logo
শিরোনাম

‘জাতীয় সংকটকালে আনসার-ভিডিপি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে’


‘জাতীয় সংকটকালে আনসার-ভিডিপি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে’

জাতীয় সংকটকালে ও জরুরি মুহূর্তে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, জাতীয় সংকটের পাশাপাশি এই বাহিনী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধেও আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাহিনীটির ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার শুরুতেই ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষার মাসে ভাষা আন্দোলনে শহীদ আনসার ভিডিপির সদস্য আবদুল জব্বারকে স্মরণ করছি। যিনি মাতৃভাষার মর্যাদা আদায়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন।

‘স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে, যার নেতৃত্বে আমরা মাতৃভাষায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি। জাতীয় চার নেতাকেও স্মরণ করছি। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আনসার বাহিনীর ৬৭০ সদস্যকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয়েছিল, তখন সেই নতুন সরকারকে গার্ড অব অনার দিয়েছিল এই আনসার বাহিনীই।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ভূমিকার প্রশংসা করে সরকারপ্রধান বলেন, সম্প্রতি একাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০১৮৩টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় পাঁচ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঁচজন আনসার সদস্য জীবন দিয়েছেন। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তুপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। সমাবেশের আগে তিনি নিহত আনসার সদস্যদের মরণোত্তর সাহসিকতার পদক দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ জনসম্পৃক্ত শৃঙ্খলা বাহিনী। এই বাহিনীর প্রায় ৫৫ হাজার পুরুষ ও আনসার সদস্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জনসম্পদ রক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দুটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা ব্যাটালিয়ানসহ ৪১টি ব্যাটালিয়ানের প্রায় ১৭ হাজার সদস্য পার্বত্য অঞ্চলের সমতলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত আনসার স্ট্রাইকিং ফোর্স (এএসএফ) দেশের অভ্যন্তরে কূটনৈতিক ও কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।’

২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখায় আনসার বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতি চর্চাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শিতা দেখিয়ে সুনাম অর্জন করায় বাহিনীটিকে অভিনন্দন জানান সরকারপ্রধান।

আনসার-ভিডিপির উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাহিনীটিতে আরও উন্নত করতে পদক্ষেপ নেই। এবং ১৯৯৮ সালে আমরা প্রথম বাহিনীটিতে জাতীয় পতাকা প্রদান করি। বিসিএস কর্মকর্তাদের পদের মানোন্নয়ন করা হয়। ২০০০ সালে ব্যাটালিয়ান আনসার সদস্যদের চাকরি স্থায়ীকরণ করা শুরু করি। ৬৭২ জন মহিলা আনসারের পদ স্থায়ীকরণ ও তাদের চাকরিকাল শতভাগ গণনা করার নির্দেশ জারি করা হয়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা সেবা ও সাহসিকতা পদক প্রবর্তন করেছি। আনসার সদস্যদের ঝুঁকিভাতাও করেছি। এবং তা বৃদ্ধি করেছি। ১১ হাজার ৬৬ জন উপজেলা আনসার কোম্পানির কমান্ডার ও ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডারের মাসিক ভাতাও আমরা অনুমোদন করেছি।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর আনসারের সমাবেশে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ শেষে বীরত্বপূর্ণ ও সেবামূলকসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পদক দেন সরকারপ্রধান।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার বাহিনী গঠন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিনে বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


17@দৈনিক প্রজন্ম ডটকম /  জা.আ

মন্তব্য

উপর