logo

ময়মনসিংহে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাংবাদিক সম্মেলন


ময়মনসিংহে ইউপি চেয়ারম্যানদের সাংবাদিক সম্মেলন
ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ভূমি হস্তান্তর করের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রতিবাদে মেয়র কর্তৃক সাংবাদিক সম্মেলনে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে সদর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ। সাংবাদিক সম্মেলনে মামলার বাদী ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৬ নং চারঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোর্শেদুল আলম জাহাঙ্গীর সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও কিছু দালিলিক প্রমান তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (১৫ মে) সকাল ১১ টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা মিলনায়তনে এ সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঘাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান সরকার সাজু, দাপুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: হুমায়ন হাসান উজ্জল, ভাবখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো: রমজান আলী, কুষ্টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তা মিয়া, বোররচর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত জাহান বুদু প্রমুখ। তখন তাদের লিখিত বক্তব্য শুনেন প্রায় অর্ধশতাধিক গনমাধ্যমকর্মীরা।

এদিকল লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীর আলম জানান, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নির্দেশে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার আদেশে উর্ধতন কোন আদেশ ব্যাতিরেকে সদর সাব রেজিষ্ট্রারের দেয়া ১৩ টি ইউনিয়নের ভূমি হস্তান্তর করের ১ কোটি ৮২ লাখ ৫৮৩ টাকা ফেরত আনার ন্যায় সংগত চেষ্টাকে ভূলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। 

তিনি বলেন, ১০ মে সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র টিটু পৌরসভার কর্মকান্ডের ফিরিস্তি ও তার সুনামের কথা তুলে ধরেছেন। আমরা তার সফলতা, ব্যর্থতা, সুনাম, দুর্নামের কথা বলি নাই। আমরা আমাদের জনগনের পাওনা দাবির কথা বলেছি। এক্ষেত্রে মেয়র আমাদের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করলে মামলা করার প্রয়োজন ছিলনা।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, যেকোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চলমান কোন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চাওয়া এটাই নিয়ম। এক্ষেত্রে ভূমি হস্তান্তর করের টাকা নিজেদের একাউন্টে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, ডি ডি এলজি, স্থানীয় সরকার সচিব সহ কারও মতামতের প্রয়োজন মনে করেন নাই।

জাহাঙ্গীর দালিলিক প্রমান উত্থাপন করে প্রশ্ন তুলে  আরও বলেন, পৌরসভার প্রধান নির্বাহী পত্রের মাধ্যমে জেলা রেজিষ্ট্রারের নিকট ১% এর ৮ ইউনিয়ন ঘোষিত শহর এলাকার টাকা চেয়েছেন পৌর এলাকার নয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় যে এলাকার কর্তৃত্ব আপনাদের হাতে দেয় নাই সে এলাকার টাকা নিয়েছেন কেন ? আপনার আমাদের ১% এর টাকা চেয়েছেন এবং নিয়েছেন অতি সংগোপনে। যা আমরা জানতে পেরেছি ৯ মাস পরে।

এসময় তিনি বলেন, সদর সাব রেজিষ্ট্রার, জেলা প্রশাসক এর মৌখিক নির্দেশ এমনকি স্থানীয় সরকারের লিখিত নির্দেশকে অবজ্ঞা করে ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ টাকা প্রদান করেন নাই বিধায় আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। মেয়র বাক্যের অস্পষ্টতা, আইনী অপব্যাখ্যা, প্রিন্টি মিসটেককে বড় করে তুলে ধরে সাংবাদিকদের এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। যা হীন চেষ্টা। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় বলেছে টাকা নেয়া-দেয়া বিধিসম্মত হয়নি। এক্ষেত্রে তিনি এ ঘটনাকে মেয়রের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সুনামের পরিচয়ক কিনা প্রশ্ন তুলেছেন। অতি সংগোপনে টাকা চাওয়া, নেয়া, দেয়াকে কোন উদ্দেশ্য বলে প্রশ্ন তুলে বলেন, এক বৎসরে টাকা ফেরৎ না দেয়াকে দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির পরিচয় বলে কিনা?

তিনি আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, মন্ত্রনালয়ের চিঠি পাওয়ার পর ৪০ লাখ টাকা দিয়েছেন, মাঝখানে শত তাগাদা দেয়ার পরও টাকা দেন নাই। যেদিন আমরা মামলা দায়ের করেছি সেদিন ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছেন যা এখনও কেশ হয়নি। এটি কি আইন সম্মত ও মন্ত্রনালয়ের আদেশ উপেক্ষার শামিল কিনা ?

তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা ফেরৎ দেয়ার লিখিত অঙ্গিকার করে মেয়র সাংবাদিক সম্মেলনে দায় এড়ানোর যে হীন অপকৌশল নিয়েছেন তা থেকে বিরত থেকে দ্রুত টাকা ফেরত দিবেন।

মন্তব্য

উপর