logo

১০ ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি


১০ ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় জনগণের করের টাকায় মূলধন জোগান দেওয়া অব্যাহত রেখেছে সরকার। কিন্তু ব্যাংকগুলোয় মূলধন ঘাটতি বেড়ে চলেছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয়েছে। এর মধ্যে ৬টিই সরকারি ব্যাংক। এগুলোর মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তথ্যে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ৯ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। গত বছর ডিসেম্বরে ১০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি হয় ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মূলধন ঘাটতি বাড়ে ৭ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। বছরের পর বছর ধরে ঘুরে ফিরে সরকারি ব্যাংকগুলোয় মূলধন ঘাটতি থাকছে।

এসব ব্যাংকে জনগণের করের অর্থ থেকে মূলধনের জোগানও দেওয়া হচ্ছে। এর পরও ঘাটতি বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। গত আট বছরে সরকারি ব্যাংকগুলোকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। আগের বছর ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। ক্রিসেন্ট গ্রুপ ও অ্যাননটেক্স গ্রুপ জালিয়াতির অকুস্থল জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয় ৫ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। হলমার্কসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে নাম আসা সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে ৫ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ঋণের নামে অর্থ লুটে নেওয়া বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। তবে রূপালী ব্যাংকের আগের বছর ৬৩৭ কোটি টাকা ঘাটতি থাকলেও গত বছর ২০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। আগের বছর উদ্বৃত্ত থাকলেও গত বছর ৮৮৩ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের।

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘাটতি হয়েছে ৭১২ কোটি, জনতা ব্যাংকের ১৬১ কোটি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৮১৩ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৫৫২ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৩৮৪ কোটি, এবি ব্যাংকের ১০০ কোটি ও বিদেশি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঘাটতি হয়েছে ৪০ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর শেয়ারহোল্ডার বা মালিকদের জোগান দেওয়া অর্থই মূলধন হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিক নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলোকে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ অথবা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি সেই পরিমাণ মূলধন রাখতে হচ্ছে। কোনো ব্যাংক এ পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে মূলধন ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অনেক ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মূলধন রাখায় সামগ্রিক খাতে মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে। ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর ১ লাখ ৭ কোটি টাকা মূলধন রাখার প্রয়োজন ছিল। ব্যাংকগুলো সংরক্ষণ করেছে ১ লাখ ২ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে ২ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকার মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে। ডিসেম্বরে ব্যাংকিং খাতে মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ মূলধন হিসেবে সংরক্ষণ করেছে।


দৈনিক প্রজন্ম ডট কম/ জো, ই/২০১৯/১৪

মন্তব্য

উপর