logo
Floating 2
Floating

মিরপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭ জন


মিরপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭ জন

রাজধানীর রূপনগরে বেলুন ফোলানোর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে গেল আরও ২ শিশু। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাড়ালো ৭-এ।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হলো। মারা যাওয়া নিহার (৭) সারোয়ার হোসনের ছেলে। তারা রূপনগরের শিয়ালবাড়ি বস্তিতে থাকত। ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদ সূত্রে জানা যায়, রূপনগর আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর সড়কের পূর্ব প্রান্তে চলন্তিকা বস্তিঘেঁষা এলাকায় দু-একদিন পরপর ভ্যান নিয়ে গিয়ে বেলুন বিক্রি করেন আবু সাঈদ। 

স্থানীয় দরিদ্র শিশুদের অনেকে টাকার বদলে কুড়িয়ে পাওয়া বোতলসহ বাতিল সামগ্রী জমা দিয়েও বেলুন নিত তার কাছ থেকে। বুধবার বিকেলেও তাকে দেখে এটা-সেটা নিয়ে যায় শিশুরা। 

এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৯ বছরের শিশু মরিয়ম জানায়, বেলুন পাওয়ার জন্য সে কুড়িয়ে পাওয়া বোতল জমা দিয়েছিল বিক্রেতার কাছে। তখন গ্যাস না থাকায় তাকে অপেক্ষা করতে বলেন বিক্রেতা। এর মধ্যে তিনি এক শিশুকে পাঠান পানি আনতে। পানি আনার পর তিনি পাউডার জাতীয় কিছু মিশিয়ে সিলিন্ডারে খুটখাট করতে থাকেন। এর মধ্যেই ঘটে বিস্ফোরণ। মরিয়মসহ অন্যরা ছিটকে পড়ে দূরে। বিস্ফোরণের আগুনে ঝলসে যায় তারা। 

প্রত্যক্ষদর্শী আরেক শিশু মিরাজুল ইসলাম জানায়, সে ও প্রতিবেশী এক শিশু বেলুন কিনতে গিয়েছিল। বেলুন দিতে একটু দেরি হবে জানিয়ে তাদের দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন বেলুন বিক্রেতা। এর মধ্যে কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। প্রত্যক্ষদর্শী তাসলিমা বেগম বলেন, 'পাশেই আমার বাসা। শব্দ শুইনা আমি ছুইটা যাই। গিয়া দেখি খুবই খারাপ অবস্থা। দুইটা বাচ্চার হাত নাই, একটা বাচ্চার নাড়িভুঁড়ি বাইর হয়ে আসছে। একজন তো ওই অবস্থায় দৌড়াইয়া দূরে যাওয়ার চেষ্টা করতেছিল। কিন্তু খানিক গিয়া পইড়া গেছে। কয়েকজন পুইড়া কালো হইয়া গেছে। এরপর লোকজন সবাই মিল্যা তাগো হাসপাতালে নিয়া আসি।' 

বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার হওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে।

রূপনগর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তাদের অন্তত চারজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। পরে একজন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একজন পঙ্গু হাসপাতালে ও একজন ঢামেকে মারা যায়।

মন্তব্য

উপর