logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

ইবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহের প্রতিবাদে শিক্ষকদের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ


ইবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহের প্রতিবাদে শিক্ষকদের নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের একাংশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানকে শিবির আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এর বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারীর কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে­, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইবি শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একটি গ্রুপ ছাত্রলীগের ট্রেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডায়না চত্বরে জড়ো হয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ করে। তাদের দাবী ড. মাহবুবর রহমান ছাত্র জীবনে শিবির মতাদর্শী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদপত্র পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন। তিনি শিবির করতেন।

এদিকে তাকে শিবির আখ্যা দেয়ায় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের­ মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বুধবার সকালে উপাচার্য কার্যালয়ে উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারীর কাছে সাধারণ শিক্ষকরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনকারীদের বিচার দাবি করেন। এসময় বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুধাংশু কুমার বিশ্বাস বলেন, আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদপত্র পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলাম সেজন্য আমি নিজেকে গর্বিত মনে করি, যেখানে প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক স্যারের মত মানুষ প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন সেখানে এই অরাজনৈতিক সংগঠনকে শিবিরের সংগঠন আখ্যা দেওয়া খুবই দুঃখজনক। এখানে থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আমি নিজেকে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। 

এসময় আরো অনেক শিক্ষকরা বলেন, এরকম একজন প্রগতিশীল শিক্ষককে অপদস্ত করা খুবই দুঃখজনক, এভাবে শিক্ষক সমাজকে অপমান অপদস্থ করা কখনই মেনে নেয়া যায়না। প্রগতিশীল একটি শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদককে এরকম মানহানি করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা এবং শিক্ষকরা এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপাচার্যকে এসব এহেন কাজের মদদদাতা ও আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

পরে সাধারণ শিক্ষকরা প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি ড. রেজওয়ানুল ইসলামের কাছে গিয়ে ফোরামের পক্ষ থেকে এরকম একজন প্রগতিশীল শিক্ষককে শিবির আখ্যা দেয়াকে প্রগতিশীলতা চর্চার বিরুদ্ধে কুঠারাঘাত করার সামিল বলে মনে করেন তারা। ফোরামের পক্ষ থেকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানায়।

এছাড়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, প্রক্টর থাকাকালীন সময়ে ২০১৭ সালের ১৪ আগষ্ট অধ্যাপক মাহবুবরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় শিবিরের দূর্গ খ্যাত ইবির হলগুলো শিবির মুক্ত হয়েছিলো। বিনা রক্তপাতে হলসমূহ শিবিরমুক্ত করে হলগুলোতে হলবডি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়।

এছাড়া আরো অনেকে জানান, বঙ্গবন্ধু হলে প্রভোস্টের দায়িত্ব নেয়ার পরে ২০০৯ সালে বিভিন্ন মহলের প্রবল বাধার মুখে, ইসলামী ছাত্রশিবির লেখা মুছে হল গেট সম্মুখে “বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল এবং বাংলাদেশের ম্যাপ” স্থাপন করেছিলেন তিনি।
সংবাদপত্র পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন ড. মাহবুবর রহমান আর তখন সেই ফোরামটি নাকি শিবির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো বলে অভিযোগ করেন ইবি শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। আর এ সংগঠনটির সাথে তিনি সংযুক্ত থাকায় তাকে শিবির আখ্যায়িত করে তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন বিদ্রোহীরা।

এবিষয়টি জানতে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাঠক ফোরাম কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়, এটা সামাজিক সংগঠনের মধ্যে পড়ে। মাহবুবুর রহমানকে আমি আগে থেকে চিনি, তিনি কোন শিবির করতেন না। কেউ যদি এটা বলে থাকে তবে তারা অন্যায় করছে। তিনি কখনো জামাত-শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বরং তিনি আমাদের সাথে মিশতেন।

বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল বলেন, আমি অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবর রহমানকে চিনি। আমি সে সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলাম এবং অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবর রহমানও এ ফোরামের সদস্য ছিলেন। সে সময় পাঠক ফোরামের সাথে শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলো না তবে পরবর্তীতে সংগঠনটি শিবির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠন 'পাঠক ফোরাম' একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো দলের সম্পর্ক নেই। এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এখানে প্রগতিশীল শিক্ষক, বিভিন্ন দলের শিক্ষক বিভিন্ন সময় উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এখানে উপাচার্য প্রধান পৃষ্ঠপোষক।এটা লার্নারদের একটি প্লাটফর্ম। এখানে সব ধরনের ছাত্রই অংশগ্রহন করে থাকে। সংগঠনটি বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করে যেখানে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এসে থাকেন। এর আগে UGC এর চেয়ারম্যান, জাফর ইকবাল, সুলতানা কামালের মত ব্যাক্তিবর্গও সংগঠনটির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।
আমার মনে হয় এর সাথে কোনো দলের সংশ্লিষ্টতা নেই।

সাবেক কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল হক আতিক বলেন, ড. মাহবুবর রহমান কখনো ছাত্রশিবির করে নাই। মাহবুব কখনোই ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না। সে একটা মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের সন্তান,মুক্ত চিন্তার মানুষ। ছাত্রলীগের যে নেতা ছিলো তাও নই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীতে তারা অংশগ্রহন করত।১৬ ডিসেম্বর,২৬ মার্চ,২১ ফেব্রুয়ারীতে আমরা তাদের র‍্যালিতে পেয়েছি যখন মুক্তচিন্তার মানুষের বড়ই অভাব ছিলো। ছাত্র শিবির করার কোন প্রশ্নই আসে না।পাঠক ফোরাম করত যারা পড়ালেখা ভালো করতো।পাঠক ফোরামের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুক খালেক স্যার তারপরে এখন যে উপাচার্য বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপালগঞ্জ তিনিও পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন। বরিশালের উপাচার্য উনিও পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন ।


সাবেক কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুল হক আতিক বলেন, ড. মাহবুবর রহমান কখনো ছাত্রশিবির করে নাই। মাহবুব কখনোই ছাত্রশিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না। সে একটা মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের সন্তান,মুক্ত চিন্তার মানুষ। ছাত্রলীগের যে নেতা ছিলো তাও নই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বার্ষিকীতে তারা অংশগ্রহন করত।১৬ ডিসেম্বর,২৬ মার্চ,২১ ফেব্রুয়ারীতে আমরা তাদের র‍্যালিতে পেয়েছি যখন মুক্তচিন্তার মানুষের বড়ই অভাব ছিলো। ছাত্র শিবির করার কোন প্রশ্নই আসে না।পাঠক ফোরাম করত যারা পড়ালেখা ভালো করতো।পাঠক ফোরামের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুক খালেক স্যার তারপরে এখন যে উপাচার্য বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপালগঞ্জ তিনিও পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন। বরিশালের উপাচার্য উনিও পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন এরকম বিভিন্ন জজ,সচিব অনেকেই পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন। এরকম যারা ভদ্র ছেলে পেলে পড়ালেখা করতো বেশি অনেকেই পাঠক ফোরামের সদস্য ছিলেন।

এবিষয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, তিনি শিবির করতেন এমন কিছু আমার জানা নেই, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজের ভিত্তিতে আমরা এ আন্দোলন করেছি।

এ বিষয়ে ড. মাহবুবর রহমান বলেন, শিবিরের দূর্গ ছিন্ন করে ইবিকে শিবির মুক্ত করাতে যারা আঘাত পেয়েছিল, আজ তারা ধুম্রজাল সৃষ্টি করে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করছে। যা অসম্ভব। সততা ও আদর্শ হতে আমাকে এক চুল নড়াতে পারবে না।

প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের সভাপতি ড. রেজওয়ানুল ইসলাম বলেন,আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং শাপলা ফোরামের সভাপতি হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা শনিবারে আমাদের নির্বাহী কমিটির একটি মিটিং ডেকেছি।

ইবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি পত্রিকায় দেখেছি, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে পরে আলোচনা করবো।শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে কোনো পদক্ষেপ নিবেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন,একজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা নিন্দে করা অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকবৃন্দ আমার কাছে এসেছিলেন তারা এর বিচার দাবি করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো

মন্তব্য

উপর