logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

শ্রমিকদের বেতন দেয়া নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব


শ্রমিকদের বেতন দেয়া নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব

ক্রিকেট থেকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় সাকিব আল হাসান। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের জন্য কাজ করছেন নিজের সর্বস্ব দিয়ে। কিন্তু এরই মাঝে দেশের মানুষের তীব্র সমালোচনার শিকার হন এই অলরাউন্ডার। তার নামে অভিযোগ উঠে, নিজের নামে করা সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রো ফার্মের শ্রমিকদের ৪ মাসের বেতন না দেয়ার। এতে অবশেষে নিজের নীরবতা ভেঙ্গেছেন সাকিব। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল বেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফাইড একাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন সাকিব। সেখানে তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। সাকিবের ইংরেজি স্ট্যাটাসটির বাংলা সংস্করণ পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আমি দেরিতে প্রতিক্রিয়া জানান জন্য ক্ষমা চাইতে চাই। তবে আমার চিন্তাভাবনা এবং সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিলাম যাতে সত্যটি আপনাদের সকলের কাছে প্রকাশ করতে পারি। যদিও আমার নামটি সরাসরি প্রশ্নে অ্যাগ্রো ফার্মের সাথে সম্পর্কিত, পেশাদার ব্যস্ততা কারণে আমার অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মতো এটিও অংশীদারদের দ্বারা পরিচালিত হয়। আমি এই ব্যবসায়ের দৈনন্দিন বিষয়গুলিতে জড়িত হওয়ার এমনকি অফিস পরিদর্শন করার খুব কমই সুযোগ পাই। আপনারা সবাই জানেন যে আমাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্য চলতি বছরের বেশিরভাগ আমি বাংলাদেশ থেকে দূরে ছিলাম এবং এই সময়ের মধ্যে আমি আমার কৃষি ফার্মের ব্যবসায়িক বিষয়গুলি নিয়ে মোটেও আপডেট হইনি। এমনকি শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়টিও সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সেখানে গত কয়েক মাস ধরে যা চলছে তা আমাকে সঠিকভাবে জানাতে ব্যর্থ হয়েছিল কোম্পানির অংশীদার ও কর্মচারীরা। এছাড়া বেশিরভাগ কর্মচারীদের জানুয়ারির শেষের দিকে কর্মবিরতি দেওয়া হয়েছিল। কিছু সংখ্যককে আগামী ৩০ এপ্রিল বকেয়া বেতন পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি হওয়া সত্ত্বেও, এই কর্মচারীরা আশ্চর্যরকমভাবে রাস্তায় নেমেছিল এবং এর পেছনে কিছু লোকের গোপনএজেন্ডা এবং খারাপ অভিপ্রায় ছিল।

যাইহোক, আমি বুঝতে পারি যে সেখানে একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে, আমি নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সমস্ত বকেয়া বেতন প্রদানের এবং কোম্পানির তহবিল বা সহ-মালিকদের কোনও সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ হয়ে পরিস্থিতি সমাধান করেছি। যাই হোক না কেন, আমি বিশ্বাস করি এটি কোনও সংস্থার অন্তর্নিহিত ব্যাপার ছিল যা অভ্যন্তরীণ থাকা উচিত ছিল। কর্মীরা তারা এতটা অশান্তি তৈরি বা সম্মতি দিয়েছিল বলে তারা মাসের শেষ অবধি অপেক্ষা করতে ব্যর্থ দেখে আমি খুব হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। অন্য অনেকের মতো আমিও তাদের মতো অন্যান্য লোকদের জন্য তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছি যারা বর্তমান করোনা সংকটে দুরবস্থায় রয়েছেন। আর আমি আমাদের মুষ্টিমেয় কিছু কর্মচারীকে বঞ্চিত করব কেন? এটি তারা কেমনে বুঝলো তা দেখে হতবাক হই।

এছাড় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলো পক্ষপাতের আচারণ করেছে। তারা গভীরভাবে এবং সততার সাথে সমস্যাটি দেখতে ব্যর্থ হয়েছেন। আংশিক মিথ্যা এবং বেশিরভাগই বিভ্রান্তিকর সংবেদনশীল শিরোনামগুলি দিয়ে তারা বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। তারা যদি সত্যকে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করত তবে ভাল হত। আমি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করি যে সত্যতা যাচাই করে সত্যবাদী তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাদের সংবাদ তৈরির মাধ্যমে মিডিয়াগুলির দৃঢ় ভূমিকা রয়েছে। অন্যথায় তারা কোনও আপাত কারণ ছাড়াই আমার মতো মানুষকে আঘাত করতে পারে। তারা আমাকে দোষ দেওয়া বা কেবল আমাকে উল্লেখ না করে সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং প্রতিটি সহ-মালিকদের নাম উল্লেখ করে বিষয়টি সহজেই উত্থাপন করতে পারে। আমি বা অন্য কেউই এই প্রকৃতির মিথ্যা অভিযোগের দাবিদার নয়। আমি আন্তরিকভাবে আশাবাদী যে মিডিয়া এবং সাংবাদিকরা রিপোর্ট করার সময় আরও যত্ন নেবে। একটি জাতি হিসাবে আমি আন্তরিকভাবে মনে করি বর্তমান সংকটকে সামনে রেখে আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার দরকার রয়েছে এবং যে কোনও ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং সত্যের বানোয়াটতার বিরুদ্ধে সজাগ ও শক্তিশালী হওয়া দরকার। আমি মনে করি আমাদের আরও মনোযোগী বিষয়গুলির প্রতি আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করা দরকার।’

এ ব্যাপারে সাকিবের ব্যক্তিগত ম্যানেজার সোহান জানিয়েছেন, সাকিবের মালিকানাধীন ফার্মটির ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করতেন পাভেল। ডিসেম্বরের পর সাকিব সরাসরি তদারকিতে ছিলেন না, পাভেলই সার্বিক বিষয় দেখভাল করতেন। বিগত সময়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় অনেকটাই নির্ভর ছিলেন সাকিব।

মন্তব্য

উপর