logo
Floating 2
Floating

সকল দুর্নীতিকে ছাড়িয়েছে ২২ হাজার টাকায় কেনা মোবাইল চার্জার!


সকল দুর্নীতিকে ছাড়িয়েছে ২২ হাজার টাকায় কেনা মোবাইল চার্জার!

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বালিশ আর চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দা দুর্নীতির মতো এবার একটি মোবাইল চার্জার কেনার দাম দেখানো হয়েছে ২২ হাজার ২৯০ টাকা।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কর্মকর্তাদের জন্য ২০১৭ সালে কেনা হয় কিছু মোবাইল ফোন, আইপ্যাড, মোবাইলের কভার ও চার্জার। সেই কেনার বিবরণে এমন দাম দেখানো হয়েছে। ওই কেনাকাটার বিবরণ সম্প্রতি সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট দফতরে দাখিল করা হয়।

আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লার (বর্তমানে অবসরে) নামে মোবাইল চার্জার কিনতে ২২ হাজার ২৯০ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। আইডিআরএ থেকে এ টাকা দেয়া হয় চেকের (চেক নম্বর-২২৯২৯৩৪) মাধ্যমে।

আইডিআরএ’র খরচের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আইডিআরএ’র টাকায় আরেক সদস্য জুবের আহমেদ খানের (বর্তমানে অবসরে) জন্য ৯২ হাজার ৬৩০ টাকা দিয়ে মোবাইল সেট ও কভার কেনা হয়। আরেক সদস্য মো. মুরশিদ আলমের (বর্তমাসে অবসরে) জন্য আইডিআরএ’র টাকা দিয়ে ৮১ হাজার ৯৯৯ টাকা দিয়ে মোবাইল সেট কেনা হয়। বর্তমান সদস্য গকুল চাঁদ দাসের জন্য এক লাখ ৯১ হাজার ৬৫০ টাকায় কেনা হয় আইফোন ও আইপ্যাড।

এ ছাড়া সদস্য সুলতান উল আবেদীন মোল্লার বিদেশ ভ্রমণবাবদ দুই দফায় খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। এর মধ্যে ২২৯৩০৬১ নম্বর চেকের মাধ্যমে সাবেক এ সদস্যের বিদেশ ভ্রমণের খরচবাবদ দেয়া হয় এক লাখ ৭৭ হাজার ৪২০ টাকা। আর ২২৯৩১৪২ নম্বর চেকের মাধ্যমে দেয়া হয় ১৭ হাজার ৩৯২ টাকা।

এ বিষয়ে অবসরে যাওয়া সুলতান উল আবেদীন মোল্লার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলছিলেন, আইডিআরএ থেকে কখনও মোবাইলের চার্জার কেনার টাকা নেইনি। এ ছাড়া মোবাইলের চার্জারের দাম কিছুতেই ২২ হাজার টাকা হতে পারে না। এটা অবশ্যই অস্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ‘এখন তো বালিশসহ কত কিছু বেরিয়ে আসছে। এখন খরচের খাতে আমার নাম দেখালে তো আমার কিছু করার নেই। আমি এখন আইডিআরএ নেই। আর আমি থাকা অবস্থাতেও কেউ আমার অগোচরে এটা করলে আমার কিছু করার নেই। জানা মতে এমন পার্সেস (ক্রয়) আমি করিনি।’

সংশ্লিষ্টরাও বলছেন, মোবাইল চার্জারের প্রকৃত দাম কিছুতেই ২২ হাজার টাকা হতে পারে না। এ ধরনের হিসাব অবিশ্বাস্য। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। অবিশ্বাস্য এ খরচ দেখিয়ে টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে কি-না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

আইডিআরএ’র খরচের খাতায় সব ধরনের খরচের অর্থ চেকের মাধ্যমে দেয়া হলেও কয়েকটি বৈঠক অথবা কর্মশালার আপ্যায়ন খরচ নগদে দেখানো হয়েছে। এসব আপ্যায়নে আইডিআরএ’র খরচ হয় প্রায় লাখ টাকা। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে আপ্যায়নের টাকা দেয়া হয় ইমদাদুল হক নামের এক কর্মকর্তাকে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী এবং সদস্য গকুল চাঁদ দাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর সদস্য ড. এম মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কথা বলতে চাননি।-সূত্রঃ জাগো নিউজ

মন্তব্য

উপর