logo
Floating 2
Floating

শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের তীর পরিবারের দিকে, ১০ জনকে আসামি করে মামলা


শিশু তুহিন হত্যাকাণ্ডের তীর পরিবারের দিকে, ১০ জনকে আসামি করে মামলা

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পাঁচ বছরের শিশু তুহিন হাসান হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে তুহিনের মা বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আবু তাহের মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের নাম এখনও জানা যায়নি।

গত রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে বীভত্সভাবে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটে। ঘাতকরা শিশুটির পেটে লম্বা দুটি ছোরা বিদ্ধ করে রেখে যায়। এমনকি কেটে ফেলা হয় পুরুষাঙ্গ ও দুটি কান। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিবারের লোকজনই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এ ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবাসহ পরিবারের সাতজনকে থানায় এনে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে এই খুনের পেছনে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা রীতিমত আঁতকে ওঠার মতো। যাদের কাছে আশ্রয় পাওয়ার কথা তারাই শিশুটির খুনের সঙ্গে জড়িত। এমনকি তার বাবাও এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নির্মম ও বর্বর এই পদ্ধতি অবলম্বন করে পরিবারটি। সোমবার সন্ধ্যায় দিরাই থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এমনটিই জানান। তিনি আরো জানান, পাঁচ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে কেন মারা হয়েছে, কীভাবে মারা হয়েছে, কয়জনে মেরেছে পুরো ঘটনা জানা গেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলবো না। ঘটনার পরপর তুহিনের বাবাসহ থানায় নিয়ে যাওয়া ৬ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে শিগগিরই আদালতের মাধ্যমে পুলিশ রেকর্ড দিয়েই আসামিদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসময় আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডটি পূর্বশত্রুতার জেরে হতে পারে। যাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে তাদের মধ্যেই তিন-চারজন জড়িত বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই খুন করা হয় পাঁচ বছর বয়সী তুহিন মিয়াকে। এ ঘটনায় তুহিনের বাবাসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, ইয়াছির উদ্দিন, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম, চাচি খাইরুল নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়া।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, 'শিশুটির পেটে বিদ্ধ করে রাখা ছুরির বাঁটে যাদের নাম রয়েছে তাদের বিষয়টিও আমাদের নজরে আছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। এরইমধ্যে আমরা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অনেক তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব কিছু বলা যাচ্ছে না।'

মন্তব্য

উপর