logo
Floating 2
Floating

দুই পুলিশের বিরোদ্ধে ধর্ষণের সত্যতা মিলেছে


দুই পুলিশের বিরোদ্ধে ধর্ষণের সত্যতা মিলেছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই তরুণী বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা করেন। 

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম। এরই মধ্যে এ ঘটনায় তাদেরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

তদন্ত শেষে আজ রাত সাতটার দিকে তদন্ত কমিটির প্রধান হাফিজুর রহমান বলেন, সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই তরুণী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

অভিযোগপত্র ও ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পর্কে ওই তরুণীর এক খালা সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেনের কাছে জমি বিক্রির তিন লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। পাওনা টাকা নিতে সাভারের নবীনগর থেকে গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে খালার সঙ্গে ওই তরুণী সাটুরিয়া থানায় যায়। সেখানে এসআই সেকেন্দারের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। পরে সেকেন্দার তাদের দুজনকে সাটুরিয়া ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে সেখানে উপস্থিত হন সাটুরিয়া থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম। পরে দুজন মিলে অভিযুক্ত তরুণী ও তার খালাকে আলাদা কক্ষে আটকে রাখে। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে অস্ত্রের মুখে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনে বাধ্য করা হয়। পরে দুই রাত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে দুই এসআই। দুই দিন পর গত শুক্রবার সকালে খালাসহ ওই তরুণীকে ডাকবাংলো থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

গতকাল রবিবার ওই তরুণী মর্মস্পর্শী এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার খোঁজখবর নিয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই সেকেন্দার হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি থানা থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টি স্বীকার করলেও কী কারণে করা হয়েছে সে ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। এদিকে এসআই মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য

উপর