logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

আ.লীগের রাজনীতিতে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন ভূঞা


আ.লীগের রাজনীতিতে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন ভূঞা

কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ফরিদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইকবাল হোসেন ভূঞা। ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগ রাজনীতির প্রতি ছিল তাঁর ব্যতিক্রমী টান। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে ছোটবেলায়ই জড়িয়ে পড়েন ছাত্রললীগের রাজনীতির সাথে। ধীরে-ধীরে চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন থেকেই তিনি হয়ে উঠেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত।


ইকবাল হোসেন ভূঞা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৯০'এর  স্বৈরচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন।পরবর্তীতে ৯১' সালে খালেদা জিয়া সরকার বিরোধী আন্দোলনে আত্ননিয়োগ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০২  সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।


ছাত্রলীগ রাজনীতির পাঠ চুকিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির  সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।


বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাজনীতির ইতিহাসে সৎ, নির্লোভ, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী, আপোষহীন ও লাখো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত ৯০- দশকের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন ভূঞা ১৯৭০ সালের ১লা অক্টোবর কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভূঞা বাড়ি নামে পরিচিত এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে  জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম কামরুজ্জামান ভূঞা ১৯৯৬ সালে মৃত্যুবরন করার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর আপন মামা মেজবাহউদ্দিন আহম্মেদ কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে ৪ বার মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর আপন মামাতো ভাই সারোয়ার আলম বাজিতপুর উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান। অপরদিকে তাঁর আপন খালাতো ভাই রফিকউল্লাহ ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সভাপতি। সব মিলিয়ে বলতে গেলে ইকবাল হোসেন ভূঁঞার জন্ম আওয়ামী পরিবারেই। তাঁর বাড়ির নামটি বহন করে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে আছে কুলিয়ারচর উপজেলার শ্রেষ্ট বিদ্যাপীঠ ফরিদপুর ইউনিয়ন আব্দুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়। যার জন্য এলাকাবাসী বলে, তাঁর পরিবারের অনেকে জীবন কাটিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের কল্যাণে।


কিশোর ইকবাল হোসেন ভূঞা যখন স্থানীয় ৩৮ নং বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন থেকেই তাঁর চোখে-মুখে ভেসে উঠে বঙ্গবন্ধু ছবি তথা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। তিনি বাংলাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফরিদপুর ইউনিয়ন আব্দুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে কিশোর ইকবাল হোসেন ভূঞা ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে যোগদান করে নেতৃত্ব দেন। পরে তিনি সালুয়া ইউনিয়নের বীরকাশিমনগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন কটিয়াদী কলেজে। কটিয়াদী কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় ১৯৮৭ সালে তিনি নিজে আহ্বায়ক হয়ে ফরিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে তাঁর এলাকায় ছাত্রলীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন। কটিয়াদী কলেজে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরের বছর নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন।১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকার বিরোধী প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহন করেছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও তিনি দল থেকে কোন সুবিধা নিয়েছেন এমন কেউ বলতে পারবে  না। ২০০১ সালে বিএনপি -জামাত ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সাল থেকে ১/১১ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১/১১ এর সময় তিনি প্রখ্যাত আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমানের সহযোগী হিসাবে জননেত্রী শেখ হাসিনার মামলা, একুশ অগাষ্টের গ্রেনেট হামলার মামলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মামলা পরিচালনা করেন।


পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১১ বছর যাবত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তিনি সরকারী কোন সুবিধা ভোগ করেছেন এ কথা একটি লোকও বলতে পারবে না। দলের দু:সময়ে অনেকে দলের সাথে বেঈমানী করেছেন কিন্ত তিনি কখনই দলের সাথে বেঈমানী করেননি।


ইকবাল হোসেন ভূঞা শুধু একজন ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ নেতা নন  রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক অন্যান্য কার্যক্রমেও রয়েছে তাঁর ব্যাপক উপস্থিতি। তিনি তাঁর নিজের এলাকার মানুষের কাছে সূর্যসন্তান হিসেবে পরিচিত। কারণ আজ পর্যন্ত কোনো মানুষকে তিনি খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। যখন কেউ তাঁর কাছে কোনো সাহায্যের আবেদন নিয়ে আসেন তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার এই সৈনিক তাঁর নিজ সাধ্যের মধ্যে তা পূরণ করে দেন।


প্রচারবিমুখ এই নেতা কখনো তাঁর প্রচার করেননি, সব সময় পর্দার অন্তরালে থেকে করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চর্চা।


সব সময তিনি প্রচার থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন, অনেক নেতা যেখানে নিজেকে প্রচারে ব্যস্ত তিনি তখন এর ব্যতিক্রম। তিনি চুপচাপ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য কাজ করে চলতেন দিনরাত। বলতে গেলে ইকবাল হোসেন ভূঞা তাঁর নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে কাজ করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য।


বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জীবন্ত কিংবদন্তি এই নেতা বর্তমানেও ফরিদপুর ইউনিয়ন আব্দুল হামিদ ভূঞা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের একটানা ৬ বারের সফল সভাপতি। তাঁর সঠিক পরিচালনার কারণে বিদ্যালয়টি এখন উপজেলার শ্রেষ্ট বিদ্যাপীঠে পরিনত হয়েছে।


স্বনামধন্য এই নেতা রাজনীতির বাইরেও বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে আইন পেশায় জড়িত রয়েছেন। আইন পেশা হইতে উপার্জিত টাকার একটা বড় অংশ তিনি এলাকার অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন।


যার ফলে ভৈরব-কুলিয়ারচরসহ তৎকালীন বাংলাদশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা মনে করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আসছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে গুরত্বপূর্ণ পদে  সময়ের সাহসী, সংগ্রামী, তরুণ, মেধাবী, পরিক্ষীত জননেতা ইকবাল হোসেন ভূঞার মতো নেতার প্রয়োজন। তাই তারা আসছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়  কাউন্সিলে ইকবাল হোসেন ভূঞাকে আওয়ামী লীগের গুরত্বপূর্ণ পদে দেখতে চাই।

মন্তব্য

উপর