logo
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল খবর এক ক্লিকে পড়তে ক্লিক করুন

স্বামী রেখে সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়া, অত:পর খুনরে লোমহর্ষক বর্ণনা


স্বামী রেখে সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়া, অত:পর খুনরে লোমহর্ষক বর্ণনা

স্বামী রেখে সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় মেতেছিলেন জান্নাতুল আক্তার। পরকীয়া প্রেমিককে স্বামী পরিচয় দিয়ে প্রায় কয়েক মাস একই বাসায় থাকেন তাঁরা। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় পেশাদার এক খুনি নিয়ে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে জান্নাতুল আক্তারকে (১৮) হত্যা করে পরকীয়া প্রেমিক পলাশ। 

গাজীপুরের শ্রীপুরে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। কললিস্টের সূত্র ধরে পলাশকে (২৮) আটকের পর সে হত্যার ঘটনা স্বীকার। শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে পলাশ।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পলাশ জানিয়েছে, স্ত্রীর মর্যাদার দাবি জানিয়ে বাড়িতে উঠে পড়ার হুমকি দেওয়ায় ‘খুন করেছি’।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার যোগীরশিট এলাকার একটি বেগুন ক্ষেতের ভেতর থেকে জান্নাতুল আক্তারের গলা ও হাত-পায়ের রগ কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুখের কিছু অংশ শিয়ালে খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে পড়েছিল।

নিহত জান্নাতুল আক্তার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের গলদাপাড়া গ্রামের আল আমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল। এর আগেও তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়ি এলাকায় বাদশা টেক্সটাইল নামে একটি কারখানায় চাকরি করতেন তিনি। 

অভিযুক্ত পলাশ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের শহীদ উদ্দিনের ছেলে। জান্নাতুল আক্তারের সঙ্গে একই কারখানায় চাকরি করতো সে।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর জান্নাতুলের মোবাইল ফোনের কললিস্ট নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায় পলাশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে জান্নাতুলের একাধিকবার কথা হয়। এর আগেও মোবাইল ফোনে দুজনের অনেকবার কথা হয়েছে। ওই এসআই আরো জানান, তদন্তে আরো কিছু আলামত মেলে। এরপর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার ভালুকার মাস্টারবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাশকে আটক করেন তিনি। 

আটকের পর প্রথমে অস্বীকার করলেও তার (পলাশ) সম্পৃক্ততার বিভিন্ন আলামত দেখানোর পর পলাশ হত্যার ঘটনা স্বীকার করে। এরপর শুক্রবার বিকেলে সে গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জবানবন্দিতে পলাশ জানায়, গত প্রায় সাত মাস আগে জান্নাতুলের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের সূত্র ধরে ঘনিষ্ঠতা একপর্যায়ে শারীরিক পর্যায়ে পৌঁছায়। তাকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জান্নাতুল একই বাসায় ভাড়াও থাকেন কয়েক মাস। গত কিছুদিন ধরে জান্নাতুল তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সে রাজি না হওয়ায় জান্নাতুল তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তা সে দিতে পারবে না জানালে জান্নাতুল স্ত্রীর মর্যাদার দাবি জানিয়ে তার বাড়িতে উঠে পড়ার হুমকি দেয়। বিপদ বুঝে তাঁকে (জান্নাতুল) সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করে সে। পরিকল্পনামাফিক গত ৩১ ডিসেম্বর বিয়ে করবে বলে জানিয়ে জান্নাতুলকে ফোন করে সে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পলাশ আরো জানায়, জান্নাতুল আক্তার তার কাছে আসার পর পাশের শ্রীপুর উপজেলার যোগীরশিট এলাকার মোস্তফা কামালের বেগুন ক্ষেতে নিয়ে হত্যা করে সে। প্রথমে জান্নাতুলের ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে। নিস্তেজ হয়ে পড়লে গলা ও হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে তাকে একজন সহযোগিতা করে বলেও জানায় পলাশ। মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় ওই খুনিকে সে ভাড়া করেছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, পলাশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাশের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য

উপর