logo
Floating 2
Floating

আগুনে জ্বলে নুসরাতের শরীরের মাংস ঝরে পড়ছে: আবু বক্করের লোমহর্ষক বর্ণনা


আগুনে জ্বলে নুসরাতের শরীরের মাংস ঝরে পড়ছে: আবু বক্করের লোমহর্ষক বর্ণনা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি এখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের লাইফসাপোর্টে ভর্তি। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন অসহায় মেয়েটি।

নুসরাতকে আগুনে পুড়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন আলিম পরীক্ষার্থী সহপাঠি আবু বক্কর ছিদ্দিক। গণমাধ্যমকে তিনি জানালেন সেদিনের ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে। নিজের গায়ের পাঞ্জাবি খুলে অগ্নিদগ্ধ রাফির আগুন নিভিয়ে ছিলেন তিনি।

আমিরাবদ ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসা থেকে আলীম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন আবু বক্কর ছিদ্দিক। সোমবার (০৮ এপ্রিল) পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের আবেগতাড়িত কন্ঠে জানালেন সেই দৃশ্যপট। দাবী করলেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের।

আবু বক্কর ছিদ্দিক জানায়, গত শনিবার (০৬ এপ্রিল) হলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় একজন ছাত্রীর গগণবিদারী চিৎকার শুনে হল থেকে বের হয়ে ছুটে আসেন। তার সাথে সাথে এগিয়ে গিয়েছিলেন কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রাসেল ও নাইট গার্ড মো. মোস্তফা। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে ভয়াবহ আগুন গ্রাস করে নিচ্ছে নুসরাতকে। এ দৃশ্য দেখে তারা একটি পাপোশ ও পাটের চট দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এ সময় আগুনে জ্বলে নুসরাতের শরীরের মাংস ঝরে পড়ছে।

সে আরো জানায়, এর মাঝে আরো কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীও ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। তারা এসে নুসরাতের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে বদনা ভরে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রীর গায়ে আর কোন বস্ত্র ছিলনা। তখন নুসরাতের শরীর থেকে ঝরে পড়া মাংসের দৃশ্য দেখে তাৎক্ষণিক নিজের (আবু বক্কর) গায়ের পাঞ্জাবি খুলে ছাত্রীর গায়ে মুড়িয়ে দেয় সে। পরবর্তীতে হোস্টেল থেকে আবাসিক ছাত্রদের লুঙ্গি এনে ছাত্রীর গায়ে মোড়ানো হয়। চট ও লুঙ্গি মুড়িয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আবু বক্কর।

এসময় তিনি বলেন, যে দৃশ্য দেখলাম, এই দৃশ্য পৃথিবীর কোন মানুষের জীবনে আর না আসে। আজকে নুসরাতের জায়গায় আমার মা অথবা বোন হলে কি করতাম? আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। রহস্য উন্মোচিত হোক। অপরাধী যেই হোক তাদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।

মন্তব্য

উপর