logo
শিরোনাম

খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না: অর্থমন্ত্রী


খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না: অর্থমন্ত্রী

আজ বৃহস্পতিবার থেকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে ব্যাংক মালিকদের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে ঋণ খেলাপিদের একটি তালিকাও চেয়েছেন তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দুপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এসময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান ব্যাংক মালিকরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোন কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। আপনারা কিভাবে বন্ধ করবেন, কিভাবে টেককেয়ার করবেন, কিভাবে ম্যানেজ করবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তাই বলছি আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না, ইনশাআল্লাহ। ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাই ব্যাংকের মালিক। সবাই প্রায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আপনাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো ভেরিফাই করবো, এভালুয়েট করবো, মূল্যায়ন করবো। এজন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এই মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাব।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। আর গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে খেলাপি ও অবলোপন'সহ মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

এ অবস্থায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে করণীয় ঠিক করতে বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে বসেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠক শেষে ব্যাংক মালিকরা জানান, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ শ্রেণিকরণের কাজ শেষ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা একটি জায়গায় ঐক্যমতে পৌঁছেছি, মূল যে এলাকা, মূল যে চিন্তা সেটি হচ্ছে ননপারফরমিং লোন। এটি আপনাদের উৎকণ্ঠা, জাতির উৎকণ্ঠা, আমাদের উৎকণ্ঠা এবং আমার উৎকণ্ঠা, তবে আমার উৎকণ্ঠা কিছুটা কম। কেননা এরই মাঝে আমি দেখেছি যেভাবে যে পরিমাণ পত্র পত্রিকায় লেখা হয়, সে পরিমাণ ননপারফরমিং লোন না। দেশে ননপারফরমিং লোনের হার ১১ থেকে ১২ শতাংশ। এর চেয়ে অন্যান্য দেশে আরও বেশি। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আরও বেশি। ননপারফরমিং লোন কমলে ব্যাংক সুদের হার কমে যাবে, সুতরাং এটা কোনভাবেই বাড়তে দেওয়া হবে না।

মন্তব্য

উপর