logo
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল খবর এক ক্লিকে পড়তে ক্লিক করুন

রাজনগরে সরকারী এম্বুলেন্স দিয়ে দেওয়া হচ্ছে ড্রাইভারি প্রশিক্ষণ,অতঃপর দুর্ঘটনা


রাজনগরে সরকারী এম্বুলেন্স দিয়ে দেওয়া হচ্ছে ড্রাইভারি প্রশিক্ষণ,অতঃপর দুর্ঘটনা

সরকার প্রদত্ত স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি অনিয়ম সেটা এখনকার সময়ে স্বাভাবিক ব্যাপার,কারণ এদেশের প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষ জানেন সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে কতটা হয়রানির শিকার হতে হয়। ঔষধ,রোগীর পরীক্ষা, রোগী ভর্তি সহ প্রায় সবজায়গায় রয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষের নির্দিষ্ট এজেন্ট (দালাল) এই এজেন্টদের মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় টাকা।

এইসব বিষয় যখন গায়েমাখা হয়ে গেছে টিক তখনি একটি নতুন বিষয় আলোড়ন তৈরি করেছে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা সরকারী হাসপাতালে যা এখন টক অব দ্য রাজনগরে পরিনিত হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে সরকারী  এম্বুলেন্স দিয়ে ষ্টোর কিপার অচিন্ত কে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় এম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি নারিকেল গাছে আঘাত করে,তাতে এম্বুলেন্সটির সামনের দিক সম্পূর্ণ রোপে দুমড়ে মুষড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে। ঘটনা প্রত্যক্ষকারী স্থানীয় জনসাধারণ বলেন, ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে সাত ঘটিকার সময় হাসপাতাল এলাকার ভিতরে হঠাৎ বিকট একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে সাথে সাথে দৌড়ে হাসপাতল এলাকায় যান গিয়ে দেখতে পান নতুন ( চুক্তিভিত্তিক) নিয়োগ পাওয়া এম্বুলেন্স চালক অন্য এক জনকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। 

ঘটনা বিবরণে জানা যায় প্রায় দুই মাস আগে নিয়োগ (চুক্তিভিত্তিক) পান এম্বুলেন্স চালক সুমন মিয়া, চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই রাজনগর উপজেলা হাসপাতালের ষ্টোর কিপার অচিন্ত বিভিন্ন ভাবে এম্বুলেন্স চালক সুমন কে প্রভাবিত করতে থাকে এম্বুলেন্স চালানো শিখানোর জন্য, প্রথমে সুমন রাজি না হলে তাকে প্রলোভন দিয়ে রাজি করেন অচিন্ত, এরপর থেকে প্রতিদিন সরকারী সম্পদ এই এম্বুলেন্স দিয়ে শেখানো শুরু হয় গাড়ি ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, প্রতিদিনের মত গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যার পরে প্রশিক্ষণ শুরু করেন চালক সুমন ও ষ্টোর কিপার অচিন্ত। ঘটনার সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন অচিন্ত, সুমনের বাধা সত্যেও তিনি জোর করে গাড়িটি চালানোর জন্য তাকে ধমক দিয়ে ষ্টিয়ারিং নিজের হাতে তুলে নেন,এরপরেই ঘটে এই দুর্ঘটনা।

সরকারী গাড়ি কি ভাবে নিজের কাজে ব্যবহার করা হয় এবিষয়ে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে,তিনি বলেন ঘটনা শুনার পর থেকে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বর্ণালী দাশ কে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরছেননা। পরবর্তীতে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সাথে সাংবাদিকেরা যোগাযোগ করতে অনেক চেষ্টা করেও তার সাথে দেখা বা ফোনে কথাবলা কিছুই সম্ভব হয়নি বলেন জানান একজন সংবাদ কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলেন সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন চলে গেলে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি মহল আক্রান্ত এম্বুলেন্সটি সিলেট নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গোপন রাস্তা দিয়ে নিয়ে যায়। সাধারণ মানুষ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ জানান এভাবে সরকারী সম্পদ সরকারের লোকজন তাদের ইচ্ছেমত অপব্যবহার করে নষ্ট করবে আর এর জন্য ভোগান্তির শিকার হবে সাধারণ মানুষ তা কখনই কাম্য নয়,যদি এর কোন সঠিক বিহিত ও সংশ্লিষ্ট দুষি ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি না দেওয়া হয় তাহলে সাধারণ মানুষ এর তীব্র প্রতিবাদ জানাবে।

মন্তব্য

উপর