logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

ব্যবসায়িক দ্বন্দে সাবেক যুবলীগ নেতা কারাগারে


ব্যবসায়িক দ্বন্দে সাবেক যুবলীগ নেতা কারাগারে

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলারপাকশিমুল ইউনিয়নে ব্যবসায়িক দ্বন্দে সাবেক যুবলীগ নেতা কারাগারে।অভিযোগ উঠেছে পাকশিমুলইউনিয়নে যুবলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চাঁদাবাজিও চুরির মামলায় গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ধনাঢ্য এই সাবেক যুবলীগ নেতাকে সাজানো চাঁদাবাজি ও চুরি অভিযোগে মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে তার পরিবারের দাবি। পাকশিমুল ইউপি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত মিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এসআই কামরুজ্জামানএমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা ব্যবসায়ী আবু ছিদ্দিক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।

এদিকে তড়িঘড়ি এ মামলা সাজাতে গিয়ে এফআইআর-এ আসামির নামে ভুল করা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী আসামির নাম দেয়া রয়েছে মো. আঃ আজিজ মিয়া। যিনি মারা গেছেন প্রায় ৫০ বছর আগে। কিন্তু কারাগারে রয়েছেন, তার নাতি যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান। এছাড়াও মামলার বাদিও অপ্রাপ্তবয়স্ক।কিন্তু এজাহার যাচাই-বাছাই না করেই পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করেছে।


অভিযোগ উঠেছে, অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হোসাইন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বাদি পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চুক্তির বিনিময়ে সরাইল থানার ওসি নাজমুল আহমেদকে ম্যানেজ করে মামলাটি নথিভুক্ত করিয়েছেন এবং নিজেই এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পাকশিমুল বাজারে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের ডিলারশিপ চালাচ্ছেন পাকশিমুল গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান। আর পাকশিমুল বাজারের পার্শ্ববর্তীঅরুয়াইল ইউনিয়নের অরুয়াইল বাজারে ওরিয়ন ও সেনা এলপি গ্যাসের ডিলার রয়েছে।পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর গ্রামের জিয়াউর আমিনের ছেলে ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত মিয়া“ রিফাত ট্রেড এজেন্সী” র স্বত্বাধিকারী।

বসুন্ধরা কোম্পানির ডিলার নিয়ম অনুযায়ী আজিজুর রহমান পাকশিমুল ও আশপাশ এলাকায় ক্রেতাদের কাছে বসুন্ধরা গ্যাস সরবরাহ করবেন। আর যদি অন্য কেউ বসুন্ধরার গ্যাস বিক্রি করেন তাহলে আজিজুরের কাছ থেকে নিয়েই বিক্রি করতে হবে। কিন্তু ছাত্রদল নেতা রিফাত বসুন্ধরার ডিলার না হয়েও অন্য জায়গা থেকে বসুন্ধরার গ্যাস কিনে এনে পাকশিমুল বাজার, অরুয়াইল বাজার ও আশপাশ এলাকায় অবৈধভাবে বিক্রি করেন। বসুন্ধরার গ্যাস বিক্রিতে নিষেধ করলে রিফাতের সাথে বিরোধ তৈরি হয় আজিজুরের, শুরু হয় ব্যবসায়িক দ্বন্দ।


গত ২ মে সকালে বসুন্ধরার গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি রিফাতের একটি গাড়ি পাকশিমুল বাজারে আটকে দেন আজিজুর ও তার বাবা আবু ছিদ্দিক। পরবর্তীতে পুলিশ এসে গ্যাসের সিলিন্ডারসহ গাড়িটি জব্দ করে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি সমাধান করতে উভয় পক্ষকে ফাঁড়িতে ডাকেন এসআই কামরুজ্জামান। কিন্তু সমাধান না করে আজিজুরকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে ওইদিনই রিফাতের ছোট ভাই মো. নোহাশ জিয়া বাদি হয়ে আজিজুরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেন। অপ্রাপ্ত বয়স্ক নোহাশের মামলার এজাহারে আজিজুরের নাম লেখা হয়েছে মো. আ. আজিজ মিয়া। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম আজিজুর রহমান। আর বাবার নাম আবু ছিদ্দিক। আ. আজিজ মিয়া হলো আজিজুরের দাদার নাম। যিনি প্রায় ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। যদিও এজহারে আসামির বাবার নাম হাজী আবু সিদ্দিক উল্লেখ করা হয়েছে।


আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ মামলার বাদি হতে পারে না। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বলেছেন, নোহাশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। তার বয়স এখনও ১৮ বছর হয়নি। যদিও এজহারে নোহাশের বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।

আজিজুরের বাবা আবু ছিদ্দিক জানান, বসুন্ধরার ডিলার না হয়েও রিফাত অবৈধভাবে বসুন্ধরার গ্যাস বিক্রি করে। এতে করে আমরা ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি। রিফাতকে নিষেধ করলেও সে শুনেনি। উল্টো তার নাবালক ভাইকে দিয়ে আমার ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়েছে। আমরার ছেলে সৌদি আরবে বড় ব্যবসা করত। সে গ্রামে অনেক দান-দক্ষিণা করে, অথচ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হয়েছে। পুলিশ টাকা খেয়ে আমার ছেলে সম্পর্কে যাচাই না করেই মামলা নিয়েছে। কিছু না করেও আমার ছেলে জেলে গেছে। 

ছাত্রদল নেতা রিফাত এবং তার মা ও বাবা পুলিশ এসল্ট মামলার আসামি। তাদের নেতৃত্বে পরমানন্দপুর গ্রামে কিছু উশৃংখল লোক সম্প্রতি আট পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। অথচ এই রিফাতের সঙ্গে সবসময় বসে আড্ডা দেন এসআই কামরুজ্জামান।পুলিশ রিফাতকে এখনও গ্রেফতার করেনি।

পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, আজিজুরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও চুরির অভিযোগটি সম্পূর্ন মিথ্যা। সে এলাকায় গরীব-অসহায় ও মসজিদ-মাদ্রাসায় অনেক দান করে। গ্যাসের ডিলারশিপ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণেই চাঁদাবাজির মামলার আসামি করা হয়েছে তাকে। ঘটনাটি সমাধানের জন্যপুলিশফাঁড়িতে আমাকেও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সমাধান না করে আজিজুরকে আটক করা হয় তখন। আর মামলার বাদি নোহাশকে আমি খুব ভালো করে চিনি। তার বয়স ১৩-১৪ বছর। পুলিশ যাচাই না করেই মামলা নিয়েছে।


মামলার বাদি মো. নোহাশ জিয়ার বড় ভাই ও গ্যাসের ডিলার ছাত্রদল নেতা মো. রিফাত মিয়া বলেন, আজিজের ব্যবসায়ীক প্রতিহিংসার থেকে প্রায় সময়ই আমাকে হেনস্তা করত। আমার সিলিন্ডার গ্যাস যখন তার এলাকা দিয়ে প্রবেশ করত তখন লোকজন দিয়ে আটকে রাখত। পরে চাঁদা দাবি করত। 


এ ব্যাপারে এসআই হোসাইন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি জানান, এ মামলার তদন্ত চলছে, মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমরা (পুলিশ) বাদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। রিফাত পুলিশ এসল্ট মামলার আসামি ঠিকই, কিন্তু সেই মামলার আইও আমি নই। পুলিশ এসল্ট মামলার আইও এসআই মিজানুর রহমান।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন মুহাম্মদ নাজমুল আহমেদ বলেন, আজিজুর রহমানকে ওখানে সবাই আজিজ বলে ডাকে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাদির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। তবে টাকার বিনিময়ে মামলা নথিভুক্ত করার অভিযোগটি সত্য নয়।


মন্তব্য

উপর