logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

আকাশের তৈরি ইতালিয়ান ল্যাম্বোরগিনি দাপাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাস্তা (ভিডিওসহ)


আকাশের তৈরি ইতালিয়ান ল্যাম্বোরগিনি দাপাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রাস্তা (ভিডিওসহ)

বাংলাদেশের রাস্তায় দ্রুতবেগে চলছে বাংলাদেশির তৈরি ল্যাম্বোরগিনি ব্রান্ডের গাড়ি! এই বিষয়টি শোনে বা দেখে হয়তো অনেকেই ভাববেন কোনো বিদেশি গাড়িটি ক্রয় করে দেশের রাস্তায় চালাচ্ছেন। অথবা মনে করতে পারেন এটি কোনো বিদেশি গাড়ি, কিংবা বিদেশি গাড়ির বডি খুলে নতুন করে রিকন্ডিশন করা হয়েছে। কিন্তু যারাই এরকম মনে করবেন তারাই ভুল করবেন। কারণ ‘ল্যাম্বোরগিনির’ আদলে একটি গাড়ি নিজেই তৈরি করেছেন নারায়ণগঞ্জের আকাশ আহমেদ। 

আকাশের তৈরি গাড়িটি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে পারে। পুরো গাড়িটি তৈরি করতে তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে গাড়ির বডি কার্বন ফাইবারে নিয়ে আসলে ৩ লাখ টাকাতেও বানানোও যাবে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম লামাপাড়া এলাকার মো. নবী হোসেনের ছেলে আকাশ আহমেদ। ছোট বেলা থেকেই আকাশ ছুঁয়া স্বপ্ন দেখতেন আকাশ। তার পরিবার জানায়, ছোট বেলা থেকেই নিজের তৈরি গাড়িতে চড়ার শখ ছিল আকাশের। স্বপ্নের শুরু দেড় বছর আগে। অটোরিকশা নির্মাণের গ্যারেজ থেকে বডি তৈরি করতে করতে এক সময় আকাশ বাবার কাছে প্রস্তাব দিলো গাড়ি বানানোর। আর আকশের বাবাও নবী হোসেন ছেলেকে অনুমতি দিলেন গাড়ি নির্মাণের জন্য। সেই থেকেই যাত্রা শুরু আকাশের। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতালির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে থাকেন তিনি।

গাড়ি নির্মাণ করার জন্য বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন একশ-দু’শ করে টাকা নিয়েই অল্প অল্প করে কাজ শুরু করেন আকাশ। ইউটিউবে টিউটোরিয়াল দেখে ও জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা থেকে ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করেন। ল্যাম্বোরগিনির আদলে গাড়ির নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, জোড়াতালি সবই নিজের হাতে তৈরি করেন তিনি।

আকাশ আহমেদ বলেন, ‘গাড়ির চাকা আর স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবল কিনে আনা হয়েছে। বাকি সব কিছু আমার নিজের হাতে তৈরি। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট, ব্যাকলাইট, গিয়ার, এসবও আমার নিজের হাতে তৈরি। যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রায় দেড় বছরের টানা প্রচেষ্টায় আজ সেটি পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে পরিণত হয়েছে।’ 

আকাশ বলেন, গাড়িটিতে প্রায় ৫টি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। যেটি প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে পারে। আর এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সময় নেবে ৫ ঘণ্টা। আর রাস্তায় নামলে দুইজন আরোহীকে নিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে গাড়িটি।

সম্প্রতি আকাশের এই গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় চালানো হয়। সেখানে দেখা যায় একদম ল্যাম্বোরগিনি ব্রান্ডের গাড়ির মতোই ছুটে ছলছে গাড়িটি। গাড়িটির লাইটিং সিস্টেম চোখ ধাঁধানোর মতো। গাড়ি তৈরির কাজটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে গাড়িটি বাজারজাত করার জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চায় আকাশ। এই গাড়ির নকশা কারও কাছে বিক্রি করতে চান না তিনি।

আকাশ আহমেদ বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি দেখিয়ে ২৫টি গাড়ি তৈরির অর্ডার পেয়েছি। বাজারজাত করলে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকাতেই মানুষ পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি ব্যবহার করতে পারবে। ব্যক্তিগতভাবে আরেকটি গাড়ি বানানোর ইচ্ছা আছে। তবে সেটির মডেল আপাতত জানাতে চাই না।

জাপান কিংবা ইতালি গাড়ি তৈরি করে সবসময়ই হৈচৈ ফেলে দেয় বিশ্ব বাজারে। আর তার ধারাবাহিকতায় বিশ্বের গাড়ির বাজারে অনেকটা স্থান দখল করে আছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন কিছুই নেই। এই অবস্থার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় নিজের তৈরি ল্যাম্বোরগিনি গাড়ি চালালেন স্থানীয় ছেলে আকাশ। বাংলাদেশিরাও চায় এরকম কিছু বিপ্লব ঘটুক বাংলাদেশে। সামনের সময়ই হয়তো বলে দেবে আকাশের দেখানো আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন কতো দূর এগোতে পারে। আর তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক বছর।


মন্তব্য

উপর