logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

নরসিংদীর কারাগারের ভিতরে সীমাহীন দুর্নীতি


নরসিংদীর কারাগারের ভিতরে সীমাহীন দুর্নীতি

কথায় আছে ‘টাকা দিলে বাঘের দুধ মেলে।’ যদিও বাঘের দুধ দুষ্প্রাপ্য তবে
টাকা খরচ করলে পাওয়া যায় না পৃথিবীতে এমন কিছু নেই।
নরসিংদীতে অবস্থিত কারাগারের চিত্র যেন এমনই। কারাগারটিতে পদে পদে চলছে
ঘুষের লেনদেন। স¤প্রতি কারাগারের অনিয়ম ও বর্তমান দৈন্যদশা নিয়ে বন্দিদের
কাছ থেকে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জামিন প্রাপ্ত আসামীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ‘নরসিংদীর কারাগারের
প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে জামিন শাখা, কারা হাসপাতাল, খাবার ক্যান্টিন,
বিভিন্ন ওয়ার্ড ও অন্য কারাগারে বদলির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে
নিচ্ছেন অসাধু কর্মকর্তারা।’ এছাড়া টাকার জন্য বন্দিদের শারীরিকভাবে
নির্যাতনেরও অভিযোগ আছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের ভেতরে অবস্থিত হাসপাতালে তৈরি হয়েছে একটি
সিন্ডিকেট। সেখানকার চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টরা এ সিন্ডিকেটের
সদস্য। সুস্থ হোক কিংবা অসুস্থ, টাকা লেনদেন হলেই ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা
সুস্থ কয়েদিকে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে নেন।
শুধু তাই নয় হাসপাতালের সাথে কেস্টো ফাইল এর সামনে রয়েছে একটি ক্যান্টিন।
এই ক্যান্টিনে ১০ টাকার জিনিস ৬০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। প্রতিটি
ওয়ার্ডে একটি সীটের জন্য ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়
বন্দিদের।
প্রতিটি ওয়ার্ডের রাইটার রাখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১ লক্ষ ৫০
হাজার টাকা উঠানো হয় প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে। এই টাকা বড় সাহেব সহ
প্রতিটি কর্মকর্তাই নাকি ভাগভাটোয়ারা করে নেয় বলে বলেন বন্দিরা।
শুধু তাই নয় এই নরসিংদী কারাগারটি ধারণ ক্ষমতা ছিল ২৪৪ জনের। কিন্তু
বর্তমানে ৯৬৫ জন বন্দি অবস্থান করে আছেন এই কারাগারে। ঈদের আগে জামিন
প্রাপ্ত হয়েছে ১৫০ জন।
এই বিষয়ে আজ ৬ জুন বৃহস্পতিবার নরসিংদী কারাগারের দায়িত্বে থাকা রেজাউল
করিমকে সংবাদ কর্মী রুদ্র জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, বন্দিদের যতটুকু
সহযোগিতা করা দরকার আমরা তা করছি। কিন্তু সাক্ষাতে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাক্ষাতে টাকা নেওয়া এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ও
বিনামূল্যে বন্দিদের সাথে সাক্ষাত করার সু-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু যতটাই হোক না কেন আসলে জেলখানার ভেতরে রয়েছে ঘুষের জমজমাট
ব্যবস্থা।
এদিকে রায়পুরা উপজেলা থেকে আসা মোঃ ফয়সাল মিয়া বলেন, তার ভাই দীর্ঘ
তিন মাস যাবৎ মাদক মামলায় আটক আছে। তিন মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়া
হয়েছে এই কারাগরের ভিতরে। তারপরও তার ভাই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন এখানে।
টাকা হলেই মিলে ক্যান্টিনের খাবার।

মন্তব্য

উপর