logo
Floating 2
Floating

আমার ভাই মারা গেলো, কিশোর আলো চুপ কেন: ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা


আমার ভাই মারা গেলো, কিশোর আলো চুপ কেন: ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা

দৈনিক প্রথম আলোর ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের (১৫) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা। ‘আমার ভাই মারা গেলো, কিশোর আলো চুপ কেন?’ ‘কিশোর আলোর অমানবিকতা মানি না মানবো না’ স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশসহ চার দফা দাবিতে শনিবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বিক্ষোভ করে তারা।

পরে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি পেশ করেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদের কাছে।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে কিশোরদের মাসিক পত্রিকা কিশোর আলোর বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে এসেছিল আবরার।

সেখানে বিকালে অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় সে।

পরে ওই মাঠে স্থাপিত জরুরি মেডিকেল ক্যাম্পের দুজন বিশেষজ্ঞ (এফসিপিএস) চিকিৎসক নাইমুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

এরপর তাকে মহাখালীর বেসরকারি ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতেই রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে জানাজা শেষে আবরারের লাশ গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার কিশোর আলোর ওই অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় আবরার। সে সময় অনুষ্ঠান বন্ধ না করে কনসার্ট চালিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করছেন খোদ ভলান্টিয়াররাও। তাদের দাবি, অনুষ্ঠান চলাকালে তারা জানতেই পারেননি কোনও দুর্ঘটনার কথা। সহপাঠীদের প্রশ্ন- বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর আবরারকে চিকিৎসার জন্য রাস্তার উল্টো পাশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো কেন?

মৃত্যুর অনেকক্ষণ পরও ঘটনা চেপে রেখে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ায় আয়োজক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ। অধ্যক্ষ জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ‘আবরারকে চিনতে পারেনি কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ এমন ঘোষণা দিয়েছে, জেনেছি। তারা মাইকে ঘোষণা দিলে কেউ না কেউ ছেলেটিকে চিনতো। ছেলেটি যেখানে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়েছে সেখানে সে একা ছিল না। ফলে তার বন্ধুরা তাকে চিনতো। এসব না বলে তারা তাদের ভুল স্বীকার করলে আজকে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হতো না। আমার সন্তানের কাছে আমি কী জবাব দেবো।?’


মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গনেশ গোপাল বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা রেসিডেসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের সড়কে কয়েকজন শিক্ষার্থী কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়েছিল। তবে তারা দুপুরে পৌনে ১ টার দিকে আবার ভেতরে চলে যায়। কোনও ঝামেলা নেই। পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক।’

নাইমুল আবরার দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট। তার বাবা মজিবুর রহমান প্রবাসী। তবে তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, নাইমুল আবরারকে চিরকাল স্মরণ করা হবে। এ জাতীয় দুর্ঘটনা কেন ঘটল, তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য

উপর