logo
Left-side-ad-projonmo.com
right float
শিরোনাম
app download

বড়লেখায় পরিবহন ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্সে শিশুর মৃত্যু ৩৮ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন  আটক ২ জন


বড়লেখায় পরিবহন ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্সে শিশুর মৃত্যু ৩৮ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন  আটক ২ জন

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত ২৮ অক্টোবর অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় সাতদিন বয়সি এক কন্যাশিশু মৃত্যুর ৩৮ দিন পর ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম শরীফ উদ্দিনের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গত ২৮ অক্টোবর শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময় পরিবহন শ্রমিকরা অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।  

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শিশুটির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও ময়নাতদন্তের জন্য গত ৫ নভেম্বর বড়লেখার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম হরিদাস কুমারের আদালতে আবেদন করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ নভেম্বর আদালত এক আদেশে শিশুটির লাশ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিজ্ঞ জেলা হাকিম মৌলভীবাজারকে বলেন। আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ নভেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বড়লেখার সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম শরীফ উদ্দিনকে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত থাকার জন্য নিয়োগ করা হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম শিশুর লাশ উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নির্বাহী হাকিম মহোদয়ের উপস্থিতিতে শিশুর লাশটি সকালে কবর থেকে তোলা হয়েছে।তাঁর পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’  

শিশুটির পরিবার থেকে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৮ অক্টোবর সকালের দিকে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। 

হাসপাতালের চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।যাওয়ার পথে বড়লেখা উপজেলার পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে।

অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম নামক স্থানে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়ি আটকে চালককে মারধর করেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা এখানে অ্যাম্বুলেন্সটি আটকা থাকে।অ্যাম্বুলেন্স আটকা অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।দুপুর দেড়টার দিকে গাড়ি ছাড়া পেলে শিশুটিকে পাশের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। নির্মম এ ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে শুরু হয় তোলপাড়। ঝড় ওঠে নিন্দার।ঘটনার সঙ্গে জড়িত পরিবহন শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘটনার তিনদিন পর ৩১ অক্টোবর শিশুর চাচা আকবর আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ে ১৬০ থেকে ১৭০ জন শ্রমিককে আসামি করে থানায় একটি মামলা (নং-১৮) করেন।

এই মামলার অন্তত ৩৪ দিন পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- উপজেলার মহদিকোনা গ্রামের হবিব আলীর ছেলে আলীম উদ্দিন (৪৮) এবং একই এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে জাকির হোসেন রাজন (২৪)। ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


দৈনিক প্রজন্ম ডট কম/জুনায়েদ

মন্তব্য

উপর