logo
Floating 2
Floating

পীযূষকে গ্রেফতারের দাবি, শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ


পীযূষকে গ্রেফতারের দাবি, শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ

দাড়ি-টুপি ও টাখনুর উপর কাপড় পরা ‘জঙ্গিবাদের লক্ষণ’ বলে প্রচারিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’-নামের একটি সংগঠন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। এরপরই বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন তাদের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনটির প্রধান অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতার ও ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবিতে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। এ ছাড়াও সারা দেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইফতার মাহফিলে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নিজামী বলেন, যারা বলে দাড়ি-টুপি ও টাখনুর উপর কাপড় পরা জঙ্গিবাদের আলামত মূলত তারাই প্রকৃত জঙ্গি। এই কুচক্রী মহল চায় না এ দেশে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠুক। ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠন ইহুদিদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সব মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এদিকে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, তথাকথিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’-এর প্রধান পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় দাড়ি-টুপি ও টাখনুর উপর কাপড় পরা জঙ্গি লক্ষণ বলে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর হামলা করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করি, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমুসলিমদেরও প্রতিবাদ করা উচিত। সরকারকে অবিলম্বে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার ও ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক উগ্রবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে এ দেশের ইসলামপ্রিয় জনতা আগামীতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।

ইফতার মাহফিলে আরো বক্তৃতা করেন- খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা আব্দুর রশিদ মজুমদার, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিমউদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী প্রমুখ।

ইসলামের মৌলিক বিধানকে ‘জঙ্গিবাদের’ লক্ষণ হিসেবে প্রচারের নিন্দা ছাত্রশিবিরের
‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের সংগঠন কর্তৃক দাড়ি রাখা ও টাখনুর ওপর কাপড় পরিধানসহ ইসলামের বেশ কিছু মৌলিক বিধানকে ‘জঙ্গিবাদের (সন্ত্রাসবাদ)’ লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসাইন ও সেক্রেটারি জেনারেল মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ৭ মে রোববার দেশের প্রায় প্রতিটি জাতীয় দৈনিকে সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি সদস্য’ শনাক্তকরণের ২৩টি উপায় জানিয়ে প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন দিয়েছেন সংগঠনটির আহ্বায়ক অভিনেতা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় তার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপনটিতে সন্দেহভাজন ‘জঙ্গি’ চেনার যে বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে ধর্মীয় বিষয়ে পড়াশুনা বৃদ্ধি, ধর্মীয় উপদেশমূলক কথাবার্তা বলা, ইসলামী শাসনব্যবস্থা, শরিয়া আইনে আগ্রহ প্রকাশ করা, ধর্মচর্চার প্রতি ঝোঁক, দাড়ি রাখা ও টাখনুর ওপরে কাপড় পরিধানসহ কিছু মৌলিক ইসলামী অনুশাসনের বিষয়। 

নেতৃদ্বয় বলেন, এগুলো সুস্পষ্টভাবে ইসলামের মৌলিক বিষয় এবং এ বিষয়গুলোকে তাচ্ছিল্য করা মানে সরাসরি ইসলামকে অবমাননা করা। ইসলামের এ বিষয়গুলো কোনোভাবেই জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে না বরং সঠিকভাবে ইসলাম চর্চার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে। প্রকৃত ইসলাম চর্চার সাথে জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ দেশের ইসলামপ্রিয় ছাত্রজনতা এ মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলেন এবং একই সাথে তারা জঙ্গিবাদকেও ঘৃণা করেন। মূলত জঙ্গিবাদকে পুঁজি করে ইসলামী অনুশাসন থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতেই সুপরিকল্পিতভাবে উদ্দেশ্যমূলক এসব প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা বিদ্বেষের প্রতিফলন। এই উদ্যোগ যে ইসলামী মূল্যবোধকে ধ্বংস করার সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ষড়যন্ত্রমূলক উদ্যোগ সম্প্রীতি রক্ষা করবে না বরং বিনষ্ট করবে।

এদিকে শিবির নেতারা বলেন, সঠিকভাবে ইসলামের চর্চা ও বাস্তব জীবনে ইসলামের অনুসরণই জঙ্গিবাদ থেকে যুবসমাজকে মুক্ত রাখতে পারে; কিন্তু পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড প্রকৃতপক্ষে উসকানিমূলক। এ বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে। বাংলার ইসলামপ্রিয় ছাত্রজনতা ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা অবিলম্বে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রচারণা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা বলতে চাইÑ ইসলাম নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ এ ধরনের আচরণের জন্য পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, জঙ্গিবাদকে পুঁজি করে ইসলামবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র দেশবাসী মেনে নেবে না। বিজ্ঞপ্তি।

মন্তব্য

উপর