logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

পুলিশের কাছ থেকে ঘুষ খায় কে এই সোহলে ?


পুলিশের কাছ থেকে ঘুষ খায় কে এই সোহলে ?

মহেশপুর উপজেলার গোয়ালহুদা গ্রামের ঘরজামাই সোহেলের খুটির জোর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ? সোহেল বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভাল জায়গায় পোষ্টিং ও মিশনে পাঠানোর নাম করে দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকেও নিয়েছে ঘুষ। তার এই দক্ষ প্রতারনার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি।

 কেউ টাকা ফেরত চাইলে উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা করে দিচ্ছে। কারণ সোহেল কখনো এসপি, ডিআইজি আবার কখনো আইজির লোক পরিচয় দেয়। ফলে এমন একাধিক প্রতারিত পরিবার রয়েছে যারা চোখের পানি ফেলে দিন পার করছে। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে। মহেশপুর এলাকায় অঘোষিত রাম রাজত্ব কায়েম করেছে সোহেল। মানুষের কাছে কোটচাঁদপুর-মহেশপুরের রাজা। এ সব কারণে প্রশ্ন উঠেছে কে এই সোহেল ? তার খুটির জোরই বা কি ?



যেভাবে সোহেলের উত্থান

২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ-১ আসনের আ.লীগের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের লোকজনের কাছে তাড়া খেয়ে ঢাকা পালিয়ে আসে মিজানুর রহমান সোহেল। ঢাকায় থাকা অবস্থায় গোয়ালহুদা গ্রামের সুজা উদ্দিনের স্ত্রীর সাথে মোবাইলে ক্রোস কানেকশনে সম্পর্ক তৈরী করে। এক পর্যায় সুজা উদ্দিনের ৯ম শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে তানজিলা আক্তার বিথীর সাথে একই ফোনে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এইভাবে কিছু দিন যাওয়ার পর সোহেল ঐ মেয়েকে মাইক্রোবাস যোগে তুলে নিয়ে একমাস বাইরে থাকে। পরে মায়ের মধ্যস্থায় বাড়ী নিয়ে আসে। সেই থেকে গোয়ালহুদা গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু। খালিশপুর বাজারে ডাঃ মিঠুর দোকানে ওঠা-বসা করতে করতে হোমিও ডাক্তার রওশন আলীর সাথে পরিচয় হয়। একইভাবে পরিচয় হয় গোয়ালহুদা গ্রামের মোফাজ্জেল মাষ্টারের সাথে। একই গ্রামে দুজনের শ্বশুর বাড়ীর সুবাদে একে অপরের ভাইরা ভাই হিসাবে চলতে থাকে লেনাদেনা। সোহেল চতুর মানুষ এই তিনজনের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা ও লোকজনের চাকুরী দেওয়ার নাম করে অর্থ কালেকশন শুরু করে।

 ঝিনাইদহ এসপি আলতাফ হোসেন বদলি হওয়ার পর মিজাুনর রহমান যোগদান করেন এসপি হিসাবে। চতুর সোহেল খোজ নিয়ে জানতে পারে নবাগত এসপির শ্বশুর বাড়ী সুনামগঞ্জ জেলায়। এই বিষয়টি কাজে লাগিয়ে তার সাথে পরিচিত হয় এবং ঝিনাইদহ জেলায় পুলিশ নিয়ে খেলা খেলতে থাকে। মহেশপুর থানা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে ঘরজামাই মিজানুর রহমান সোহেল। এমন পজিশন অর্জন করে যে সোহেলের ফোন ডিনাই করার ক্ষমতা তৎকালীন ওসির ছিলনা। এখনো মহেশপুর থানার সেকেন্ড অফিসার প্রতারক সোহেলের বাড়িতে বসে থাকে। ইতিমধ্যে সোহেল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যায়। সে এখন টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছে। বিভিন্ন তদবির বাবদ তার কাছে টাকা আসতে থাকে।
 
 ২০১৫ সালে মহেশপুর থানায় কর্মরত এ.এস.আই (বর্তমান দামুড়হুদা থানায় কর্মরত) এস.আই শামছুলের সাথে মেহেরপুরে তার বাড়ীতে যেয়ে তার মাকে ধর্ম মা ডেকে তার এক ভাইকে পুলিশের চাকুরী দেওয়ার নাম করে ৭ লক্ষ টাকা এবং তাকে বিদেশে মিশনে পাঠানোর জন্য ২লক্ষ ৩০ হাজার মোট ৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। চাকুরী দিতে না পেরে শামছুলের ভাইকে একটি চেক দেয় সেই চেকে টাকা না পেয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে মেহেরপুর আদালতে চেক জালিয়াতি মামলা করে। মামলায় হাজিরা না দিয়ে উল্টো ঐ পুলিশ পরিবারের নামে ঝিনাইদহ আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
 
 ঐ সময় মহেশপুর থানায় কর্মরত এ.এস.আই সাত্তারকে বিদেশ মিশনে পাঠানোর নাম করে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা চাওয়ার কারণে তাকে এখান থেকে বদলী হয়ে চলে যেতে হয়। বর্তমানে ঢাকা উত্তর খান থানায় কর্মরত সাত্তার জানায়, তার কাছে সে এখনও টাকা পাবে। সে এই প্রতারক সোহেলের শাস্তি দাবী করেছে। এদিকে ২০১৭ সালে মহেশপুর থানায় কর্মরত কনস্টেবল (বকশি) ইউনুস আলীকে বিদেশ মিশনে পাঠানোর নাম করে তাকে ঢাকায় এক অফিস থেকে ঘুরিয়ে এনে ২ লক্ষ ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। যা আজও ফেরত পায়নি। কনস্টেবল ইউনুস বর্তমানে বাগেরহাট সদর থানায় কর্মরত আছে। ইউনুস কান্না জড়িত কন্ঠে মোবাইলে জানায়, সোহেল তার ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তিনি এর বিচার চায়।

মন্তব্য

উপর