logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

সালাতের উদ্দেশ্য কী? এ বিষয়ে আল-কুরআন কী বলে!


সালাতের উদ্দেশ্য কী? এ বিষয়ে আল-কুরআন কী বলে!

সালাতের উদ্দেশ্য কী? এ বিষয়ে আল-কুরআন কী বলে! 

আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে সকল ইবাদাত ফরজ করার ক্ষেত্রে এক বা একাধিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সালাত ফরজ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলা অনেকগুলো লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন যা আল কুরআনে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে বর্ণিত হয়েছে। দেখা যাক সালাতের ফরজ করার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধরিত লক্ষ্য সমূহ কি? কি?

১। অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা।
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ
আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামায কায়েম করুন। নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। (সূরা আনকাবুত ২৯ঃ৪৫)

২। সর্বক্ষনিক আল্লাহ তা‘আলার স্বরণে জাগ্রত রাখা।

إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। (সূরা ত্বাহা ২০ঃ১৪)

৩। রব্বুল আলামীনের অনুগ্রহ লাভ করা।
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও। (সূরা নূর ২৪ঃ৫৬)

৪। সালাতের মাধ্যমে ঈমানদারদের মুত্তাক্বী ও মুহসীন বানানোর লক্ষ্যে।

ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ - الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। (সূরা বাক্বারা ২ঃ২-৩)

إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত। (সূরা লুকমান ৩১ঃ৩৪)

৫। সালাত বান্দার মন্দ কাজ সমূহ মিটিয়ে দেয়।

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ
আর দিনের দুই প্রান্তেই নামায ঠিক রাখবে, এবং রাতের প্রান্তভাগে পূর্ণ কাজ অবশ্যই পাপ দূর করে দেয়, যারা স্মরণ রাখে তাদের জন্য এটি এক মহা স্মারক। (সূরা হুদ ১১ঃ১১৪)

৬। পরকালীন সফলতা অর্জন।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা হজ্জ ২২ঃ৭৭)

৭। সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ।

كَلَّا لَا تُطِعْهُ وَاسْجُدْ وَاقْتَرِب
কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন। (সূরা আলাক ৯৬ঃ১৯)


তাফসীরে মুরাদুর রহমান ফী তাদাব্বুরে কুরআন 

 লেখকঃ মুরাদ বিন আজাদ

মন্তব্য

উপর