logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

মাত্র তিনদিন দুই সূর্যের গ্রহের খোঁজ দিল ১৭ বছরে কিশোর!


মাত্র তিনদিন দুই সূর্যের গ্রহের খোঁজ দিল ১৭ বছরে কিশোর!

এক বিস্ময় গ্রহের খোঁজ পেয়েছে নাসা। গ্রহটির রয়েছে দু’টি সূর্য। দু’জনকে সামনে রেখেই পাক খেয়ে চলেছে গ্রহটি। তার কক্ষপথ বাঁধা দুই সূর্যেরই সঙ্গে। আর এই গ্রহের খোঁজ যে দিয়েছে সে কোনো অভিজ্ঞ, নামী জ্যোতির্বিজ্ঞানী নয়। ১৭ বছরের এক কিশোর। নাসার গড্ডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে ইনটার্ন হিসেবে কাজ শুরু করেছিল মাত্র তিনদিন। তার মধ্যেই বিশ্বের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে এই কিশোর।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, উলফ কুকিয়ার নামের ওই কিশোর নিউইয়র্কের স্কার্সডেল হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্র। উলফ মেরিল্যান্ডে নাসার গড্ডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছে কয়েকদিন হল। গড্ডার্ডের ট্রানসিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইট (TESS) বা টেসের লেন্সে চোখ রেখে তার কাজ ছিল গ্রহ-নক্ষত্রের খোঁজ-খবর নিয়ে নোট করে রাখা। সেটা করতে গিয়েই পৃথিবী থেকে এক হাজার তিনশ আলোকবর্ষ দূরে এক অজানা গ্রহের সংসারে আড়ি পেতে ফেলেছে উলফ! টিওআই ১৩৩৮ সিস্টেমে এমন এক গ্রহের সন্ধান পেয়েছে উলফ যার একটা নয় দু’টো সূর্য। আর দু’জনকেই সমানভাবে খুশি করে চলছে এই গ্রহ।

উলফের কথায়, টিওআই ১৩৩৮ সিস্টেম থেকে আমি সিগন্যাল পেয়েছিলাম। এটা একটা বাইনারি সিস্টেম যেখানে একটা গ্রহের দুই সূর্য রয়েছে। বৃত্তাকার কক্ষপথে সেই গ্রহটি ঘুরে চলেছে তাদের কেন্দ্র করে।

নতুন খোঁজ পাওয়া এই গ্রহের নাম রাখা হয়েছে টিওআই ১৩৩৮বি। উলফ জানায়, এই গ্রহটির দুই সূর্যকে সম্পূর্ণ পরিক্রমা শেষ করতে সময় লাগে ৯৩ থেকে ৯৫ দিন। গ্রহটি পৃথিবীর থেকেও আকারে বড়। ভরও বেশি।

নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, দু’টি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা ভিন গ্রহগুলোকে বলা হয় ‘সারকাম-বাইনারি প্ল্যানেট’। তবে এই গ্রহটি তাদের সূর্যের চেয়ে রয়েছে অনেকটা দূরে। যাকে বলা হয় ‘হ্যাবিটেবল জোন’। যদিও এই গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা কম, সেটি গ্যাসে ভরা বলে। তবে এই গ্রহের যদি বড় কোনো চাঁদ থাকে, যদি তার সন্ধান মেলে কোনো দিন, তা হলে সেই চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। দুই সূর্যকে পাক মারে বলে এই গ্রহে সূর্যাস্ত হয় না।

এক্সো-প্ল্যানেটের (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) খোঁজে গত ২০ বছর ধরে কাজ করে চলেছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা। হাজার খানেক এমন গ্রহের সন্ধানও মিলেছিল। তবে ২০০৯ সালে কেপলার অভিযান শুরু হলে মাত্র চার বছরেই আরো সাড়ে তিন হাজার তেমন গ্রহের সন্ধান দিয়েছিল কেপলার। দিনকয়েক আগেই ‘টিওআই ৭০০ ডি’ নামে পৃথিবীরই যমজ এক নীল গ্রহের সন্ধান পেয়েছিল নাসার টেস। নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবোরেটরি ওই নতুন গ্রহের খোঁজ সামনে আনে।

মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানান, কেপলার মিশনের এতদিনের পুরনো পদ্ধতির বদলে ভিন গ্রহ খুঁজতে নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। নতুন এই টেকনিকের নাম ‘ট্রানসিট লিস্ট-স্কোয়ার্স সার্ভে।’  নাসার টেস টেলিস্কোপেও উন্নত পদ্ধতিতে গ্রহ-নক্ষত্রের অনুসন্ধান করা হয়। 

গবেষকদের দাবি, অনেক দ্রুত ও নিখুঁতভাবে ভিন গ্রহের খোঁজ দিতে পারে টেস টেলিস্কোপ। এরই মধ্যে নাসার ‘প্ল্যানেট-হান্ট’ মিশনে জানা গেছে, আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরে প্রায় হাজার চারেক গ্রহ ছড়িয়ে রয়েছে। যারা সবকটি পাক খাচ্ছে কোনো না কোনো নক্ষত্রের চারপাশে। এই গ্রহগুলোর মধ্যে ৯৬ শতাংশের আকার পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের সৌরমণ্ডলের মতোই মহাকাশে ছড়িয়ে রয়েছে এমন আরো সৌরমণ্ডল।

সূত্র: দ্য ওয়াল।

মন্তব্য

উপর