব্যবসায় নামতে পারবে না।

এমন বক্তব্যের পরপরই সাংবাদিকের প্রশ্নবানে জর্জরিত হন সেখানে থাকা বিটিআরসির কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তখন বিষয়গুলো এড়িয়ে যান তারা।

বিটিআরসির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের ভাষ্য, চলতি বছরের জুন নাগাদ এই স্যাটেলাইট প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পর্যন্ত কাজ করবে বিটিআরসি। এরপর এর দেখভালের দায়িত্ব নেবে বঙ্গবন্ধু কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসবি)। কোম্পানিটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের তত্ত্বাবধায়ন, কার্যক্রম, বাণিজ্যিক উন্নতি সাধন ও অন্যান্য কাজ পরিচালনার কাজ করবে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে ও বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। বাকি এই ২০টির ব্যান্ডউইথ কিনে তা বিক্রির সুযোগ পাবে টেন্ডারের মাধ্যমে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো।

স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ ও সিগন্যাল বিকিকিনির জন্য ওই দুই কোম্পানিকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘কাউকে দেওয়া হয় নাই। মন্ত্রী হিসেবে আমি জানি না, এ রকম কাউকে দেওয়া হয়েছে। দিছে, এটাও আমি জানি না।’

বিসিএসবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমার কোনো মতামত নেই। আমি জানিও না। কোম্পানির কাছে স্যাটেলাইট কার্যক্রম হস্তান্তর করা হবে এপ্রিলের পরে। এরপর থেকে আমার কার্যক্রম শুরু হবে।’

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেক্সিমকো ও বায়ারকে নিয়ে স্যাটেলাইট সম্পর্কিত যা বলা হচ্ছে, তা গুজব কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সাইফুল বলেন, ‘আমি জানি না, আমি শুনি নাই। এ রকম কিছু আমার কানে আসে নাই।’

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের কথাগুলো ভুল (রংলি) ইন্টারপ্রেট করা হয়েছে। অন্যান্য টেলিভিশনগুলো বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে সার্ভিস নেয়। সমস্ত টেলিভিশনগুলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে চলে আসবে। এটির জন্য তাদের বেক্সিমকো বা বায়ার মিডিয়ার পারমিশন নিতে হবে না। শুধুমাত্র ডিটিএস সেবা দেবে এই দুই প্রতিষ্ঠান।’

বিসিএসবি চালু হওয়ার আগেভাগেই এই চুক্তি কীভাবে হয় জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই চুক্তিটি আমাদের (বিটিআরসি) এখানে হয়নি। মিনিস্ট্রি অব ইনফরমেশন থেকে এই চুক্তিটি করা হয়েছে, সেখান থেকে তাদের এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি সঠিক জানতে চান এই চুক্তির মাধ্যমে বেক্সিমকো ও বায়ার কী পাবে, সেটা আপনি ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’

‘তারা কী মারফতে বা কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছে, তা আমি বলতে পারব না। আমার ধারণা, সরকার আইনকানুন মেনেই তাদেরকে এই অনুমতি দিয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় তাদেরকে এই লাইসেন্সটি দিয়েছে।’

কত সালের দিকে তারা এই লাইসেন্স পায় জানতে চাইলে শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘আমি বলতে পারব না। আমি আসার আগে মনে হয় এখন থেকে কমপক্ষে ২ বছর আগে।’

চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহেই মহাকাশে যাত্রা করবে বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’। ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্সের লন্ড প্যাড থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। ঢাকায় নবনির্মিত উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে এই উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্লোরিডায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এর মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। ওই ট্রান্সপন্ডারগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই স্যাটেলাইট দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।

২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাঠামো, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূস্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনা ও নির্মাণে ঋণের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব পালন করছে ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি। সূত্র: প্রিয় ডট কম

মন্তব্য

উপর