logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

বিনা অপরাধে আরেক জাহালম কারাগারে, এবার আঁধার কাটছে তার


বিনা অপরাধে আরেক জাহালম কারাগারে, এবার আঁধার কাটছে তার

সাজাপ্রাপ্ত এক মাদককারবারির পরিবর্তে তিন বছর ধরে কারাগারে বন্দি রাজধানীর পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমানের মামলার যাবতীয় নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের কপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগর দায়রা জজকে হাইকোর্টে নথি দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৬ মে পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া কেন আরমানকে আটক রাখা অবৈধ ঘোষণা করা হবে না; কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হবে না; কেন তাকে হাইকোর্টে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেন তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ঢাকার পুলিশ সুপার, পল্লবী থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত রবিবার ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

নির্দোষ জাহালমের মুক্তির পরও তার তিন বছরের কারাবাস আমাদের বিবেককে যখন প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তখন এর রেশ না কাটতেই আরেক জাহালমের গল্প উঠে আসে গত ১৮ এপ্রিল দৈনিক আমাদের সময়ে প্রকাশিত ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। সেই আরেক জাহালম হচ্ছেন আরমান। বেনারসি কারিগর এ যুবক মৃগীরোগী। তিন বছর আগে সাজাপ্রাপ্ত এক মাদককারবারির পরিবর্তে পুলিশ ধরে নিয়েছিল। এর পর সাজাপ্রাপ্ত সেই মাদককারবারির পরিচয়েই তাকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছিল। আইন তাকে ঠেলে দিয়েছে জেলে। নির্দোষ আরমান সেই থেকে বন্দি। সন্তানের জন্য তিন বছর ধরে অশ্রু ঝরছে বানু খাতুনের। ঘুরেছেন অনেকেরই দুয়ারে; কিন্তু কোনো ফল পাননি। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এ প্রতিবেদন সংযুক্ত করে গত রবিবার হাইকোর্টে রিট করে ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন।

গতকাল এ নিয়ে শুনানির পর রুল জারি করেন আদালত। এর পরও চোখে জল বুড়ো বানু খাতুনের। আশার অশ্রু ঝরছে তার- শিগগিরই হয়তো কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বুকে ফিরে আসবে তার সন্তান। হাইকোর্টে করা ফাউন্ডেশনের রিটে আরমানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা ও মুক্তি চেয়ে; কারাগারে রাখায় তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়ে এবং আরমানের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারির আর্জি করা হয়। এতে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পল্লবীর ওসিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। গতকাল ওই রিটের শুনানির পর দেওয়া আদেশে আদালত আরমানের মামলার যাবতীয় নথি তলবের পাশাপাশি এ আদেশের কপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঢাকা মহানগর দায়রা জজকে হাইকোর্টে নথি দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আগামী ৬ মে পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। শুনানির পর আদেশের এসব বিষয় আমাদের সময়ের কাছে তুলে ধরেন রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব। গতকাল রিটের শুনানির সময় আদালতে আরমানের মা বানু খাতুন ও তার বোনের স্বামী নাদিম উপস্থিত ছিলেন। তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনায় দায়ী সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এদিকে আরমানের কারাবাসের বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মিরপুরের পল্লবী জোনের এডিসি শাহেনশা মাহমুদকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল শাহেনশাহ মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, ঘটনাটি সত্য হলে অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরাও চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অন্যের সাজা খাটুক।

এই ঘটনায় গঠিত কমিটির তদন্তের পর আরমানের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় তদন্তসংশ্লিষ্ট কারও দোষ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না, বলেন তিনি। কারাগারের দেবদূত খ্যাত ব্রিটেনের কালজয়ী মানবাধিকারকর্মী এলিজাবেথ ফ্রাই বলেছেন, সাজা প্রদান করা হয় অপরাধ কমানোর জন্য, অপরাধীর সংশোধনের জন্য। একজন নির্দোষ, নিরপরাধ মানুষ অন্যায়ভাবে সাজা ভোগ করবে, আইনে তা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং নিরপরাধ কাউকে সাজার খড়্গ থেকে রক্ষায় প্রয়োজন হলে দশজন অপরাধীকেও ক্ষমা করে দিতে হয়। এসব চিরকালীন দর্শন আরমানের জীবনে প্রহসন হয়ে দেখা দিয়েছে। সে প্রহসনের শেষ হোক, বানু খাতুন ফিরে পাক তার নাড়িছেঁড়া ধনকে- বিবেকবান মানুষমাত্রই এমন প্রত্যাশা করছেন। -আমাদের সময়



দৈনিক প্রজন্ম ডট কম/ জো, ই/ ১৯/

মন্তব্য

উপর