logo

ক্ষমা চাইলেন ভিকারুননিসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি


ক্ষমা চাইলেন ভিকারুননিসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় নিহতের মা-বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটি। অরিত্রী এই নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণীতে পড়ত। শিক্ষার্থীদের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে আজ বৃহস্পতিবার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি গোলাম আশরাফ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা মর্মাহত। আমরা এ ঘটনায় জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চাই।' প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে আমার পদত্যাগের প্রয়োজন হলে আমি করব।

অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় আজ তৃতীয় দিনের মতো বেশ কিছু ছাত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। ছাত্রীরা জানায়, তারা যে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। এতে তারা সন্তুষ্ট। বাকি দাবিগুলোরও বাস্তবায়ন চায় তারা। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের পদত্যাগ এবং অরিত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য তাঁদের কাছে কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে গোলাম আশরাফ তালুকদার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি জানান।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এরপর ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় ওই মামলা করেন তার বাবা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে হওয়া মামলায় শিক্ষা ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আরা এবং হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়।

গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা এলাকা থেকে অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, ভিকারুননিসার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতারকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আজকের মধ্যে তাঁরা আদালতে আত্মসমর্থন না করলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

এর আগে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার ও অরিত্রীর শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা বরখাস্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


দৈনিক প্রজন্ম ডট কম/জুনায়েদ

মন্তব্য

উপর