logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

যশোরের অদম্য লিতুন জিরার পাশে দাঁড়ালেন বসুন্ধরা গ্রুপ


যশোরের অদম্য লিতুন জিরার পাশে দাঁড়ালেন বসুন্ধরা গ্রুপ
বসুন্ধরার খাতাতেই আমি লিখি। বসুন্ধরার গ্রুপের নাম আমি শুনেছি। সেই বসুন্ধরা গ্রুপের স্যারেরা  ঢাকা থেকে আমার বাড়িতে এসে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমাকে পাঁচ লাখ টাকার চেক, স্কুল ব্যাগ, আমার পরিবারের সবার জন্য ম্যালা উপহার সামগ্রী দিয়েছেন। এর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের স্যারদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি খুবই খুশি,আমি আনন্দিত। এ দিনটি আমার জীবনে একটি স্মরনীয় দিন হয়ে থাকবে”-এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলো  মণিরামপুরের দুই হাত-দুই পা বিহীন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন প্রতিবন্ধী সেই শিশু লিতুন জিরা।

শনিবার দুপুরে লিতুন জিরার বাড়িতে গিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানবীর এর পক্ষে বসুন্ধরা  গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (হেড অব বাল্ক সেলস) মোঃ রেদোয়ানুর রহমান লিতুন জিরার হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক, স্কুল ব্যাগ ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন। এসময় বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাষ্ট্রি লিমিটেড ও বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রডাক্ট লিমিটেডের উইং ম্যানেজার মোঃ মাহবুবুর রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের বাল্ক সেলসের ডেপুটি ম্যানেজার মোঃ শহিদুল ইসলাম, ডিভিশনাল সেলস ইনচার্জ জিএম কামরুজ্জামান, এরিয়া সেলস ম্যানেজার মোঃ জাহিদুল ইসলাম, টেরিটরি সেলস এক্সিকিউটিভ মোঃ রঞ্জু সরকার উপস্থিত ছিলেন।  

পাঁচ লক্ষ টাকার চেক ও উপহার সামগ্রী তুলে দেয়ার সময় রেদোয়ানুর রহমান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে। বসুন্ধরা গ্রুপ  অসহায় প্রতিবন্ধীদের সেবা ও তাদের কল্যানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কাজ করছে। লিতুন জিরার পরিবার চাইলে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত সেসব প্রতিষ্ঠানে তাকে সংযুক্ত করা যেতে পারে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিতুন জিরাকে ভবিষ্যৎ লেখাপড়াসহ সকল দায়িত্ব নেওয়ার আবেদন করলে তা বসুন্ধরা গ্রুপের ম্যানেজম্যান্টের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা করা যাবে।  

লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যানে কাজ করে। বসুন্ধরা গ্রুপ আজ আমার বাড়িতে এসে পাঁচ লাখ টাকার চেকসহ যেসব উপহার সামগ্রী তুলে দিয়েছেন, আমার সন্তান ও আমার পরিবারের সাথে কথা বলেছেন, খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও আমরা চাইলে লিতুন জিরার জন্য সব কিছুর দায়িত্ব নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতেই প্রমান হয় বসুন্ধরা গ্রুপ দেশ ও মানুষের কল্যানে কাজ করে। আমি ও আমার পরিবার বসুন্ধরার কাছে ঋনি। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 
উল্লেখ্য, মণিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগমের মেয়ে লিতুন জিরা। দুই হাত-পা বিহীন অবস্থায় জন্ম নেয় সে। লিতুন জিরা স্থানীয় খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ২০১৯সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) অংশ নিয়ে জিপিএ-৫.০০ পাওয়ার গৌরব অর্জন করে । দৈনিক বিভিন্ন পত্রিকার  মাধ্যমে লিতুন জিরাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে  প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।  বর্তমানে লিতুন জিরা স্থানীয় গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। অদম্য মেধা আর ইচ্ছা শক্তি তার। হাত-পা না থাকায় মুখ দিয়ে লেখে সে। পড়ালেখায় সে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে শুধু ক্লাসে ফার্স্ট হয়নি,হয়েছে স্কুল ফার্স্টও। লেখাপড়া শিখে সমাজের অন্যদের মতো মানুষ হতে চায় লিতুন জিরা। সমাজের বোঝা কিংবা পরনির্ভরশীর নয়, আত্ম-নির্ভরশীল হতে চায় সে।
লিতুন জিরার সহপাঠি বান্ধবী মুন্নী আক্তার জানায়, লিতুন জিরা আমাদের ভালো বন্ধু।সে খুব মেধাবী। আমরা কোন কিছু না বুঝলে তার কাছ থেকে বুঝে নিই। আমরা ওর সাথে ভালো ব্যবহার করি। সেও আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। 
প্রতিবেশী শিক্ষক কায়ছেদ আলী বলেন, লিতুন জিরা অস্বাভাবিক শিশু হলেও তার মধ্যে রয়েছে অদম্য মেধা ও ইচ্ছা শক্তি। সকলের সাথে হেসে খেলে কথা বলে সে। পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
লিতুন জিরার প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন বলেন, লিতুন জিরা অসম্ভব মেধাবী, সে তার শ্রেণিতে শুধু প্রথম নয় স্কুলের মধ্যেও প্রথম ছিল সে। শুধু লেখাপড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও অন্যদের চেয়ে ভালো সে।

মন্তব্য

উপর