logo
Floating 2
Floating

রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে, নববধূ কলেজছাত্রীকে পিটিয়ে এসআই'র 'চাঁদাবাজি'!


রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে, নববধূ কলেজছাত্রীকে পিটিয়ে এসআই'র 'চাঁদাবাজি'!

বগুড়ার গাবতলীতে ১০ হাজার টাকার দাবিতে রাত ১০টায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নববধূ কলেজছাত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। গত রবিবার রাতে উপজেলার মধ্যখুপি গ্রামে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত ওই গৃহবধূর অবস্থা গুরুতর। নির্যাতিত গৃহবধূ মনিরা আক্তার গ্রামের ইমরান হোসেনের স্ত্রী। মা-বাবার অমতে সম্প্রতি প্রেমিক ইমরানকে বিয়ে করেন মনিরা। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন গাবতলী থানার এসআই রিপন মিয়া।

জানা গেছে, বিয়ের আগে কলেজছাত্রী মনিরার বাবা মেয়ের প্রেমিক ইমরানের বিরুদ্ধে থানায় ‘উত্ত্যক্ত করার’ কথা বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। বাবার উদ্দেশ্য ছিল, পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে মেয়ের প্রেম ভেঙে দেওয়া। কিন্তু এসআই রিপন মেয়ের বাবা এবং প্রেমিক—দুজনের কাছ থেকেই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে মনিরা প্রেমিককে বিয়ে করায় এসআই ক্ষুব্ধ হন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মনিরা আক্তার বর্তমানে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি সোনারায় ইউনিয়নের খুপি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের মেয়ে। সম্প্রতি গাবতলীর ফজিলা আজিজ মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল কলেজে পড়াশোনাকালে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক হয় পাশের মধ্যখুপি গ্রামের ইমরান হোসেনের সঙ্গে। কিন্তু এ সম্পর্ক মেনে নেননি মনিরার বাবা জাহিদুল ইসলাম। তিনি উল্টো গাবতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানান যে যুবক ইমরান বিভিন্ন সময় তাঁর মেয়ে মনিরাকে বিরক্ত করেন। জোর করে প্রেম করতে চান। লিখিত অভিযোগে দুজনের প্রেমের সম্পর্কের কথাটি গোপন করা হয়। মনিরার অভিযোগ, তাঁর বাবা মূলত পুলিশ দিয়ে ইমরানকে হয়রানি করতে চেয়েছিলেন।

জাহিদুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের তদন্তভার পান গাবতলী থানার এসআই রিপন মিয়া। তিনি তদন্তকাজের অংশ হিসেবে ইমরান ও মনিরার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকৃত ঘটনা জানেন। এরপর বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে অভিযোগকারী মনিরার বাবা জাহিদুল ও প্রেমিক ইমরান দুজনের কাছ থেকেই মাঝে মাঝেই টাকা হাতিয়ে নিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন মনিরা।

একপর্যায়ে নভেম্বরের ১ তারিখে মনিরা ও ইমরান নিজেদের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে ইমরানের গ্রামের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। খবরটি জানতে পেরে এসআই রিপন পুলিশ ফোর্স নিয়ে রবিবার রাত ১০টার দিকে ইমরানের বাড়ি ঘেরাও করেন। এরপর ঘরের দরজা লাথি মেরে ভেঙে প্রবেশ করেন নববিবাহিত দম্পতির ঘরে। এ সময় রিপন মনিরার বাবার অভিযোগের তদন্তকারী হিসেবে কেন তাঁকে না জানিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হলো তা জানতে চান মনিরার কাছে। মনিরা কারণ জানালে, ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই রিপন মিয়া বলেন, ‘ঠিক আছে বিবাহ করেছিস ভালো কথা, এখন ১০ হাজার টাকা দে।’ এই বলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। মনিরা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে রিপন মিয়া আরো ক্ষুব্ধ হয়ে মনিরাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। এর একপর্যায়ে মনিরাকে লাঠিপেটা করেন তিনি। এ সময় মনিরার স্বামী ইমরান তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

এই দম্পতির চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে এসআই রিপন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। মাঝ রাতেই আহত অবস্থায় মনিরাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে গাবতলী থানার ওসি (সার্বিক) মনির হোসেন বলেন, এসআই রিপন মিয়া দোষী হলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে।

অভিযুক্ত এসআই রিপন মিয়া জানান, ‘আমি মারধর করিনি। আমি অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। এর বাইরে কোনো কিছু নেই।’

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সামসুজ্জামান জানান, মনিরার শারীরিক আঘাত বেশ গুরুতর। তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

উপর