logo
Floating 2
Floating

এক চুলা ১৩৫০, দুই চুলা ১৪৪০ টাকা করতে চায় তিতাস


এক চুলা ১৩৫০, দুই চুলা ১৪৪০ টাকা করতে চায় তিতাস

গ্যাসের দাম গড়ে ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে দেশের শিল্পমালিকদের শীর্ষস্থানীয় সব সংগঠনের নেতৃবৃন্দও হাজির ছিলেন। শুনানিকালে তারা দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন। নতুন এ প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে গৃহস্থালী পর্যায়ে দুই বার্নার চুলার জন্য গ্যাসের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এক বার্নার চুলার দাম ৭৫০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। এ প্রস্তাবনায় শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিতরণ এই কোম্পানিটি বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩.১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৭৪ টাকা, সিএনজিতে ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮.১০ টাকা, প্রি-পেইড মিটারে ৯.১০ (ঘনমিটার) টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬.৪১ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।

আবাসিকে একচুলা বর্তমান দর ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩শ ৫০টাকা, দুই চুলা ৮শ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪শ ৪০ টাকা, সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার ২.৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৪৪ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৯.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮.০৪ টাকা, শিল্পে ৭.৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪.০৫ টাকা, বাণিজ্যিকে ১৭.০৪ টাকার পরিবর্তে ২৪.০৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে দাম বৃদ্ধির শুনানিতে শিল্পমালিকদের বিভিন্ন সংগঠন প্রতিনিধি পাঠালেও এবারই প্রথম একসঙ্গে তিনটি সংগঠনের সভাপতি শুনানিতে উপস্থিত হন। এ সময় তারা বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পের বিকাশকে শুধু বাধাগ্রস্তই করবে না, ধ্বংস করে ফেলবে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (এসএমই) খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ একটি দেশের শিল্পের মেরুদ- বলা হয়ে থাকে এ খাতকে। আমাদের দেশে যেসব উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে এক-দুই কোটি টাকা নিয়ে ব্যবসা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এক রকম নিয়ম। আর যারা ৫শ-৭শ কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন, তাদের বেলায় ভিন্ন নিয়ম। এমন অসঙ্গতির পরও কিছু মানুষ সাহস করে ব্যবসায় আসছেন, থেকে যাচ্ছেন; নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এভাবে জ্বালানির দাম বাড়ালে এসব উদ্যোক্তার পথে বসতে হবে। এটি বিকাশমান অর্থনীতির ধ্বংস ডেকে আনবে।

এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেছেন, নতুন ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি এখনো আসেনি। বিইআরসি নিজেও জানে, আগামী এপ্রিলেও এ এলএনজি আসবে না। এর পরও অদৃশ্য ইশারায় বিইআরসি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে পুনরায় নির্ধারণ করতে চাইছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) থাকা না-থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, যে কমিশন ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে পারে না, সেই কমিশন থাকলেই কি, না থাকলেই কি জনগণ একদিন এমন প্রশ্নও তুলতে পারেন। শামসুল আলম আরও বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক ও বেআইনি।

বিতরণ কোম্পানিগুলো লাভ করার পরও গ্যাসের দাম বাড়াতে চাইছে। বিইআরসি যে ভর্তুকি নির্ধারণ করেছে, সরকার তা না দিলে জ¦ালানি নিরাপত্তা তহবিলে অলস পড়ে থাকা ৭ হাজার ৫শ কোটি টাকা থেকে ঋণ দিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো চালানো যেতে পারে। সরকার বলছে, পর্যায়ক্রমে ৪ হাজার ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আসবে। কিন্তু এতে কি পরিমাণ ব্যয় বাড়বে, তাও ভোক্তাদের অবগত করা উচিত। কারণ যারা গ্যাস ব্যবহার করবেন তারাই যদি না জানেন, তা হলে কি করে দাম পরিশোধ করবেন? শুনানিতে বিদ্যুতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩.১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৭৪ টাকা, সিএনজিতে ৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৮.১০ টাকা, প্রি-পেইড মিটারে ৯.১০ (ঘনমিটার) টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬.৪১ টাকা করার প্রস্তাব করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।


দৈনিক প্রজন্ম ডট কম/ জো, ই/২০১৯/১২

মন্তব্য

উপর