logo
Floating 2
Floating
শিরোনাম

ধামইরহাটে মন্দিরের জমি জবর দখল করে বসবাস, জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া


ধামইরহাটে মন্দিরের জমি জবর দখল করে বসবাস, জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নওগাঁর ধামইরহাটে দেবোত্তর সম্পত্তি নির্দয়া কালি মন্দিরের নামে ওয়াকফ হওয়া জমিতে বাড়ী নির্মান করে বসবাস করার অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, স্থানীয় হিন্দু নেতা প্রদীপ কুমার আগারওয়াল ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সুবিচার চেয়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও মন্দির ব্যবস্থাপনা কমিটি উর্ধতন মহলে অভিযোগ জানিয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিন্দু নেতা রামজনম রবিদাস তার নিজস্ব লোকজনদেরকে দেবোত্তর সম্পত্তিতে বাড়ী নির্মানে সহযোগিতা করেছেন। অভিযোগকারী নির্দয়া কালি মন্দির কমিটির সভাপতি রাজেন সাহা জানান,  ‘হিন্দু নেতা রামজনম রবিদাস, তার ছেলে রাজেন রবিদাস, চাচাত ভাই  সনদীপ রবিদাস ও ভাগিনা  দিলিপ রবিদাস এবং প্রতিবেশী বাবু ঠাকুর, বিমল কর্মকার, আরতি কর্মকার, পরেশপাল ও শরীফ মন্ডল চকযদু মৌজার জে,এল নং-  ১০৫, আর এস খতিয়ান ৩১৪ এ মোট ১.৫৭ একর সম্পত্তিতে স্থায়ী ভাবে বাড়ীঘর নির্মান করে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন, ২০১০ সালে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসে অভিযোগ করেও অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে অদ্যাবধি পর্যন্ত দখল করে রেখেছেন। আমরা এলাকাবাসী দেবোত্তর ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার লক্ষে জেলা প্রশাসক. নওগাঁ, উপজেলা পরিষদ, ইউএনও,সহকারী কমিশনার (ভূমি), ওসি ধামইরহাট ও নওগাঁ জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের অভিযোগ জানিয়েছি।’


মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা অভিযোগ করেন, হিন্দু নেতা নামের প্রভাব খাটিয়ে ও পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের ক্ষমতাবলে রামজনম রবিদাস যে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করবেন, আমরা তা আশা করিনি।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত সনদীপ রবিদাস মন্দিরের জায়গা দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি আজকে নয়, দীর্ঘদিন থেকেই তো এখানে বাড়ী ঘর নির্মান করে আছি, ছেড়ে  দিতে হলে আইনের মাধ্যমেই ছেড়ে দিব, কেউ জোর করলেই আমি ছাড়তে রাজি না, সবাই জমি ছাড়লে আমিও ছেড়ে  দিব।” অপর অভিযুক্ত ও হিন্দু নেতা পুজা উদযাপন পরিষদের  সম্পাদক রামজনম রবিদাস বলেন, “আমি বা আমার সন্তান কোন মন্দিরের সম্পত্তি জবর-দখল করিনাই, অভিযোগকারীগণই আমার বাড়ীতে এসে হুমকি দিয়ে গেছেন, আমিও থানায় ও উর্ধতন মহলে অভিযোগ দায়ের করেছি।


ধামইরহাট থানার ওসি শামীম হাসান সরদার বলেন, ‘নির্দয়া কালি মন্দিরে স্থানীয় চৌধুরী-জোতদারগণ ধর্মীয় আচারের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে জমিটি দান করেছেন বলেই কেউ তা দখল করে বাড়ী নির্মান করবে সেটা হতে পারে না, আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’


উপজেলা নির্বাহী অফিসার গনপতি রায় বলেন, ‘বিষয়টি অনেক দিনের পুরোনো ঘটনা, যা নিয়ে  স্থানীয় পৌরসভায় একাধিকবার দেন দরবার হয়েছিল শুনেছি, আমি থানা পুলিশকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’


স্থানীয়দের অভিযোগ, রামজনম রবিদাস নিজ স্বার্থ-সিদ্ধি হাসিল করার জন্য এমনকাজে ইন্ধন জুগিয়েছেন এবং প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে তার নির্মানকরা বাড়ীতেও মন্দিরের সম্পত্তি পাওয়া যাবে বলে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ খাটিয়েই এমন অনিয়মের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির জন্য জেলা পূজা উদযাপন  পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

মন্তব্য

উপর