logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

মনের রাগ মেটাতে বিয়ে করে এনে স্ত্রীকে বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণ করায় স্বামী!


মনের রাগ মেটাতে বিয়ে করে এনে স্ত্রীকে বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণ করায় স্বামী!

মনের রাগ রাগ মেটাতে ইসলামিক শরা-শরিয়ত মতে কলমা পড়ে বিয়ে করার পর স্ত্রীকে বাড়িত বন্ধুদের দিয়ে গণধর্ষণ করায় সুমন নামের এক স্বামী।
ঘটনার পর এর সাথে জড়িত গণধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হওয়া টিপু সুলতান। পরে টিপু সুলতান গত শনিবার (৮ জুন) বিকালে নেত্রকোণা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল ম্রংয়ের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
টিপু সুলতান নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বৈরাটি গ্রামের রঙ্গু মিয়ার ছেলে বলে জানা যায়।
ঘটনার পর কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, স্বীকারোক্তিতে টিপু সুলাম বলেন, কেন্দুয়ার স্থায়ী বাসিন্দা গণধর্ষণের শিকার ওই নারী ঢাকার অদুরে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে নূর নামে তার এক সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে কাজী অফিসে গিয়ে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে হয়। সেসময় নূর তার প্রকৃত নাম পরিচয় গোপন করে সুমন নামে পরিচিত হয়ে ওই নারীকে বিয়ে করেন।
নূর কেন্দুয়া উপজেলার বৈরাটি গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। মূলত প্রথমদিকে নূরের দেওয়া বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল ওই নারী। তারপর থেকে ওই নারীর পেছনে লেগে থাকে নূর। অপরদিকে ওই নারীও বিভিন্ন সময় আইনের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি জনসম্মুখে নূরকে অপমান করতেন। কিন্তু সবশেষে দেখা যায় নূরের চেষ্টা সফল হয় এবং বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয় ওই নারী। পরে দুজনের বিয়ে হয়।
এদিকে বিয়ের পর নূর তার নব স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ি থেকে ঘুরে আসেন। তখনও নূর বিয়ের আগে ওই নারীর করা অপমান ধরে রেখে মনে রাগ পুষে রেখেছিলেন। আর সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই নূর গত (৬ জুন ঈদের পরদিন) বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হন। ঘুরাফেরার এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের কুন্ডলি গ্রাম এলাকায় এক ইটখলার সামনে পৌঁছে নাটকীয়ভাবে নিজের স্ত্রীকে এলাকার বন্ধুদের দিয়ে ধর্ষণ করায়। এ সময় নূর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধুদের হাতে মারপিট খাওয়াসহ আটক হওয়ার নাটকীয় অভিনয় করেন।
কিন্তু নূর স্ত্রী গণধর্ষণ হওয়ার পর স্ত্রীকে ফেলেই ধর্ষকদের সাথেই চলে যায়। স্বামী আত্মগোপনে যাওয়ার পরও ওইদিন রাতেই নির্যাতিত ওই নারী কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ মামলার তদন্তে নেমে টিপু সুলতানকে গ্রেফতার করারর পর বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
এ ব্যাপারে আরো জানতে কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের মঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ঘটনা নিশ্চিত করে দৈনিক প্রজন্ম.কমকে জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বৈরাটি গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে আনোয়ার মিয়া ও আব্দুল কাদিরের ছেলে আমির হামজাকে গতকাল (৮ জুন) শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দু'জন কারাগারে আছে, আর নূর পলাতক। তবে নূরসহ তারা প্রত্যেকেই পরস্পরের বন্ধু এবং একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানান ওসি।

মন্তব্য

উপর