logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

মৌলভীবাজারে দরিদ্র স্কুলছাত্রী ধর্ষণ, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা


মৌলভীবাজারে দরিদ্র স্কুলছাত্রী ধর্ষণ, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা

কুলাউড়ায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ, ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার অভিযোগে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান ধর্ষিতার মা।


লিখিত বক্তব্যঃআমি মোছা. আসমা বেগম কুলাউড়া উপজেলার ৩নং ভাটেরা ইউনিয়নের কলিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করে উপযুক্ত কোন সহযোগিতা না পেয়ে সময়ের সাহসী সৈনিক কলমযোদ্ধা প্রিয় সাংবাদিকদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলাম। আজ আমি আপনাদের মধ্যে উপস্থিত হয়েছি আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরতে। আমি আশা করি আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হবে এবং আমার মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় ও অবিচারের ন্যায় বিচার পাব।


আমার মেয়ে ফাতেমা জান্নাত রিপা (১৩) ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। বিগত ২৪ অক্টোবর বেলা ১ ঘটিকায় স্কুল ছুটি হওয়ার পর কলেজের সামনে থেকে সিএনজি গাড়ী যুগে মাদ্রাসাবাজার এসে নেমে বাড়ী যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করে, তখন তার পিছু নেয় দুই লম্পট যাদের উদ্দেশ্য ছিল আমার মেয়ের সর্বনাশ করা। পরিকল্পিত উদ্দেশ্যে মোঃ আনিস মিয়া (৩২) এবং মোঃ সানু মিয়া (৩৫) আমার মেয়ের পিছু পিছু হাটে এক সময় আমার মেয়েকে অতিক্রম করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে তাদের পরিকল্পিত কলিমাবাদ গ্রামের মন্তাজ মিয়ার বসত বাড়ী সংলগ্ন টিলার পাশের জঙ্গলে গিয়ে লুকিয়ে থাকে এবং আমার মেয়ে দুপুর আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিটের সময় মন্তাজ মিয়ার বাড়ী নিকট পৌঁছালে জঙ্গল থেকে আমার মেয়েকে জাপটে ধরে গামছা দিয়ে মুখ বেধে তুলে নিয়ে যায় রাবার বাগানের জঙ্গলের ভিতরে। জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ভাবে পরনের পোশাক খুলে মাটিতে শুইয়ে একজন ধর্ষণ করে এবং অন্যজন ধর্ষণের চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে আমার মেয়ে গামছা সরিয়ে চিৎকার করলে আশেপাশে থেকে লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে দুই লম্পট এখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এরপর আমি ও আমাদের পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে সরেজমিন উপস্থিত হয়ে আমার মেয়েকে আমাদের হেফাজতে নেই। এরপর স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ঘটনাটি অবগত করি এবং স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে প্রশাসনকে জানানো হয়। 

এ ধরনের ঘটনার খবর পেয়ে কুলাউড়া পুলিশ প্রশাসন ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাদের বাড়ীতে এসে মেয়ের খবর নেন এবং তাৎক্ষনিকভাবে মামলার ২নং আসামী মোঃ সানু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ও প্রধান আসামী পালিয়ে যায়। ঐ দিন বিকাল ৫ ঘটিকার সময় আমি এবং আমার মেয়েকে নিয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্য কুলাউড়া থানায় যাই। মামলা দায়ের করার পর আমার মেয়ে অসুস্থতাবোধ করলে কুলাউড়া পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে কুলাউড়া উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে দেন। কিন্তু আমার মেয়েকে কুলাউড়া থানা পুলিশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে না নিয়ে ঐ দিন ২৪ অক্টোবর থানায় নিয়ে পুলিশ আমার মেয়ের ধর্ষণের স্বীকারোক্তি নেয়, কিন্ত উক্ত স্বীকারোক্তি ছিড়ে ফেলে এবং ভিবিন্নভাবে আমার মেয়েকে হুমকি ধামকি ও তোমার জেল হবে ফাসি হবে এবং তোমার পরিবারের ক্ষতি হবে নানাভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে সারারাত পুলিশ হেফাজতে আটকে রেখে পুলিশের মনগড়া ধর্ষনের চেষ্ঠা মামলা নেওয়া হয় । 

পরদিন ২৫ অক্টোবর বেলা ১২ ঘটিকায় কুলাউড়া থানা পুলিশ ২নং আসামী সানু মিয়ার সাথে করে আমার মেয়েকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। ২৫ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা না করে পুলিশের মাধ্যমে ঐদিন আটকে রেখে ২৬ অক্টোবর আমার ছেলে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়ে জানানোর পর দুপুর দুইটার পরে আলামত নষ্ট করে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে আমার মেয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পুলিশের মাধ্যমে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জবানবন্দী নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিবাদীর নিকটাত্মীয় প্রভাবশালী থাকায় থানায় প্রভাব বিস্তার করে অতঃপর পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন করি, তদন্ত করা হয় কিন্তু আজ অবধি দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আমি আশা করব আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে আমার এই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনা সত্য ঘটনা আপনারা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সত্য উপস্থাপন করে সংবাদ প্রচার করবেন। আমার মেয়ের সাথে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে সেটি আপনাদের পরিবারের কারো সাথে পরবর্তীতে ঘটতে পারে, তাই অপরাধী যেই হোক তার অপরাধের সঠিক বিচারের জন্য আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি আশা করি আপনারা আপনাদের করণীয় টুকু সঠিকভাবে করবেন। এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আবারো সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।

মোছা. আসমা বেগম
গ্রাম কলিমাবাদ,
ভাটেরা, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার

মন্তব্য

উপর