logo
Floating 2
Floating

নরসিংদী কারাগারে জমজমাট ঘুষ বাণিজ্য, ১ কেজি মুরগীর মাংস ১১০০ টাকা


নরসিংদী কারাগারে জমজমাট ঘুষ বাণিজ্য, ১ কেজি মুরগীর মাংস ১১০০ টাকা

শুনেছি বন্দি জীবন নাকি ভাল হওয়ার একটি লক্ষণ। তাই অনেক অভিভাবকগন সন্তানদের ভাল করার জন্য আইনের সহায়তা নিয়ে দেয় কারাগারে। সেই কারাগারেই চলে জমজমাট ঘুষের বাণিজ্য সহ বিভিন্ন দূর্নীতি।


নরসিংদী  জেলা কারাগারে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে কারাভ্যন্তরে চলছে ঘুষের জমজমাট বাণিজ্য। এখানে বন্দিরা টাকা দিয়ে ওয়ার্ড-৪ এর সিরির নিচে বসায় জুয়ার আড্ডা। শুধু তাই নয় এই কারাগারে এক কেজি মুরগীর মাংসের দাম ১১ শত টাকা ও ১ কেজি গরু মাংসের দাম ১৬ শত টাকা। বিভিন্ন কোম্পানীর ঠান্ডা, চীপ, সিগারেট সহ বিভিন্ন পণ্য ৪গুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে এই কারাগারের ক্যান্টিন থেকে।


প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে রাইটার রেখে জন প্রতি ৩-৭ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে উঠানো হয় বন্দিদের কাছ থেকে। কেউ আবার টাকা না দিতে পারলে তাকে বাথরুমের পাশে দাড় করিয়ে রাখে রাইটাররা।


এদিকে আজ শনিবার ৮ জুন নরসিংদী কারাগারে স্বামীকে দেখতে আসা এক মহিলা মোসাঃ শাহিদা আক্তার (৪০) সংবাদ কর্মীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘ ৩ মাস যাবৎ একটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এই কারাগারে আছে। আমার স্বামীকে রাখার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দিতে হয় এই জেলখানার ভেতরে ও ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খেতে লাগে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা।


অভিযোগ রয়েছে কারাগারের রাইটার, ম্যাট, পাহারা, সিআইডিরা সবচেয়ে বেপরোয়া। তারা কারাগারে আসা নতুন হাজতিদের বিভিন্নভাবে জুলুম-অত্যাচার করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলেই তাকে মারধর করা হয়। তাদের ভাষায় নতুন বন্দিরা হচ্ছে ‘মুরগি’। নতুন হাজতিকে কারাগারে একটু ভালো মতো শোয়ার জায়গা পেতে হলে তাদের যে কোনও একজনকে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হয়। এই টাকার পরিমাণ এক মাসের জন্য ৭ হাজার। এক সেল থেকে কোনও বন্দি অন্য সেলে যেতে চাইলেও মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারলে হাজতিদের ‘ইলিশ ফাইলে’ (এক কাতে) শোয়ানো হয়, যাতে তারা রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে না পারে। আর এই টাকা বণ্টন হয় কারাগারের অসৎ এক শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন রাইটার বা পাহারা বা এই পদের একেকজন বন্দি প্রতি মাসে কারাগারে থেকেই মোটা অংকের টাকা আয় করে থাকে বলে জানা যায়।


ফলে সাধারণ বন্দি কারাগারের ভেতরকার জীবনযাপনে অসহনীয় ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছে। এমনও অবস্থার কথা শোনা গেছে, ওয়ার্ডে জায়গা ঘাটতির কারণে ঠিকমতো তারা ঘুমাতে পর্যন্ত পারে না, একজনের পর আরেকজন, পালাক্রমে ঘুমাতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে আসামির পক্ষে যদি কারা কর্তৃপক্ষকে সন্তুষ্ট করার সাধ্য থাকে তাহলেই জোটে সামান্য থাকার জায়গাটুকু।


কারাবিধি অনুযায়ী একজন কয়েদি প্রতিদিন ৭২.৯০ গ্রাম মাছ, ৭৭.৯০ গ্রাম মাংস কিংবা ১৩৩.২৮ গ্রাম সবজি এবং ১৪৫.৮০ গ্রাম ডাল পাওয়ার অধিকারী হলেও কিছু অসাধু কারা কর্মচারীর কারণে পরিমানে অনেক কম খাবার সরবরাহ করা হয়, যা তাদের প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য খুবই অপ্রতুল। তাছাড়া যে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে সেগুলো খুবই নিুমানের। খাবার হিসেবে কেবল ভাত আর আলু ভর্তা দেয়া হয় বলে মুক্তি পাওয়া ভুক্তভোগী অনেক আসামি অভিযোগে জানিয়েছে। তবে যাদের টাকা আছে তারা ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খেতে পারছে। কারাবিধি অনুসারে সাধারণ বন্দিরা দৈনিক ২৮০০ থেকে ৩০০০ ক্যালরি খাদ্য পায়, যেটা জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি ইন্সটিটিউট যথেষ্ট বলে মনে করছে। তবে এই পরিমাণ খাবার এখন বন্দিদের দেয়া হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।


এই বিষয়ে নরসিংদী কারাগারে দায়িত্বে থাকা জেলসুপার মুজিব এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ৬ জুন সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদ টুকু মুছে ফেলার জন্য হুমকি প্রদান করেন ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথাটুকু এড়িয়ে যান। সকলের সাথে সু-সম্পর্ক তৈরী করছেন নাকি তিনি।

মন্তব্য

উপর