logo
Floating 2
Floating

আল-কুরআনে তাকওয়ার প্রতি উৎসহ (পর্ব - ৪র্থ)


আল-কুরআনে তাকওয়ার প্রতি উৎসহ (পর্ব - ৪র্থ)

আল-কুরআনে তাকওয়ার প্রতি উৎসহ 


১। وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِযে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দু’টি উদ্যান।(সূরা আর রহমান ৫৫ঃ৪৬) এ আয়াতে রব্বুল আলামীন মুত্তাকীর জন্য দু‘টি জান্নাতের ওয়াদা করেছেন।
২। وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ * فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,*তার ঠিকানা হবে জান্নাত।(সূরা নাযিআত ৭৯/ ৪০-৪১) আয়াতদ্বয়ে জান্নাতের পুরুষ্কারের কথা বলে অনুপ্ররণা দিয়েছেন আল্লাহ পাক।
৩।قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍআপনি বলুন, আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হতে ভয় পাই কেননা, আমি একটি মহাদিবসের শাস্তিকে ভয় করি।(সূরা আনআম ৬ঃ১৫) অত্রসূরার অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনঃ- وَأَنذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَن يُحْشَرُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُم مِّن دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَআপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে, তাদের কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না-যাতে তারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।(সূরা আনআম ৬ঃ৫১)
৪।إِنَّا نَخَافُ مِن رَّبِّنَا يَوْمًا عَبُوسًا قَمْطَرِيرًاআমরা আমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের ভয় রাখি।(সূরা আদ দাহর ৭৬ঃ১০)
৫। وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِএবং যারা বজায় রাখে ঐ সম্পর্ক, যা বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন এবং স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবের আশঙ্কা রাখে।(সূরা আর রাদ ১৩ঃ২১)
৬।رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُএমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামায কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।(সূরা আন নুর ২৪ঃ৩৭)

আয়াত সমূহ দ্বারা বুঝা যায় মুমিন বান্দা তাই আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিনকে অতিভয় করে এবং তাঁর জন্য যথাসাধ্য প্রত্তুতি গ্রহণ করে। এতদসত্তেও তারা গোপনে ত্রæটি ও অপ্রকাশ্যে পাপ প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার আশংক্ষায় সন্ত্রস্ত হয়ে কাঁদে। তারা সেদিনের ভয় করে যেদিন চোখ নি¤œগামী হবে, কন্ঠস্বর থেমে যাবে, এদিক সেদিক তাকানো বন্ধ হয়ে যাবে। সকল গোপনীয়তা প্রকাশ হবে, আড়ালের পাপ বেরিয়ে পরবে, মানুষ তার মামলা নামা নিয়ে চলবে, ছোটরা বৃদ্ধ হয়ে যাবে বৃদ্ধরা উম্মাদ হয়ে পড়বে। বন্ধুরা কেউ উপকারে আসবে না। জাহান্নাম দৃষ্টির সামনে চলে আসবে। কাফেররা হতাশ হয়ে পড়বে। মানুষের চেহারা বিক্রত হয়ে যাবে এবং তাদের বাকশক্তি বন্ধ করা হবে কথা বলবে তাদের অঙ্গ-প্রতঙ্গ। সেই দিনের জন্য সকলের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সেদিন যাতে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সে জন্য মহান আল্লাহ তা‘আলার দরবারে বিনীত প্রার্থনা করতে হবে এভাবে।تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَতাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।(সূরা সাজদা ৩২/১৬) অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন,كَانُوا قَلِيلًا مِّنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ * وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَতারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, * রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত,(সূরা আজ জারিয়াত ৫১ঃ১৭ও১৮) এমনি ভাবে আল-কুরআনে প্রায় ২০০ টি স্থানে আল্লাহ তা‘আলা তাকওয়ার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে তাকওয়ার গুরুত্ব, মর্যাদা, লাভ, পুরুস্কার ইত্যাদি। আল কুরআনে এত অধিকবার এ বিষয়টির উল্লেখ করার দ্বারা এর গুরুত্ব সহজেই অনুমিত হয়।

তাফসীরে মুরাদুর রহমান ফী তাদাব্বুরে কুরআন 

 লেখক মুরাদ বিন আজাদ 

মন্তব্য

উপর