logo

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের এই দিনে যাকে মনেও করা হল না


স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের এই দিনে যাকে মনেও করা হল না

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর উৎক্ষেপণ। যার হাত ধরে এই কৃত্রিম উপগ্রহের যাত্রা, তাকে মনে রাখেনি কেউ। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেও একটি ফোন পর্যন্ত করা হয়নি। তবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণে তিনি বেশ খুশি।

যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তিনি হলেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। নবম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী হওয়ার পর তার পদক্ষেপের কারণে এই স্যাটেলাইটের যাত্রা শুরু হয়।

১০ মে বৃহস্পতিবার অভিব্যক্তি জানতে চাইলে কিছুটা থেমে থেমে ভারাক্রান্ত গলায় রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু  বলেন, ‘আজকের অনুভূতি প্রকাশ কারার নাই। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছে। আমারে দাওয়াত দেক বা না দেক কিছু যায় আসে না। বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটে যাচ্ছে, এইটা আমার জন্য খুবই ভালো লাগছে।’

মোবাইলে কথা বলতে বলতে প্রায়ই থেমে যাচ্ছিলেন সাবেক এই মন্ত্রী। উৎক্ষেপণের দিনেও তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করায় একটু কষ্ট যেন জমাট বেঁধে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটু তো ইয়ে লাগবেই...কারণ প্রথম শুরু করেছিলাম আমি। আপনিও মানুষ আমিও মানুষ। স্বাভাবিকভাবে তো একটু ইয়ে লাগবেই। তারা একটি ফোন করে জানাতে পারত। যাই হোক এ নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। তাও তো বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইটের আন্ডারে যাচ্ছে।’

স্যাটেলাইটের যাত্রা শুরুর গল্প জানতে চাইলে রাজিউদ্দিন বলেন, ‘কেবিনেটে আমি প্রথম বিষয়টি তুলি। আমি বললাম যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিজস্ব একটি স্যাটেলাইটের প্রয়োজন। কারণ আমাদের চ্যানেলগুলো বাইরে থেকে তরঙ্গ ব্যবহার করে। তিনি শুনে বললেন এটি তো ভালো প্রস্তাব। তখন মুহিত ভাই বলল কত টাকা লাগবে। আমি বললাম দুই-তিনশ কোটি টাকা। তখন আমরা এটি বিটিআরসিকে দেই। কন্সাল্টেন্ট হিসেবে সুবির মল্লিককে দেওয়া। দুই তিনটা অফারের পরে আমরা একটারে প্রথমে একসেপ্ট করি। শুরুটা কিন্তু আমি করে দিয়েছিলাম।’

স্যাটেলাইটের চিন্তা মাথায় আসার কারণ হিসেবে এই সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের স্বপ্ন ছিল। আমরা চিন্তা করেছিলাম আমাদের যদি নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকে তাহলে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো যে টাকা বাইরে দেয় সেই টাকা সেভ করা যাবে। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রচার পাবে। দেশের একটি স্যাটেলাইট থাকবে না নিজস্ব এটা ভালো দেখায় না।’

উল্লেখ্য, দেশের প্রথম যোগাযোগ স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। মার্কিন কোম্পানি স্পাসেক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে ফ্লোরিডার কেপ কার্নিভ্যাল মঞ্চ থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে।

ফ্যালকন-৯ রকেট ৩.৫ মেট্রিক টন ওজনের বঙ্গবন্ধু-১ যোগাযোগ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে নিয়ে যাবে। মহাকাশে নির্দিষ্ট স্লটে এটির পৌঁছাতে ৮ দিন সময় লাগবে। উৎক্ষেপণের স্থানের ৪ কিলোমিটার দূর থেকে এটি সরাসরি দেখা যাবে। তবে মাত্র ৬-৭ মিনিট রকেটটি দেখা যাবে, এর পরে রকেটটি চলে যাবে দৃষ্টিসীমার বাইরে।

এই স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার, যার ২০টি আমাদের দেশের জন্য ব্যবহার করার জন্য রাখা হবে এবং বাকি ২০টি অন্যান্য দেশে ভাড়া দেওয়া হবে। সূত্র: প্রিয় ডট কম

মন্তব্য

উপর