logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

পরীক্ষা চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধার নামের বিদ্যালয় ভেঙে দিলেন চেয়ারম্যান


পরীক্ষা চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধার নামের বিদ্যালয় ভেঙে দিলেন চেয়ারম্যান

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামান নামে একটি বিদ্যালয়ের ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিঞ্জুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ সিকদারের বিরুদ্ধে। তিনি তার লোকজন নিয়ে আজ শনিবার সকালে বিদ্যালয়ের একটি ঘর ভেঙে ফেলেছেন।

বিদ্যালয় ঘরটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওই চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যালয়ের এই ঘরটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গার ওপর করা হয়েছিল। যেহেতু ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নয়ন জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ হবে সে কারণে ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে বারবার ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা শোনেনি। বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়। তখন মৌখিকভাবে ঘরটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণে লোকজন দিয়ে ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঘর ভেঙে ফেলায় বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুনরায় স্কুল ঘরটি নির্মাণসহ দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামানের ছেলে ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান বলেন, ২০০৫ সালে আমি কাকডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সরকারি জায়গার ওপর আমার বাবার নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করি। প্লে গ্রুপ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলটিতে পাঠ দান করানো হয়। বর্তমানে সাড়ে তিন শ ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। শনিবার সকালে হঠাৎ করে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ সিকদার তার লোকজন নিয়ে এসে জোর করে স্কুল থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বের করে দেন। পরে স্কুল ঘরটি ভেঙে ফেলে পাশের খালে ফেলে দেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন অনিশচয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার দাবি করছি।

মুক্তিযোদ্ধা সাদেকুজ্জামানের স্ত্রী জয়নাব বিবি বলেন, জীবন বাজী রেখে আমার স্বামী দেশের জন্য যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছিল। সেই বীর যোদ্ধার নামের স্কুলটি আজ চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে ভেঙে ফেললো। আমি সরকারের কাছে এর উপযুক্ত বিচার চাই।

স্কুলটির অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হুমায়রা খানম, সোহাদা খানম, সোয়ামনিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, বর্তমানে আমাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছে। শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র দিয়েছে এ সময় চেয়ারম্যান ও তার লোকজন স্কুলে এসে আমাদের গালি গালাজ করে ক্লাস রুম থেকে বের করে দেয়। পরে আমাদের স্কুলটি ভেঙে দেয়। আমরা এখন কিভাবে লেখাপড়া করবো?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, হঠাৎ করে স্কুলটি ভেঙে ফেলায় আমাদের সন্তানেরা কিভাবে পড়া-লেখা করবে তা ভেবে পাচ্ছি না।

অভিযুক্ত পিঞ্জুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাইদ সিকদার আরো বলেন, বছরের শুরু থেকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কামরুজ্জামানকে ঘরটি সরিয়ে নিতে বলা হচ্ছিল। কিন্তু তিনি তা সরিয়ে নেয়নি। আগামী জুনের মধ্যে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সীমানা প্রচীরের কাজ না করলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে যাবে। উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভা থেকে স্কুলটি সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তাই আমি সরিয়ে ফেলেছি।

কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষা গ্রহণ করাটা ছাত্র-ছাত্রীদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার কেউ হরণ করতে পারে না। স্কুল ভাঙার বিষয়টি আমি জেনেছি। চেয়ারম্যানের সাথে এ বিষয়ে আমার মুঠোফোনে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, জায়গাটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের। সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ঘর তুলেছিলেন। সেটি তিনি তার লোকজনকে দিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। চেয়ারম্যান যেটি করেছেন সেটি আইন সম্মত নয়। এ বিষয়ে অভিযোগ আসলে তিনি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

মন্তব্য

উপর