logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর আমাকে মর্মাহত করেছে, শিক্ষকরা লবিংয়ে ব্যস্ত


সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর আমাকে মর্মাহত করেছে, শিক্ষকরা লবিংয়ে ব্যস্ত

‘সম্প্রতি গণমাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে-সব খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা দেখে আচার্য হিসেবে আমাকে মর্মাহত করে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।


আচার্য বলেন, ‘আজকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষকগণ প্রশাসনের বিভিন্ন পদ-পদবি পাওয়ার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে ঠিকমতো অংশ না নিয়ে বিভিন্ন লবিং-এ ব্যস্ত থাকেন। অনেকে আবার নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ভুলে গিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনে সম্পৃক্ত হন। এটা অত্যন্ত অসম্মানের ও অমর্যাদাকর।’


বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সাধারণ মানুষ আপনাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনেই দেখতে চায়। তাই ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য নীতি ও আদর্শের সাথে আপস করবেন না। আপনাদের মর্যাদা আপনাদেরই সমুন্নত রাখতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের কাছে আদর্শ যাতে ভূলুণ্ঠিত না হয় সে দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘আপনারা রাজনৈতিকভাবেও খুবই সচেতন ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও চিন্তা চেতনায় একজনের সাথে আরেক জনের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব যেন প্রতিষ্ঠানে বা শিক্ষার্থীর উপর না পড়ে তাও নিশ্চিত করতে হবে।’


সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদেরকে উদ্দেশ্য করে আচার্য বলেন, ‘তোমরা আজ গ্র্যাজুয়েট, দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও অগ্রগতি নির্ভর করছে তোমাদের উপর। তোমাদের তারুণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে একজন গ্র্যাজুয়েট হিসেবে সবসময় সত্য ও ন্যায়কে সমুন্নত রাখবে। নৈতিকতা ও দৃঢ়তা দিয়ে দুর্নীতি ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। রাষ্ট্রের বিবেকবান নাগরিক হিসেবে তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা, তোমরা কখনো অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা, ব্যক্তিগত সম্মানবোধ আর নৈতিকতাকে ভূলুণ্ঠিত করবে না। বিবেকের কাছে কখনো পরাজিত হবে না।’


গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘মনে রাখবে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষ তাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে তোমাদের শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করেছে। তাদের কাছে তোমরা ঋণী। এখন সময় এসেছে সেই ঋণ পরিশোধ করার। তোমরা তোমাদের মেধা, কর্ম ও সততা দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণ করতে পারলে সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। কর্ম উপলক্ষে তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো না কেন, ভুলবে না শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমÐলী, সহপাঠীসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে। ভুলবে না এ দেশ ও এ দেশের সাধারণ জনগণকে। মনে রাখতে হবে বাঙালির শেকড় এই সাধারণ জনগণের মধ্যেই প্রোথিত।’


এর আগে, সমাবর্তনে অংশ নিতে শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টারে করে বিশ^বিদ্যালয়ের হ্যালিপেডে তিনি অবতরণ করেন। কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত করে তাঁকে উপাচার্য ভবনে নেয়া হয়। এরপর বিশ^বিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।


এছাড়াও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সমাবর্তন বক্তা ও ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অধ্যাপক রঞ্জন চৌধুরী। এর আগে, স্বাগত বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাবি কোষাধ্যাক্ষ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর গ্রাজুয়েটদেরকে ডিগ্রী তুলে দিতে বিভিন্ন অনুষদের অধিকর্তাগণ রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। এবারের সমাবর্তনে ৪ হাজার ৬৬জন গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন।


এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাবি উপ-উপাচার্যদ্বয়, কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, অনুষদের ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষকমÐলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাজুয়েট, পোস্ট গ্রাজুয়েটবৃন্দ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

উপর