logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে ৬ ব্যবসায়ী আটক, ৭ জনকে জরিমানা


লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে ৬ ব্যবসায়ী আটক, ৭ জনকে জরিমানা
ঠাকুরগাঁও ও গোপালগঞ্জে লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপকহারে কিনতে শুরু করেছে স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব রটার পর মজুদের চেষ্টা করায় অভিযান চালিয়ে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় ৪ ব্যবসায়ীকে আটক করে দণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গুজব ছড়িয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে এক ব্যবসায়ীকে আটক ও কেন্দুয়ায় তিনজনকে অর্ধদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অধিক মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ঠাকুরগাঁও ও নেত্রকোণায় তিন ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া নেত্রকোণায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ী ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বাজার থেকে ব্যবসায়ী মাসুদ রানা (২৮) ও রফিকুল ইসলামকে (৪০) আটক করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানিয়েছেন।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে দেশে ব্যাপক তোলপাড়ের মধ্যেই লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে লবণসহ সকল নৃত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ স্বাভাবিক ও পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রি মহল লবণের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

“এই গুজবে কান দিয়ে শহরের বাজারগুলোতে অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।”

তিনি বলেন, সোমবারও যে লবণ ৩৫ টাকা কেজি মূল্যে বিক্রি হয়েছে; মঙ্গলবার তা ১০০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এমন অভিযোগ পেয়ে শহরের কালিবাড়ি ও পুরতান বাসষ্ট্যান্ড বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

“কালিবাড়ি বাজার থেকে মাসুদ রানা ও পুরাতন বাসষ্টান্ড বাজার থেকে রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তারা ১০০ টাকা কেজি দরে লবণ বিক্রি করছিল।”

কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, কিছুদিন আগে একটি মহল সিন্ডিকেট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করেছিল। এখন তারাই আবার লবণের দাম বৃদ্ধির জন্য গুজব ছড়াচ্ছে। যারা এসব কাজের সাথে জড়িত আছে তাদেরকে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান সেলিম।

সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, সদর উপজেলার প্রত্যেকটি হাট-বাজারে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি হাট বাজারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার মনিটরিং করার জন্য মাঠে নেমেছে। যারা ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে লবণ বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুরাতন বাসস্ট্যান্ড বাজারের ক্রেতা নুর আলম সোহাগ বলেন, “সারাদিন দিনমজুরি করে ২০০ টাকা আয় করি। আর এখন যতি ৩৫ টাকার লবণ যদি ১০০ টাকায় কিনতে হয় , তাহলে বউ বাচ্চা নিয়ে পথে না বসে উপায় নেই।”

তিনি অসাধু সিন্ডিকেট কঠোরভাবে দমন করার অনুরোধ করেন সরকারের প্রতি।

এদিকে, লবণের কেজি দুইশ টাকা হবে গুজাব ছড়ালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ঘাঘর বাজারে লবণ কেনার হিড়িক পড়েছে।

এই বাজারের অর্ধ শতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকানে লাইন দিয়ে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতাদের লবণ কিনতে দেখা গেছে।

তবে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সোমবার রাত থেকে কোটালীপাড়ায় লবণের দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ঘাঘর বাজারে লবণের ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। দুপুর ১২টার মধ্যে ডিলার ও অনেক পাইকারির ব্যবসায়ীর গুদাম লবণ শূন্য হয়ে যায়।

হঠাৎ এভাবে লবণ ক্রয়ের কারণে অনেক ডিলার বা পাইকারি ব্যবসায়ীও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

লবণ ডিলার মধুমতি স্টোরের মালিক জালাল শেখ বলেন, “একটি গুজবের উপরে ভর করে মানুষ হঠাৎ এভাবে লবণ কেনা শুরু করেছে। আমরা আগের দামেই লবণ বিক্রি করছি। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।”

পাইকারি ব্যবসায়ী গণেশ সাহা বলেন, “সকাল থেকেই আমাদের দোকানে লবণ ক্রয়ের জন্য সাধারণ মানুষ ও খুচরা বিক্রেতারা ভিড় করছে। দুপুর ১২টার মধ্যে আমাদের দোকানের সমস্ত লবণ বিক্রি হয়ে যায়।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা নাগরা গ্রামের এক ভ্যান চালক বলেন, “গতকাল রাতে ঢাকা থেকে আমার এক আত্মীয় ফোন করে আমাকে জানিয়েছেন লবণের কেজি ২শ টাকা হবে। তাই মঙ্গলবার সকালে এসেই ঘাঘর বাজার থেকে ১০ কেজি লবণ ক্রয় করেছি।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসিন উদ্দিন বলেন, “লবণের মূল্য বৃদ্ধির গুজবের কারণে ঘাঘর বাজারে মঙ্গলবার সকাল থেকেই লবণ ক্রয়ের হিড়িক পড়ে যায়। ডিলারদের বলে দিয়েছি পূর্বে তারা ব্যবসায়ীদের কাছে যে পরিমান লবণ বিক্রি করত এখন সেই পরিমাণ বিক্রি করতে হবে। এছাড়া খুচরা বিক্রেতাদেরকে  ১ কেজি থেকে ২ কেজির উপরে লবণ বিক্রি করতে নিষেধ করেছি।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ মুহূর্তে লবণের কোনো সংকট নেই। তাই দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভবনাও নেই। যদি কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী বাজার মূল্যোর চেয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রি করে তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, গুজব ছড়িয়ে বেশি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগে নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে একজনকে আটক ও কেন্দুয়ায় তিনজনকে অর্ধদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আটক হয়েছেন খালিয়াজুরী সদরের ব্যবসায়ী হায়দার চৌধুরী।

অর্থদণ্ড দিয়েছেন কেন্দুয়া উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী এরশাদ আলী ও বৈখেরহাটি বাজারের শাহীন মিয়া ও রামপুর বাজারের মোজাহিদ মিয়া।

কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, গুজব ছড়িয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি দামে লবণ বিক্রি করছিলেন। খবর পেয়ে সকাল থেকে দুপুর নাগাদ কেন্দুয়া সদর, বৈখেরহাটি ও রামপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় দন্ডিতদের বেশি দামে লবণ বিক্রি করতে দেখা যায়।

“এ কারণে এরশাদ আলীকে ৫০ হাজার টাকা, শাহীন মিয়াকে ২০ হাজার টাকা ও মোজাহিদ মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ।“

খালিয়াজুরী উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন খুচরা বা পাইকারি বাজারে লবণের দাম বেড়েছ বলে গুজব ছড়িয়েছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। এই গুজবে সরল ক্রেতাসাধারণ হুড়াহুড়ি করে লবণ কিনতে ভিড় জমিয়েছে বিভিন্ন দোকানে।

ক্রেতারা সর্বনিম্ন ৫ কেজি ও সর্বোচ্চ ২০ কেজি করে লবণ ক্রয় করেছেন।

“লবণ কৃত্রিম তৈরির চেষ্টা করায় সকাল ৯টার দিকে খালিয়াজুরী সদর এলাকা থেকে হায়দার চৌধুরী নামে একজন ব্যবসায়ীকে  আটক করা হয়।”

একই ভা,বে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত রানার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ড দেয়।

পেঁয়াজের পর চালের দাম বৃদ্ধির মধ্যে সোমবার সন্ধ্যা থেকে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব রটে হবিগঞ্জ শহর এবং এর আশপাশের এলাকায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাত বলেন, “এর পরিপ্রেক্ষিতে শহরের চৌধুরী বাজার এলাকায় গিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লবণ মজুদ রাখার উদ্দেশ্যে ক্রয় করে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৬ জনকে আটক করে গোয়েন্দারা। জব্দ করা হয় প্রায় ৫০ কেজি লবণ।”

প্রশাসনের অভিযানের খবর পেয়ে চৌধুরী বাজার এলাকায় শত-শত মানুষ ভিড় জমায়।

আটক দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি চারজন দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় ২ জনকে কারাদন্ড ও ২ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয় বলে জানান ইয়াসির।

১০ দিন করে কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শহরের রাজনগর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির নানু এবং বাতিরপুর এলাকার সুরঞ্জিত দাস। ১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চৌধুরী বাজার এলাকার মিঠুন রায় ও নোয়াহাটি এলাকার রঞ্জিত পাল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “যারা এ গুজব রটাবে বা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে মজুদ রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মন্তব্য

উপর