logo
Left-side-ad-projonmo.com
right float
শিরোনাম
app download

বাকৃবিতে সাংবাদিককে উপর হামলা করল ছাত্রলীগের কর্মীরা


বাকৃবিতে সাংবাদিককে উপর হামলা করল ছাত্রলীগের কর্মীরা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলে ১ম বর্ষের ও ২য় বর্ষের ছাত্রলীগের কর্মীদের মাঝে দুই দফায় মারাপিটের ঘটনা ঘটে। এই সময় সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কালের কন্ঠের প্রতিনিধি আবুল বাশার মিরাজের উপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। 

এবিষয়ে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোন ধরনের খোঁজ খবর ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে সাংবাদিকের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি।  


হল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলে গেস্টরুমে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রলীগের কর্মী প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে। এতে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরা গেস্টরুমে যেতে অপারগতা জানায়। এতে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়। এই সময় হলের বøকে উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এইসময় হলের সিনিয়র ছাত্রলীগের নেতারা উভয়পক্ষের মাঝে সমঝোতা করে দেন। পরে ওই রাতে আবার দুই বর্ষের মধ্যে দফায় দফায় মারামারি হয়। এরপর ওইসময় প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে গেস্টরুমে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা।


এই সময় পেশাগত দ্বায়িত্ব পালনে ক্যাম্পাসের কালের কন্ঠের সাংবাদিক আবুল বাশার মিরাজ উপস্থিত হন। 

সেখানে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে চড়াও হয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। ওইসময়ে সেখানে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন কর্মী মিলে সাংবাদিককে মারধর করেন। পরে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহারিয়ার মনির সাংবাদিক আবুল বাশার মিরাজকে হুমকি দেন। হলের নিউজ বাইরে যায় কেন সেই বিষয়ে মিরাজে শাসিয়ে দেন মনির। পরে ঘটনাস্থলে ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন মিরাজ। এরপর অসুস্থ মিরাজকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গিয়ে উদ্ধার করেন। এরপর মিরাজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিলে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেন। পরে বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল  হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।
এ বিষয়ে রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শংকর কুমার দাশকে অনেকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি।


পরের দিন বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টা পর্যন্ত হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কোন ধরনের খোঁজ খবর নেওয়া হয়নি।


এই বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. শংকর কুমার দাশ জানান, এই বিষয়ে আমি তেমন কিছুই জানিনা। প্রক্টরের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, এটা হলের বিষয়। আমাকে এই বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনুগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, পেশাগত দ্বায়িত্বপালনে এমন ঘটনা অত্যন্ত গর্হিত। এই বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলে তারা কোন ধরনের ব্যবস্থা নেন নি। প্রশাসন আছেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্য, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসনের এমন নীরবতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।


এবিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহারিয়ার মনির সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া বিষয়টি অস্বীকার বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দেই।


বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

উপর