logo

ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরালে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতার পুলিশের চাকরী!(ভিডিও সহ)


ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরালে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতার পুলিশের চাকরী!(ভিডিও সহ)

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হবার পর ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগের এক নেতার পুলিশের চাকরী নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গেল বছরের আগষ্ট মাসে কাপাসিয়া উপজেলার ‘শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজ’ শাখা ছাত্রলীগের (তৎকালীন) সভাপতি সাকিব আহমেদ সুজনের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপার শুরু হয়েছিলো।

ঐ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পরে উপজেলা ছাত্রলীগ মাদক সংশ্লিষ্টতা ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে এনে গত ২১ আগষ্ট, ২০১৭ তারিখে দলীয় পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে।

সাকিব আহমেদ সুজন উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য ভূলেশ্বর গ্রামের মো: শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

ভাইরাল হওয়া ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সুজন একটি অটো রিক্সায় বসে ইয়াবা সেবন করছে, তাকে সাহায্য করছে পাশে থাকা অন্য আরেকজন। যার চেহারা অস্পষ্ট থাকায় তার পরিচয় জানা যায়নি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ আগষ্ট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে সাকিব আহমেদ সুজনকে দলীয় পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এবং পরবর্তীতে নোটিশের জবাব না দেয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সুজন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও মাদক সেবন করতো। এ বিষয়ে ব্যাপক ভাবে সমালোচনার মুখে পরে উপজেলা ছাত্রলীগ তাকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের পর সুজনকে আর তার নিজ এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় একাধিক সূত্র।

এ ব্যাপারে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারের পর সুজনকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। গত কিছুদিন আগে তার ব্যাপারে পুলিশ ভূলেশ্বর গ্রামে তদন্ত করতে গেলে সুজনের পুলিশের চাকরীর বিষয়টি জানাজানি হয়। হঠাৎ করেই ২০১৮ সালের সর্বশেষ পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগে তার নাম দেখে তার নিজ এলাকায় এ নিয়ে আবারো আলোচনার সৃষ্টি হয়।

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার হবার পর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে মাদকাসক্ত সুজনের চাকরী পাওয়া নিয়ে এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের তিন তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের মহা পরিদর্শকের বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় এক ব্যাক্তি। ঐ অভিযোগ সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশ পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহীনিতে দায়িত্বভার একজন মাদক বিক্রেতা ও মাদকাসক্ত ব্যাক্তিকে দেয়া যেতে পারে না। এতে করে বাংলাদেশ পুলিশের সুনাম নষ্ট হবার আশংকা রয়েছে। তাই উক্ত বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন তিনি।

সুজনের পুলিশ চাকরীর বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়েদ ইউনিয়নের চেয়াম্যান মোঃ আঃ হাই বলেন, মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে। এরপরেও বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল পদে তার নিয়োগ হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম ভূঁইয়া বলেন, গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাকিব আহমেদ সুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছিল এবং সময়মতো তার জবাব না দেয়ায় তাকে স্থায়ীভাবে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইয়াবা সেবনের ছবি এবং ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালের বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

অভিযুক্ত সুজনের বাবা রায়েদ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য ভূলেশ্বর গ্রামের মো শাহজাহান মিয়া সকল অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক শত্রুতার জেরে আমার ছেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে মাদক সংশ্লিষ্টটার অভিযোগ আনা হয়েছিলো। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, সুজন চলতি মাসের পাঁচ তারিখে পুলিশ কনস্টেবলের ট্রেনিং এর উদ্দেশ্যে বাড়ি ত্যাগ করে। এর বেশি আর কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

সুজনের নিয়োগের ব্যাপারে পুলিশ ভেরিফিকেশনের দ্বায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন বলেন, আমি এখন ছুটিতে আছি। তাই কিছু বলতে পারছি না। ছুটি শেষে অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।


মন্তব্য

উপর